গাজা আবার অকাম্য স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরল

ফিলিস্তিনের গাজা প্রান্তে আবার তার প্রাত্যহিক স্বাভাবিক চিত্র ভেসে উঠেছে। হয়তো নির্মম বিশ্ব এতে আনন্দিত। নিহিত দেহের ক্ষত বিক্ষত আহত অংশ ছত্র ছত্র। বাচ্চা, মহিলা, বৃদ্ধ ও সাধারণ সকলই গ্রস্ত। গাজা বাসীর জন্য এসব দৃশ্য সারা দুনিয়ার কাছে সাধারণ মাত্রই। গাজায় কিছু ব্যতিক্রম, কিছু অসাধারণ ফিরে আসার উদ্যোগী ও প্রত্যাশী কেবল জনসাধারণ। বিশ্বশক্তি সমূহ একি প্রতারণায় বিশ্ববাসীকে ফেলে রেখেছে? 

এসব সভ্যতা নয়, আসল বর্বতা। পাঠ্যবইয়ে যে সব মানবিকতা, সাম্য, ও ন্যায়পরায়ণতার কথা লেখা আছে তা ঘোড় মিথ্যা, সব ছল; নৃশংস কার্কশ্য স্বাভাবিক করার প্রচারণ পদ্ধতি। এবং হিংস্রতাকে ন্যায্যতা প্রতিপাদন করার কৌশল। বিখ্যাত দার্শনিক নোম চমস্কির অভিমতে অত্যাচারই তখন অধিনিয়ম। 

আশার মরীচিকা

গাজায় কিছু দিন অবশ্যই অস্বাভাবিক অবস্থা বিরাজমান ছিল। যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর বিধ্বস্ত পৃথিবী নিয়েই গাজাবাসী জীবনের আশা দেখতে শুরু করে। পুনঃনির্মাণের স্বপ্ন দেখে তারা। বন্দীদের হাত পরিবর্তন হয়। তখনই স্পষ্ট হয়ে উঠে মানবিকতা বনাম আমনবিকতার দৃশ্য। প্রমাণ-রশিদ স্বয়ং কয়েদিদের হাল। 

রমজানের অবস্থা গাজাবাসীর জন্য কিছু অস্বাভাবিক নয়, সারা বছর তারা এমনই খাওয়া-দাওয়ার সময়সূচিতে অভ্যস্ত। তবে কিন্তু এই মাসে ঐশ্বরিক আবেগে উৎফুল্ল হয়ে উঠে বিধ্বস্ত গাজার আকাশ ও আবহাওয়া। ভাঙ্গা শেয়ার-টেবিল ও স্তূপ জমানো আঙিনায় সংঘঠিত হয় সমূহ ইফতার আয়োজন। মা-বাবা ও পরিবার স্বজন হারা বালিকাও ঘন পর্বের বীভৎস ইতিহাস ভুলে হাসতে শুরু করে। বোমা আক্রমনে ধ্বংসপ্রাপ্ত মসজিদেই হয় তারাবীহ নামায। দুঃখ, কষ্ট ক্লান্তি ও সমগ্র সেকায়াত মধুর আর্তনাদের মধ্যে দূর হয়ে যায়। এবার এক বিনীত আনন্দে সেহরি তারা বসেছিল। 

কেও আশা করেনি সূর্যাস্তের পূর্বেই ইসরাইল অকপটে সন্ধি ভেঙে উড়িয়ে দিবে সেহরীর থালা।

আবার সেই অবাঞ্ছিত অবস্থায়

গাজায় ইসরায়েলের ব্যাপক আক্রমণের সঙ্গে ১৯ জানুয়ারী থেকে শুরু হওয়া প্রায় দুই মাস ধরে চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি বাতিল হয়ে যায়। কমপক্ষে ৪০৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৫৬২ জন আহত হয়, যাদের বড়ো অংশ শিশু ও মহিলা।

বোঝা যাচ্ছে ইসরায়েলি ঔপনিবেশিক শক্তি বিভিন্ন সাম্রাজ্যবাদী দেশের অঘোষিত অনুমতিতে ফিলিস্তিনিদের জীবন ধ্বংস করছে। গাজার জনগোষ্ঠীকে প্রকাশ্যে উৎখাত করা হচ্ছে, তা অলক্ষিত থাকবে না। ইতিহাস এর বিচার করবে এবং আধুনিকতার বর্তমান হতাশা ভুলবে না।

অন্যদিকে, বর্তমান ইসরায়েলি সরকার কিছু নির্বাচনী লাভ এবং ক্ষমতা বজায় রাখার জন্য পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটাচ্ছে। ইসরায়েলের রাজনৈতিক পরিবেশে একটি গুরুতর অস্থিরতা দেখা দিয়েছে যা নেতানিয়াহু ফিলিস্তিনিদের শত্রু-গোষ্ঠীর আকার দিয়ে সকলকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।

লক্ষ লক্ষ জনসংখ্যার অস্তিত্ব যখন হুমকির মুখে, তখন এই ব্যবস্থা কীভাবে মানবতাবাদী হতে পারে? প্রকৃতপক্ষে, এটি বিশ্বাসঘাতক মিথ্যার মরীচিকা যেখানে ক্ষমতার গতিশীলতা বিচার ও ন্যায়বিচারের গতিপথ পরিবর্তন করছে।

অবশ্যই, বিশ্ব শিখছে। তারা মানবতার জন্য বর্বরতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে, যদিও তারা সংখ্যায় কম এবং দুর্বল। একদিন, অন্যায়ের দুর্গ উপনিবেশবাদের মতোই ভেঙে পড়বে। তবে, নব্য সাম্রাজ্যবাদের আবির্ভাবের সাথে সাথে, মানুষের বাস্তবতার প্রতি আরও বেশি মনোযোগী হওয়া উচিত কারণ আজকের অভিধানে নিপীড়িতকে নিপীড়ক এবং এর বিপরীত হিসেবে একটি ন্যারেটিভ তৈরি করা হচ্ছে যা আসল বিচার এড়িয়ে যায়; মানবতা হারিয়ে যায়।

Related Posts

Leave A Comment

Voting Poll

Get Newsletter