ড. মুনকির হোসাইন (রহ.): বিজ্ঞান, সুফিবাদ ও মানবসেবার আলোকিত উত্তরাধিকার

গ্রামীণ বীরভূম জেলার ভিমপুর গ্রাম—পাগলা নদীর শান্ত তীরে অবস্থিত এক দরিদ্র কৃষক পরিবারে জন্ম নেন এমন এক মানুষ, যাঁর জীবন বিজ্ঞান, আধ্যাত্মিকতা ও সামাজিক রূপান্তরের মধ্যে এক অনন্য সেতুবন্ধন সৃষ্টি করে। ড. মুহাম্মদ মুনকির হোসাইন (২০ সেপ্টেম্বর ১৯৫৪ – ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫) ছিলেন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এক বিজ্ঞানমনস্ক সুফি সাধক, গভীর চিন্তাশীল দার্শনিক এবং নিবেদিত সমাজসংস্কারক।

রসায়ন বিষয়ে গবেষণায় উচ্চতম ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি জাপান ও তাইওয়ানের শীর্ষস্থানীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন কাজ করেন। তাঁর গবেষণালব্ধ চিন্তা ও উদ্ভাবন পঞ্চাশটিরও বেশি আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়, যা তাঁকে বৈশ্বিক বৈজ্ঞানিক পরিমণ্ডলে সুপ্রতিষ্ঠিত করে। তবে বৈজ্ঞানিক সাফল্যের উচ্চ শিখরে থেকেও তাঁর ঈমান ও আমলের দৃঢ়তায় কোনো শৈথিল্য আসেনি। প্রাতিষ্ঠানিক দ্বীনি শিক্ষা গ্রহণ না করেও তিনি সফরের মধ্যেই নামাজ আদায় করতেন এবং জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত নিয়মিত নফল রোজা পালনে অবিচল ছিলেন।

তাঁর জীবনের সবচেয়ে সুদূরপ্রসারী অবদান ছিল দারুল হুদা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা অফ-ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠা। এ মহান উদ্দেশ্যে তিনি নিজ গ্রামের জমি থেকে তেষট্টি একর ভূমি দান করেন, যার মাধ্যমে দরিদ্র মুসলিম সমাজের জন্য উচ্চশিক্ষার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়। তাঁর চিন্তা, ত্যাগ ও মানবসেবামূলক কর্মধারা আজও বাংলার মানবিক ইতিহাসে এক উজ্জ্বল ও অনুপ্রেরণাময় অধ্যায় হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছে।

শৈশব আত্মগঠনের শুরু

ড. মুহাম্মদ মুনকির হোসাইনের জন্ম ২০ সেপ্টেম্বর ১৯৫৪ সালে, পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার খুতাইল গ্রামে। তাঁর পিতা ছিলেন একজন দরিদ্র কৃষক। জন্মের কিছু সময় পর থেকেই তিনি মাতামহের সঙ্গে ভিমপুর গ্রামে বসবাস শুরু করেন, যা পাগলা নদীর তীরে অবস্থিত। শৈশবের এই সময়টি কেটেছে অর্থনৈতিক সংকট, কৃষিভিত্তিক জীবনযাপন ও সীমিত শিক্ষাসুবিধার মধ্যে। এই বাস্তব অভিজ্ঞতাই তাঁর ব্যক্তিত্বে ধৈর্য, সংযম এবং আল্লাহর ওপর পূর্ণ নির্ভরতার চর্চা গড়ে তোলে।

১৯৬০ সালে ভিমপুর প্রাইমারি স্কুলে তাঁর প্রাথমিক শিক্ষার সূচনা হয়। সেখানে তিনি পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত অধ্যয়ন করেন। পরবর্তীতে তিনি নায়াগ্রাম ওয়াই.এম. জুনিয়র হাই স্কুলে ভর্তি হন এবং সেখান থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা গ্রহণ করেন। এরপর তিনি পাইকার হাই স্কুলে স্থানান্তরিত হন এবং সেখান থেকেই মাধ্যমিক পরীক্ষা উত্তীর্ণ হন।

শৈশব ও কৈশোরকালেই তাঁর মধ্যে নীরব স্বভাব, দীর্ঘ সময় একাগ্রচিত্তে অধ্যয়ন করার অভ্যাস এবং প্রশ্নমুখর চিন্তাধারার প্রকাশ ঘটে। এই সময়ের অভিজ্ঞতা ও মানসিক গঠনই পরবর্তীকালে তাঁর বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান ও সুফিবাদী আত্মশুদ্ধির পথকে সুসংহত করে তোলে।

ইলম ঈমানের সমন্বয়ে শিক্ষাজীবন

মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করার পর ড. মুহাম্মদ মুনকির হোসাইন উচ্চশিক্ষার জন্য ভর্তি হন বীরভূম জেলার হেতমপুরে অবস্থিত কৃষ্ণচন্দ্র কলেজে। সেখান থেকে তিনি রসায়ন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে ১৯৭৯ সালে তিনি বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। এই সময়েই তাঁর মধ্যে গবেষণামুখী চিন্তাধারা ও বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানের প্রবণতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

স্নাতকোত্তর শেষে তিনি অধ্যাপক ড. আর. এল. দত্তের তত্ত্বাবধানে রসায়ন বিষয়ে গবেষণায় আত্মনিয়োগ করেন এবং সফলভাবে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। এই গবেষণাপর্বে তাঁর জীবন যেন কুরআনের সেই ঘোষণার বাস্তব প্রতিফলন হয়ে ওঠে—

يَرْفَعِ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنكُمْ وَالَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ دَرَجَاتٍ

(সূরা আল-মুজাদিলা, আয়াত ১১)

“আল্লাহ তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদের জ্ঞান দান করা হয়েছে—তাদের মর্যাদা বহু স্তরে উন্নীত করেন।”

ড. মুনকির হোসাইন দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন, ইলম যদি ঈমান ও আত্মশুদ্ধি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়, তবে তা মানুষকে প্রকৃত পূর্ণতায় পৌঁছাতে পারে না। তাঁর কাছে জ্ঞান ছিল আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের এক গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

আন্তর্জাতিক গবেষণা বিনয়ের অনুশীলন

উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করার পর ড. মুহাম্মদ মুনকির হোসাইন কর্মজীবন শুরু করেন শিক্ষকতার মাধ্যমে। প্রথমে তিনি বীরভূম জেলার মুরারাইয়ে অবস্থিত Kazi Nazrul College-এ শিক্ষকতা করেন। পরবর্তীতে তিনি মালদহ জেলার Sujapur High Madrasah-এ অধ্যাপনার দায়িত্ব পালন করেন, যেখানে বিজ্ঞান শিক্ষাকে শৃঙ্খলা ও নৈতিকতার সঙ্গে যুক্ত করার প্রয়াস ছিল তাঁর শিক্ষাদর্শনের মূল লক্ষ্য।

শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি সক্রিয়ভাবে গবেষণাক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। গবেষণার প্রয়োজনে তিনি কাজ করেন CSIR, Burdwan, IIT Bombay, National Tsing Hua University, Taiwan, Osaka University, Japan এবং Academia Sinica, Taipei-তে।

১৯৯৭ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত তিনি পোস্ট-ডক্টরাল গবেষক ও গবেষণা সহযোগী হিসেবে এসব প্রতিষ্ঠানে যুক্ত থেকে নিরবচ্ছিন্ন গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এই দীর্ঘ সময়কালে তাঁর গবেষণা ত্রিশটিরও বেশি আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকীতে প্রকাশিত হয় এবং মোট প্রকাশিত গবেষণাপত্রের সংখ্যা পঞ্চাশেরও বেশি।

তবে এই আন্তর্জাতিক গবেষণা-সাফল্য তাঁর ব্যক্তিত্বে কোনো অহংকার সৃষ্টি করেনি। বরং প্রতিটি অর্জনের সঙ্গে তাঁর বিনয় ও আত্মসংযম আরও গভীর হয়েছে। এই বিনয়ের মূল উৎস ছিল তাঁর সুফিবাদী আত্মশুদ্ধির দর্শন, যেখানে জ্ঞানকে আত্মপ্রকাশের মাধ্যম নয়, বরং আল্লাহর আমানত হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

সুফিবাদ আত্মশুদ্ধির পথ

ড. মুহাম্মদ মুনকির হোসাইনের সুফিবাদ ছিল কখনোই প্রদর্শনমূলক বা আনুষ্ঠানিক নয়; বরং তা ছিল গভীর আত্মশুদ্ধিকেন্দ্রিক সাধনার পথ। তাঁর জীবনের দর্শনকে সবচেয়ে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত করে কুরআনের এই ঘোষণা—

قَدْ أَفْلَحَ مَن زَكَّاهَا

(সূরা আশ-শামস, আয়াত ৯)

“নিশ্চয়ই সে সফল, যে নিজের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করেছে।”

এই আয়াতের মর্মার্থ তাঁর দৈনন্দিন জীবনে প্রত্যক্ষভাবে প্রতিফলিত হতো। তিনি নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতেন—দেশে বা বিদেশে, ভ্রমণ কিংবা গবেষণার চাপ যাই থাকুক না কেন। একই সঙ্গে তিনি সারা বছর নফল রোজা পালনে অভ্যস্ত ছিলেন; কেবল শরিয়তসম্মতভাবে নিষিদ্ধ দিনগুলো ছাড়া তিনি রোজা পরিত্যাগ করতেন না।

ড. মুনকির হোসাইনের কাছে সুফিবাদ মানে ছিল না সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া বা নির্জন সাধনায় নিজেকে সীমাবদ্ধ করা। বরং তাঁর বিশ্বাস ছিল—নফসকে নিয়ন্ত্রণ, অহংকারকে দমন এবং নিজের ইলম ও শ্রমকে মানুষের কল্যাণে নিয়োজিত করাই প্রকৃত সুফিবাদ। এই আত্মশুদ্ধির দর্শনই তাঁকে একজন বিনয়ী বিজ্ঞানী এবং দায়বদ্ধ সমাজসেবকে রূপান্তরিত করেছিল।

নীরব নেতৃত্ব খাঁটি নিয়ত

ড. মুহাম্মদ মুনকির হোসাইনের জীবনের অন্যতম বিস্ময়কর দিক ছিল তাঁর নীরব নেতৃত্ব। তিনি কখনোই নিজের কাজ, ত্যাগ বা অবদান প্রচারের চেষ্টা করেননি। আত্মপ্রচার থেকে দূরে থাকা ছিল তাঁর সচেতন নৈতিক অবস্থান। এর পেছনে ছিল রাসুলুল্লাহ -এর একটি মৌলিক শিক্ষার প্রতি তাঁর গভীর বিশ্বাস—

إِنَّمَا الْأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ

(সহিহ বুখারি, হাদিস: ১)

“নিশ্চয়ই সব কাজ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল।”

এই হাদিস তাঁর চিন্তা ও কর্মজীবনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছিল। তিনি বিশ্বাস করতেন, কাজের বাহ্যিক আকার বা মানুষের প্রশংসা নয়—বরং আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যই একটি কাজকে অর্থবহ করে তোলে। এই ইখলাসই তাঁকে বড় বড় দান, শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান গঠন এবং দীর্ঘমেয়াদি মানবকল্যাণমূলক প্রকল্পে নেতৃত্ব দিতে প্রেরণা জুগিয়েছে, অথচ এসবের কোনো প্রচার তিনি করেননি।

ড. মুনকির হোসাইনের নেতৃত্ব ছিল শব্দহীন, কিন্তু প্রভাব ছিল গভীর। তাঁর কর্ম ও নীরবতা—উভয়ই মানুষের মনে দায়িত্ববোধ ও নিঃস্বার্থ সেবার এক স্থায়ী দৃষ্টান্ত রেখে গেছে।

যুহদ: একজন বিজ্ঞানী-সুফির জীবনধারা

আন্তর্জাতিক গবেষণার শীর্ষ পর্যায়ে অবস্থান করলেও ড. মুহাম্মদ মুনকির হোসাইনের ব্যক্তিগত জীবন ছিল অত্যন্ত সাধারণ ও সংযত। বিলাসিতা, খ্যাতি কিংবা পদমর্যাদার প্রতি তাঁর কোনো আকর্ষণ ছিল না। গবেষণা, শিক্ষা ও মানবসেবার বাইরে তাঁর জীবনে আলাদা কোনো প্রদর্শনমূলক অভ্যাস দেখা যায়নি। এই জীবনধারা গভীরভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল রাসুলুল্লাহ -এর এই বাণীর সঙ্গে—

ازْهَدْ فِي الدُّنْيَا يُحِبَّكَ اللَّهُ

(ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৪১০২)

“দুনিয়ার প্রতি অনাসক্ত হও, আল্লাহ তোমাকে ভালোবাসবেন।”

ড. মুনকির হোসাইনের যুহদ ছিল কখনোই নিষ্ক্রিয় বা সমাজবিমুখ নয়। তিনি দুনিয়া ত্যাগ করেননি; বরং দুনিয়াকে হৃদয় থেকে সরিয়ে দায়িত্বকে সামনে এনেছিলেন। প্রয়োজনের বাইরে কোনো ভোগ তাঁর জীবনে স্থান পায়নি, কিন্তু সমাজের প্রয়োজন পূরণে তিনি কখনো কার্পণ্য করেননি। এই দায়িত্বশীল সংযমই তাঁকে একদিকে আত্মিক ভারসাম্য প্রদান করেছে, অন্যদিকে শিক্ষা ও মানবকল্যাণে দীর্ঘমেয়াদি অবদান রাখার শক্তি জুগিয়েছে।

দারুল হুদা বেঙ্গল অফ-ক্যাম্পাস: সদকায়ে জারিয়ার এক জীবন্ত অধ্যায়

২০১০ সালে ড. মুহাম্মদ মুনকির হোসাইন কেরালায় অবস্থিত দারুল হুদা ইসলামিক ইউনিভার্সিটি সফর করেন। এই সফর তাঁর জীবনে একটি নির্ধারক মুহূর্ত হয়ে ওঠে। সেখানে দ্বীনি ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বিত কাঠামো, শৃঙ্খলাবদ্ধ একাডেমিক পরিবেশ এবং সমাজনির্মাণমুখী শিক্ষাদর্শন তাঁকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। সফর শেষে তিনি বাংলায় একই আদর্শে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার দৃঢ় সংকল্প গ্রহণ করেন—বিশেষত দরিদ্র ও প্রান্তিক মুসলিম সমাজের মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য।

দীর্ঘ পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির পর এই স্বপ্নের বাস্তবায়ন ঘটে ২০১২ সালে। তিনি নিজ উদ্যোগে এবং সম্পূর্ণ নিঃস্বার্থভাবে নিজের মালিকানাধীন ১১ একর জমি দান করেন, যার ওপর প্রতিষ্ঠিত হয় Darul Huda Bengal Off-Campus (DHBC)। এই প্রতিষ্ঠান ছিল তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় সদকায়ে জারিয়া—যেখানে কোনো ব্যক্তিগত প্রচার, নামফলক বা কৃতিত্ব দাবি ছিল না। তাঁর লক্ষ্য ছিল কেবল এমন একটি শিক্ষাকেন্দ্র গড়ে তোলা, যেখানে জ্ঞান অর্জন হবে আল্লাহর নৈকট্য ও মানবকল্যাণের মাধ্যম।

এই উদ্যোগের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত ছিল রাসুলুল্লাহ -এর সেই মৌলিক শিক্ষা—

«إِذَا مَاتَ الْإِنْسَانُ انْقَطَعَ عَنْهُ عَمَلُهُ إِلَّا مِنْ ثَلَاثَةٍ: إِلَّا مِنْ صَدَقَةٍ جَارِيَةٍ، أَوْ عِلْمٍ يُنْتَفَعُ بِهِ، أَوْ وَلَدٍ صَالِحٍ يَدْعُو لَهُ» 

(সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৬৩১)

“যখন কোনো মানুষ মারা যায়, তখন তার সব আমল বন্ধ হয়ে যায়—তবে তিনটি জিনিস ছাড়া: সদকায়ে জারিয়া, এমন জ্ঞান যা দ্বারা উপকার লাভ করা হয়, অথবা নেক সন্তান, যে তার জন্য দোয়া করে।”

২০২৪ সালে DHBC-এর প্রথম ব্যাচ সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়। এই সাফল্য কেবল একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অর্জন ছিল না; বরং ড. মুনকির হোসাইনের সুদূরপ্রসারী শিক্ষাস্বপ্ন ও সদকায়ে জারিয়ার এক দৃশ্যমান বাস্তব রূপ হয়ে ইতিহাসে স্থায়ী হয়ে যায়।

ব্যক্তিজীবন ইন্তেকাল

ড. মুহাম্মদ মুনকির হোসাইন আজীবন অবিবাহিত ছিলেন। পারিবারিক জীবনের পরিবর্তে তিনি নিজের সমগ্র সময়, শ্রম ও স্নেহ উৎসর্গ করেছিলেন ছাত্রদের জন্য। তাঁর কাছে ছাত্ররাই ছিল তাঁর পরিবার—তাঁদের শিক্ষা, চরিত্রগঠন ও ভবিষ্যৎ নির্মাণই ছিল তাঁর জীবনের একমাত্র অগ্রাধিকার। শিক্ষক ও অভিভাবকের এই দ্বৈত ভূমিকা তাঁকে শিক্ষার্থীদের কাছে কেবল একজন শিক্ষাগুরু নয়, বরং এক পিতৃতুল্য আশ্রয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল।

৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তিনি ইন্তেকাল করেন। তাঁর জানাজায় আট হাজারেরও বেশি মানুষ অংশগ্রহণ করেন—যা তাঁর নীরব অথচ গভীর প্রভাবের এক স্পষ্ট সাক্ষ্য। তাঁকে সমাহিত করা হয় দারুল হুদা বেঙ্গল অফ-ক্যাম্পাসের গ্র্যান্ড মসজিদের সম্মুখে।

আজও এই ক্যাম্পাসের প্রতিটি দিনে তাঁর স্মৃতি জীবন্ত থাকে। প্রতিদিন নামাজের পর শিক্ষার্থীরা তাঁদের এই রুহানি পিতার জন্য দোয়া করে—যাঁর জীবন তাঁদের শিক্ষা দিয়েছে ইলম, ইখলাস ও আত্মত্যাগের প্রকৃত অর্থ।

Related Posts

Leave A Comment

Voting Poll

Get Newsletter