আল্লাহর জবাব: হতাশ হৃদয়ের সকল অস্বস্তি এবং দুর্বলতার সমাধান হিসেবে পবিত্র কুরআন

মানব-সত্তা স্বভাবতই দুর্বলতা, সীমাবদ্ধতা ও অপূর্ণতার দ্বারা চিহ্নিত।তাহার জীবন-পথে নানা ধরনের দুঃখ-দুর্দশা, ব্যর্থতার গ্লানি, ব্যাধি ও অভাব-অভিযোগ আপতিত হয়। তখন মানুষ প্রায়শই হতাশ হইয়া পড়ে, স্বীয় দুর্বলতা ও ব্যর্থতার কথা স্মরণ করিয়া হতাশার তমসাচ্ছন্ন গহ্বরে নিমজ্জিত হয়। কেহ বলে, আমি ব্যর্থ! কেহ আবার ভাবে, আমাকে কেহ সাহায্য করে না। অথবা, তাহার হৃদয়ে দীর্ঘশ্বাসের রোদন জাগে যে, তাহার জীবন সুখবিবর্জিত।কিন্তু আল-কুরআনুল কারীমে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন অসংখ্য স্থানে মানুষকে সান্ত্বনা দিয়াছেন, তাহাদের ভয় ও হতাশার মেঘ দূর করিবার জন্য চিরন্তন 'হক্বের' (সত্যের) বাণী প্রকাশ করিয়াছেন। 

এই মহাগ্রন্থ আল-কুরআন হইতেছে মানুষের জন্য আলোক-বর্তিকা, দুঃখ-কষ্টে আশার নির্মল প্রদীপ, রোগ-ব্যাধিতে আরোগ্যের 'শিফা' (আরোগ্য) এবং তমসা-জীর্ণ পথে আলোর দিশা।আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআ'লা ঘোষণা করিতেছেন: ” قُلْ يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَىٰ أَنفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِن رَّحْمَةِ اللَّهِ ۚ إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا ۚ إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ “আল্লাহর রহমত হইতে তোমরা নিরাশ হইও না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করিয়া দিবেন। নিশ্চয়ই তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (সূরা আয-যুমার: আয়াত ৫৩)এই আয়াতে আল্লাহ্‌র অপার করুণা (রহমত) ও ক্ষমাশীলতার উপর জোর দেওয়া হইয়াছে, যাহা মুমিনের জন্য সকল হতাশার ঊর্ধ্বে আস্থা ও ভরসার সুদৃঢ় কেন্দ্র।

আমি বলিলাম, ‘আমি ব্যর্থ।’

প্রত্যেক মানবের জীবনেই এমন একটি ক্ষণ আসে, যখন সে আত্মগ্লানিতে নিমজ্জিত হইয়া নিজেকে ব্যর্থ মনে করে। পরীক্ষায় প্রতিকূল ফল, প্রতিযোগিতায় অসাফল্য, ব্যবসায়িক ক্ষতি কিংবা কোনো মহৎ পরিকল্পনার ভঙ্গুরতা—এই সকলই মানুষের মনে সৃষ্টি করে এক গভীর নৈরাশ্য। অথচ, আল্লাহ্ তা’আলা পবিত্র কালামে সুস্পষ্ট ঘোষণা করিয়াছেন:قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُونَ

(উচ্চারণ: ক্বাদ আফ্‌লাহাল মু’মিনূন) নিশ্চয়ই মু’মিনগণ সফলকাম। (সূরা আল-মু’মিনূন: আয়াত ১)

অর্থাৎ, জাগতিক বস্তুগত অর্জনই প্রকৃত সফলতা নহে, বরং ঈমান, সৎ-আমল এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের মধ্যেই সেই পরম সাফল্য নিহিত। যে সত্তা আল্লাহর উপর অবিচল বিশ্বাস স্থাপন করে, সে কখনও ব্যর্থ হইতে পারে না। হয়তো মর্ত্যের দৃষ্টিতে সে ক্ষণিকের জন্য পিছাইয়া আছে, কিন্তু আখিরাতের (পরকালের) নিরিখে সেই-ই প্রকৃত বিজয়ী।

আমি বলিলাম, ‘আমার জীবনে কেবলই কষ্ট!’

জীবন-স্রোত দুঃখ-কষ্টের সহিত এক নিরন্তর সংগ্রাম। ব্যাধি, দারিদ্র্য, মানসিক উদ্বেগ, পারিবারিক জটিলতা—এই সকলই জীবনের অনিবার্য অংশ। তখন মানুষ মনে করে, তাহার জীবন কেবল যন্ত্রণার বেড়াজালে আবদ্ধ। এইরূপ গভীর বেদনার মুহূর্তে হযরত ইয়াকুব (আলাইহিস সালাম)-এর পবিত্র উক্তি স্মরণে আসে, যখন তিনি নিজ সন্তানের শোকে আকুল হইয়াছিলেন। তিনি ঘোষণা করিয়াছিলেন: قَالَ إِنَّمَا أَشْكُو بَثِّي وَحُزْنِي إِلَى اللَّهِ وَأَعْلَمُ مِنَ اللَّهِ مَا لَا تَعْلَمُونَ (উচ্চারণ: ক্ব-লা ইন্নামা- আশকূ বাছছী ওয়া হুযনী ইলাল্লা-হি ওয়া আ'লামু মিনাল্লা-হি মা- লা- তা'লামূন)তিনি বলিলেন, ‘আমি আমার দুঃখ ও অস্থিরতা কেবল আল্লাহর নিকটই নিবেদন করিতেছি এবং আল্লাহর পক্ষ হইতে আমি যাহা জানি, তাহা তোমরা জান না।’ (সূরা ইউসুফ: আয়াত ৮৬)অর্থাৎ, মানুষ আপন ব্যথা ও যাতনা অন্যের নিকট প্রকাশ না করিয়া, সরাসরি সর্বশক্তিমান আল্লাহর নিকটই নিবেদন করিবে। কেননা তিনিই একমাত্র সত্তা, যিনি সকল কষ্টের উপশম করিতে সক্ষম।কিন্তূ আল্লাহ্ তা’আলা আরও সান্ত্বনা দিয়াছেন: فَإِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا (উচ্চারণ: ফাইন্না মা'আল 'উসরি ইউসরা) অতএব, নিশ্চয়ই কষ্টের সাথে স্বস্তি রহিয়াছে। (সূরা আল-ইনশিরাহ: আয়াত ৬)এই ঐশী বাণী আমাদিগকে শিক্ষা দেয় যে, দুঃখ কখনও চিরস্থায়ী হয় না। কষ্টের ঘোর কাটিবার পরই আল্লাহ্ স্বস্তি দান করেন, বিষাদের সহিত আনন্দ মিশ্রিত করিয়া দেন। জীবনের প্রতিটি সংকটের অভ্যন্তরেই ভবিষ্যতের সহজতার বীজ লুক্কায়িত থাকে।

আমি বলিলাম, ‘আমাকে কেহ সাহায্য করে না!’

মানব যখন একাকীত্বে নিষ্পেষিত হয়, যখন নিকটতম ব্যক্তিটিও সাহায্য করিতে বিফল হয়, তখন গভীর হতাশা তাহাকে গ্রাস করে। কিন্তু আল্লাহ্ তা’আলা এই মর্মে প্রতিশ্রুতি দিয়াছেন:وَكَانَ حَقًّا عَلَيْنَا نَصْرُ الْمُؤْمِنِينَ

(উচ্চারণ: ওয়া কা-না হাক্কান 'আলাইনা নাসরুল মু'মিনীন) আর মু’মিনদের সাহায্য করা আমারই কর্তব্য। (সূরা আর-রূম: আয়াত ৪৭)

এই প্রতিশ্রুতি বিশ্বাসীর হৃদয়ে এক দুর্জয় দৃঢ়তা সঞ্চার করে। মানুষ যদি ত্যাগও করে, তবুও আল্লাহ্ কখনও ত্যাগ করেন না। তাঁহার সাহায্য অদৃশ্যভাবে আসিয়া পৌঁছায়—কখনও কোনো মানুষের মাধ্যমে, কখনও পরিস্থিতির নাটকীয় পরিবর্তনের মধ্য দিয়া, কখনও বা অন্তরে অনির্বচনীয় প্রশান্তি দানের মাধ্যমে।

আমি বলিলাম, ‘আমার রূপ কুৎসিত!’

এই সমাজে অনেকে আপন বাহ্যিক অবয়ব লইয়া হতাশায় ভোগে। কাহারও গায়ের বর্ণ মলিন, কাহারও দেহ গঠন হয়তো অন্যের তুলনায় অনাদৃত। তখন হৃদয়ে প্রশ্ন জাগে, আমি কি কুৎসিত? আল্লাহ্ তা’আলা ঘোষণা করিয়াছেন:لَقَدْ خَلَقْنَا الْإِنسَانَ فِي أَحْسَنِ تَقْوِيمٍ

(উচ্চারণ: লাক্বাদ খালাক্বনা-ল ইনসা-না ফী আহসানি তাক্ববীম) নিশ্চয়ই আমি মানুষকে সৃষ্টি করিয়াছি সুন্দরতম অবয়বে। (সূরা আত-তীন: আয়াত ৪)

মানবের সৌন্দর্য কেবলই বাহ্যিক নহে; বরং তাহার অন্তরের জ্যোতি, চরিত্রের পবিত্রতা এবং ঈমানের দীপ্তিই হইল আসল শোভা। আল্লাহ্ কাহাকেও অপূর্ণ বা কুৎসিত রূপে সৃষ্টি করেন নাই, বরং প্রত্যেককে তিনি তাঁহার নিখুঁত পরিকল্পনার দ্বারা সুসজ্জিত করিয়াছেন।

আমি বলিলাম, ‘আমার কেহ নাই!’

মানব যখন একাকীত্বে আকুল হয়, তখন তাহার মনে হয়—এই পৃথিবীতে তাহার কোনো আশ্রয় নাই। আল্লাহ্ তা’আলা মুমিনকে সম্বোধন করিয়াছেন:لَا تَخَافَا إِنَّنِي مَعَكُمَا أَسْمَعُ وَأَرَىٰ

(উচ্চারণ: লা- তাখা-ফা- ইন্নানী মা'কুমা- আসমা'উ ওয়া আরা-) ভয় করিও না, নিশ্চয়ই আমি তোমাদের সহিত আছি, আমি শুনি এবং দেখি। (সূরা ত্বা-হা: আয়াত ৪৬)

এই আয়াতের মর্মবাণী একাকী মানুষকে জানায় যে—তুমি কখনও একা নও। তোমার রব সর্বক্ষণ তোমার সহযাত্রী, তোমার ক্রন্দন তিনি শোনেন, তোমার দুঃখ তিনি অবগত।

আমি বলিলাম, ‘আমার পাপের ভার অতিশয় বেশি!’

পাপাচরণের পর মানুষের মনে এই সংশয় জাগে, আল্লাহ্ বুঝি আর তাহাকে ক্ষমা করিবেন না। অথচ আল্লাহ্ ঘোষণা করেন:إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ

(উচ্চারণ: ইন্নাল্লা-হা ইউহিব্বুত্ তাওয়্ওয়া-বীন) নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তওবাকারীদের ভালোবাসেন। (সূরা আল-বাক্বারাহ: আয়াত ২২২)

অর্থাৎ, তুমি যত পাপই সঞ্চয় করো না কেন, আল্লাহর তওবার দ্বার কখনও রুদ্ধ হয় না। আন্তরিক অনুশোচনার সহিত তওবা (ক্ষমাপ্রার্থনা) করিলে আল্লাহ্ কেবল ক্ষমাই করেন না, বরং আপন ভালোবাসাও দান করেন।

আমি বলিলাম, ‘আমি সর্বদা রোগাক্রান্ত থাকি!’

ব্যাধি মানুষকে দুর্বল করিয়া দেয়। দীর্ঘকালব্যাপী অসুস্থতা কাহাকেও ক্লান্ত ও অবসন্ন করিয়া তোলে। কিন্তূ আল্লাহ্ তা’আলার বাণী:وَنُنَزِّلُ مِنَ الْقُرْآنِ مَا هُوَ شِفَاءٌ وَرَحْمَةٌ لِّلْمُؤْمِنِينَ

(উচ্চারণ: ওয়া নুন্যাযযিলু মিনাল ক্বুরআ-নি মা- হুয়া শিফা-উঁ ওয়া রাহমাতুল লিলমু’মিনীন) আর আমি অবতীর্ণ করিয়াছি কুরআন, যাহা মু’মিনদের জন্য আরোগ্য ও রহমত। (সূরা বনী ইসরাঈল: আয়াত ৮২)

এইখানে কেবল শারীরিক রোগ নহে, বরং মানসিক ও আত্মিক ব্যাধির নিরাময়ও বুঝানো হইয়াছে। কুরআনের আয়াতের শান্তি, তিলাওয়াতের প্রশান্তি এবং আধ্যাত্মিক শক্তি রোগীর অন্তরে এক স্বর্গীয় সান্ত্বনা আনিয়া দেয়।

আমি বলিলাম, ‘এই ধরায় কেহ ভালোবাসে না আমায়!’

যখন কোনো ব্যক্তি উপলব্ধি করে যে, দুনিয়ার মানুষ ক্রমশ তাহার নিকট হইতে দূরে সরিয়া যাইতেছে, তখন সে ভাবে, কেহ তাহাকে ভালোবাসে না। কিন্তূ আল্লাহ্ তা’আলা আশ্বস্ত করেন:وَلَلْآخِرَةُ خَيْرٌ لَّكَ مِنَ الْأُولَىٰ

(উচ্চারণ: ওয়ালাল আ-খিরাতু খাইরুল লাকা মিনাল ঊলা-) আর তোমার জন্য পরকাল ইহকালের চেয়ে উত্তম। (সূরা আদ-দুহা: আয়াত ৪)

অর্থাৎ, পার্থিব মানবের প্রেম ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু আখিরাতের প্রতিদান চিরন্তন। আল্লাহর প্রেম ও প্রীতিই হইল প্রকৃত ও শাশ্বত ভালোবাসা।

আমি বলিলাম, ‘বিজয় তো বহুদূরে!’

সংগ্রামের পথে যখন জয়লাভ বিলম্বিত হয়, তখন মানব হৃদয়ে নৈরাশ্য ভর করে। কিন্তু আল্লাহ্ তা’আলা ঘোষণা করেন: أَلَا إِنَّ نَصْرَ اللَّهِ قَرِيبٌ

(উচ্চারণ: আলা- ইন্না নাসরাল্লা-হি ক্বারীব) জানিও, নিশ্চয়ই আল্লাহর সাহায্য নিকটবর্তী। (সূরা আল-বাক্বারাহ: আয়াত ২১৪)

অর্থাৎ, বিজয় হঠাৎ করিয়াই আসিতে পারে। কেবল ধৈর্যধারণ করিতে হয় এবং ঈমানকে দৃঢ় রাখিতে হয়। আল্লাহর অমোঘ সাহায্য সর্বদা আমাদের সন্নিকটে বিরাজমান।

আমি বলিলাম, ‘আমার আনন্দ নাই!’

অনেকে আক্ষেপ করিয়া বলে, তাহাদের জীবনে কোনো প্রকৃত সুখ নাই। আল্লাহ্ তা’আলা শুভ সংবাদ দিয়াছেন: وَلَسَوْفَ يُعْطِيكَ رَبُّكَ فَتَرْضَىٰ

(উচ্চারণ: ওয়া লাসাওফা ইউ'ত্বীকা রব্বুকা ফাতারদ্বোয়া-) শীঘ্রই তোমার রব তোমাকে এমন কিছু দিবেন যে, তুমি সন্তুষ্ট হইয়া যাইবে। (সূরা আদ-দুহা: আয়াত ৫)

এই আয়াত জীবনে এক নতুন আশার আলোকবর্তিকা জ্বালাইয়া দেয়। আজিকার দুঃখ হয়তো আগামী দিনের অপার আনন্দের পথ উন্মোচন করিবে।

আমি বলিলাম, ‘আমি সর্বদাই হতাশ!’

হতাশা মানুষকে ভাঙ্গিয়া দেয়, কর্মে নিরুৎসাহিত করে। কিন্তু আল্লাহ্ তা’আলার নির্দেশ: وَلَا تَهِنُوا وَلَا تَحْزَنُوا وَأَنتُمُ الْأَعْلَوْنَ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ

(উচ্চারণ: ওয়া লা- তাহিনূ ওয়া লা- তাহযানূ ওয়া আন্তুমুল আ'লাওনা ইন কুনতুম মু'মিনীন) আর তোমরা হীনবল হইও না, দুঃখও করিও না। যদি তোমরা মু’মিন হও, তবে তোমরাই বিজয়ী হইবে। (সূরা আলে ইমরান: আয়াত ১৩৯)

এই আয়াত হতাশাকে দুর্জয় আশায় রূপান্তরিত করে। বিজয়ের অঙ্গীকার কেবল সেই বিশ্বাসীদের জন্য, যাহারা কখনও হাল ছাড়েন না।

আমি বলিলাম, ‘আমার পরিকল্পনা সফল হইতেছে না!’

মানুষ আপন বুদ্ধিবলে পরিকল্পনা করে, কিন্তু অনেক সময় তাহা ভাঙ্গিয়া যায়। আল্লাহ্ তা’আলা মহিমান্বিত ঘোষণা: وَاللَّهُ خَيْرُ الْمَاكِرِينَ

(উচ্চারণ: ওয়াল্লা-হু খাইরুল মা-কিরীন) আর আল্লাহ্ই সর্বোত্তম পরিকল্পনাকারী। (সূরা আলে ইমরান: আয়াত ৫৪)

অর্থাৎ, মানবের পরিকল্পনা সীমিত ও ত্রুটিপূর্ণ, কিন্তু আল্লাহর পরিকল্পনা নিখুঁত ও অব্যর্থ। তিনি জানেন কী আমাদের জন্য মঙ্গলজনক। তাই ব্যর্থ পরিকল্পনার অন্তরালেও আল্লাহর রহস্যময় কল্যাণ ও প্রজ্ঞা লুক্কায়িত থাকে।

উপসংহার:

মানব যতই অভিযোগ উত্থাপন করুক, যতই নৈরাশ্যগ্রস্ত হউক, পবিত্র কুরআন তাহার প্রতিটি জিজ্ঞাসার জবাব দেয়। ব্যর্থতার বিপরীতে সে দেয় সফলতার প্রতিশ্রুতি, কষ্টের বিপরীতে দেয় স্বস্তির সুসংবাদ, একাকীত্বের বিপরীতে দেয় সঙ্গের সুনিশ্চয়তা, আর হতাশার বিপরীতে দেয় অফুরন্ত আশার আলো। কুরআন কোনো শুষ্ক শাস্ত্রগ্রন্থ নহে, বরং জীবনের প্রতিটি দুঃখ-কষ্টে মানবের অন্তরের গভীরে যে প্রশ্নাবলী জাগে, তাহার সঠিক উত্তর ইহাতে মওজুদ (বিদ্যমান) আছে। এই কারণেই বলা যায়, কুরআন মু’মিনের জীবনের দিকনির্দেশিকা, নিদারুণ সময়ে সান্ত্বনার উৎস এবং পরম সফলতার মানচিত্র। এই মহতী বার্তা আমাদিগকে এক মৌলিক শিক্ষা দান করে যে—যখন আমরা দুঃখ-কষ্টের সাগরে নিমজ্জিত হই, তখন আমাদের প্রথম ও প্রধান কর্তব্য হওয়া উচিত কুরআনের পবিত্র আলোর দিকে প্রত্যাবর্তন করা। কারণ, সেইখানেই রহিয়াছে আল্লাহর পক্ষ হইতে অসীম সান্ত্বনা, আশা এবং নির্ভুল দিকনির্দেশনা।

Related Posts

Leave A Comment

Voting Poll

Get Newsletter