মাহে রজব: ফজিলত, গুরুত্ব এবং মুমিনের আধ্যাত্মিক পুনর্জাগরণ
বরকতময় সময়ের রূহানি আহ্বান
ইসলামি ক্যালেন্ডারে রজব মাস এমন এক অনন্য মর্যাদার অধিকারী যা মুমিনের হৃদয়ে এক বিশেষ শিহরণ জাগিয়ে তোলে। এটি কেবল একটি মাস নয়, বরং এটি হলো আত্মিক শুদ্ধি এবং রমজানের প্রস্তুতির প্রথম সোপান। আধ্যাত্মিক সাধক এবং ওলামায়ে কেরামগণ রজব মাসকে 'বীজ বপনের মাস' হিসেবে অভিহিত করেছেন। যদি একজন কৃষক সঠিক সময়ে তার জমিতে বীজ বপন না করে, তবে সে ভালো ফসলের আশা করতে পারে না; ঠিক তেমনিভাবে যদি একজন মুমিন রজব মাসে তার হৃদয়ে ইবাদত এবং তওবার বীজ বপন না করে, তবে সে রমজানের পবিত্র ফসল ঘরে তুলতে ব্যর্থ হবে। রজব শব্দের মূল অর্থ হলো ‘সম্মানিত’। জাহেলি যুগেও আরবরা এই মাসকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা করত এবং যুদ্ধ-বিগ্রহ থেকে বিরত থাকত। ইসলাম আসার পর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা এই মাসের মর্যাদাকে আরও সুসংহত করেছেন এবং একে 'আশহুরুল হুরুম' বা পবিত্র মাসগুলোর অন্তর্ভুক্ত করেছেন। আজকের এই সুদীর্ঘ প্রবন্ধে আমরা রজব মাসের ফজিলত, এর ঐতিহাসিক পটভূমি, পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর দলিল এবং মেরাজের মতো মহান ঘটনার আধ্যাত্মিক শিক্ষা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব। ৪০০০ শব্দের এই বিশাল পরিসরে আমরা রজব মাসের প্রতিটি নিগূঢ় রহস্য উন্মোচন করার চেষ্টা করব যা একজন মুসলিমের জীবনকে আমূল বদলে দিতে পারে।
পবিত্র কুরআনের আলোকে রজব ও আশহুরুল হুরুম
আল্লাহ তাআলা আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টির আদি লগ্ন থেকেই বারোটি মাস নির্ধারণ করেছেন। পবিত্র কুরআনে এর অকাট্য প্রমাণ বিদ্যমান। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন:
إِنَّ عِدَّةَ الشُّهُورِ عِندَ اللَّهِ اثْنَا عَشَرَ شَهْرًا فِي كِتَابِ اللَّهِ يَوْمَ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ مِنْهَا أَرْبَعَةٌ حُرُمٌ ۚ ذَٰلِكَ الدِّينُ الْقَيِّمُ ۚ فَلَا تَظْلِمُوا فِيهِنَّ أَنفُسَكُمْ (সূরা আত-তাওবা, আয়াত: ৩৬) এই আয়াতে উল্লিখিত 'চারটি পবিত্র মাস' বা আশহুরুল হুরুম হলো জিলকদ, জিলহজ, মহররম এবং রজব। বাকি তিনটি মাস ধারাবাহিকভাবে আসলেও রজব মাসটি এককভাবে শাবানের আগে আসে, তাই একে 'রজব আল-ফারদ' বা একক রজব বলা হয়। আয়াতের শেষাংশে আল্লাহ বলেছেন, "তোমরা এই মাসগুলোতে নিজেদের ওপর জুলুম করো না।" এর গূঢ় অর্থ হলো, এই মাসগুলোতে ইবাদতের সওয়াব যেমন বহুগুণ বৃদ্ধি পায়, তেমনি এই সময়ে পাপাচার বা মন্দ কাজের গুনাহও সাধারণ সময়ের তুলনায় অনেক বেশি ভয়াবহ হয়ে থাকে। রজব হলো এমন এক মাস যেখানে আল্লাহ তায়ালা তাঁর রহমতের দরজাগুলো বিশেষভাবে উন্মুক্ত করে দেন। এটি মুমিনের জন্য একটি সতর্কবাণী যে, রমজান সন্নিকটে। যারা নিজেদের চরিত্র ও আমল সংশোধন করতে চায়, তাদের জন্য এই কুরআন নির্দেশিত মাসটি এক সুবর্ণ সুযোগ। কুরআনের এই ঘোষণা প্রমাণ করে যে রজবের সম্মান কোনো লৌকিক বিষয় নয়, বরং এটি খোদাপ্রদত্ত এক ঐশী মর্যাদা।
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ ও রজব মাসের মাহাত্ম্য
বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) রজব মাস শুরু হওয়ার সাথে সাথেই এর গুরুত্ব উম্মতকে মনে করিয়ে দিতেন। হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে যে, যখন রজব মাস আসত, নবীজি (সা.) তাঁর ইবাদতের পরিমাণ বাড়িয়ে দিতেন এবং মহান আল্লাহর দরবারে বিশেষ দোয়া করতেন। আনাস বিন মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত বিখ্যাত হাদিসটি হলো:
كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا دَخل رَجَبٌ يقول: "اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِي رَجَبَ وَشَعْبَانَ، وَبَلِّغْنَا رَمَضَانَ"
(শুয়াবুল ঈমান, হাদিস নং: ৩৫৩৪) এই দোয়ার প্রতিটি শব্দ একজন মুমিনের জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বরকতের অর্থ কেবল সংখ্যাগত বৃদ্ধি নয়, বরং সময়ের সদ্ব্যবহার এবং নেক আমলের তৌফিক লাভ করা। নবীজি (সা.) রজবকে 'আল্লাহর মাস' বলে অভিহিত করেছেন। অনেক মুহাদ্দিস বলেন, রজব হলো আল্লাহর ক্রোধ প্রশমিত করার মাস, শাবান হলো পর্দা উন্মোচনের মাস এবং রমজান হলো আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাস। নবীজি (সা.) এই মাসে নফল রোজার প্রতি গুরুত্ব দিতেন এবং তওবা ও ইস্তিগফারের মাধ্যমে মনকে সতেজ রাখতেন। হাদিসের শিক্ষা আমাদের এটাই দেয় যে, আমরা যেন এই মাসটিকে কেবল ক্যালেন্ডারের একটি পাতা হিসেবে না দেখি, বরং একে জান্নাতের পথে যাত্রার একটি মাইলফলক হিসেবে গণ্য করি। সাহাবায়ে কেরামও এই মাসকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পালন করতেন। তারা এই মাসে কুরআন তিলাওয়াত এবং জিকিরের পরিমাণ বহুগুণ বাড়িয়ে দিতেন।
ইসরা ও মেরাজ: রজব মাসের সর্বশ্রেষ্ঠ ইতিহাস
রজব মাসের ইতিহাসের পাতা ওল্টালে সবচেয়ে উজ্জ্বল যে ঘটনাটি আমাদের সামনে ভেসে ওঠে, তা হলো বিশ্বনবী (সা.)-এর পবিত্র মেরাজ গমন। রজব মাসের ২৭ তারিখের রাতটি ইসলামের ইতিহাসে এক বিস্ময়কর ও বৈপ্লবিক রাত। যখন মক্কার মুশরিকদের অত্যাচারে নবীজি (সা.) ব্যথিত ছিলেন এবং তাঁর প্রিয়তমা স্ত্রী হযরত খাদিজা (রা.) ও পরম শ্রদ্ধেয় চাচা আবু তালিব ইন্তেকাল করেছিলেন, তখন আল্লাহ তায়ালা তাঁর প্রিয় হাবিবকে এক অলৌকিক সফরের মাধ্যমে নিজের সান্নিধ্যে ডেকে নেন। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন:
سُبْحَانَ الَّذِي أَسْرَىٰ بِعَبْدِهِ لَيْلًا مِّنَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ إِلَى الْمَسْجِدِ الْأَقْصَى الَّذِي بَارَكْنَا حَوْلَهُ لِنُرِيَهُ مِنْ آيَاتِنَا ۚ إِنَّهُ هُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ(সূরা আল-ইসরা, আয়াত: ১) মেরাজের মাধ্যমে উম্মতে মুহাম্মদীর জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ উপহার হিসেবে দান করা হয়। মেরাজ আমাদের শিক্ষা দেয় যে, মুমিনের নামাজই হলো তার মেরাজ। রজব মাসের এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট আমাদের ইমানের বুনিয়াদকে মজবুত করে। নবীজি (সা.) এই সফরে জান্নাত ও জাহান্নামের নিগূঢ় সত্য প্রত্যক্ষ করেন এবং উম্মতের জন্য শাফায়াতের প্রতিশ্রুতি লাভ করেন। মেরাজের ঘটনাটি কেবল একটি অলৌকিক সফর ছিল না, বরং এটি ছিল বিজ্ঞানের ঊর্ধ্বে আল্লাহর কুদরতের এক মহিমান্বিত প্রকাশ। আজকের এই আধুনিক যুগেও মেরাজের শিক্ষা মানুষকে বস্তুবাদিতা থেকে সরিয়ে আধ্যাত্মিকতার দিকে ধাবিত করে। রজব মাস আমাদের সেই মেরাজের কথা মনে করিয়ে দেয় এবং নামাজে মনোযোগী হওয়ার প্রেরণা জোগায়।
রজব মাসের আধ্যাত্মিক সোপান: আত্মশুদ্ধির দর্শন
আধ্যাত্মিকতার জগতে রজব মাসের স্থান অত্যন্ত উঁচুতে। সূফী সাধক এবং ওলি-আউলিয়াগণ এই মাসকে 'রূহানি ইনকিলাব' বা আধ্যাত্মিক বিপ্লবের মাস মনে করেন। মানুষের ভেতরে যে পশুত্ব বা প্রবৃত্তি থাকে, তাকে দমন করার উপযুক্ত প্রশিক্ষণ শুরু হয় রজব থেকে। একটি প্রবাদ আছে যে, "রজব হলো বাতাসের মতো, শাবান হলো মেঘের মতো আর রমজান হলো বৃষ্টির মতো।" অর্থাৎ রজব মাস যদি মানুষের হৃদয়ে ঈমানের হাওয়া বয়ে না আনে, তবে সেখানে রহমতের বৃষ্টি ঝরবে না। আত্মশুদ্ধির জন্য এই মাসে কিছু বিশেষ সাধনা প্রয়োজন। প্রথমত, চোখের হেফাজত; দ্বিতীয়ত, জবানের হেফাজত; এবং তৃতীয়ত, অন্তরের কুমন্ত্রণা থেকে মুক্তি। রজব মাসে ইস্তিগফারের আধিক্য মানুষের রুহকে স্বচ্ছ করে দেয়। যখন একজন মানুষ একাগ্রচিত্তে ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ পাঠ করে, তখন তার হৃদয়ের কালো দাগগুলো মুছে যেতে থাকে। এটি একটি মনস্তাত্ত্বিক প্রক্রিয়ার মতো, যেখানে মানুষ তার অতীতের ভুলগুলো স্বীকার করে এবং ভবিষ্যতের জন্য নিজেকে সংশোধন করে। এই আধ্যাত্মিক শক্তিই মুমিনকে রমজানের দীর্ঘ সিয়াম সাধনার জন্য ধৈর্য ও শক্তি প্রদান করে।
রজব মাসে মুমিনের করণীয়: একটি পূর্ণাঙ্গ আমলনামা
রজব মাসকে ফলপ্রসূ করতে হলে মুমিনদের কিছু সুনির্দিষ্ট রুটিন মেনে চলা উচিত। এই দীর্ঘ প্রবন্ধে আমরা সেই আমলগুলোর বর্ণনা দিচ্ছি যা অনুসরণ করলে একজন মুমিন আল্লাহর প্রিয় হতে পারে। ১. তওবা ও ইস্তিগফার: রজব হলো ক্ষমা চাওয়ার মাস। প্রতিদিন সকালে ও সন্ধ্যায় অন্তত ১০০ বার ইস্তিগফার করা উচিত। এটি মানুষের রিজিক এবং হায়াতে বরকত নিয়ে আসে। ২. নফল রোজা: যদিও পুরো মাস রোজা রাখা জরুরি নয়, তবে রজবের অন্তত তিন থেকে সাতটি রোজা রাখা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। বিশেষ করে প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবারের রোজা রাখা সুন্নাত। ৩. কুরআন তিলাওয়াত: যারা রমজানে কুরআন খতম করতে চান, তাদের জন্য রজব থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। প্রতিদিন অন্তত আধা পারা করে তিলাওয়াত করলে কুরআনের সাথে এক আত্মিক সম্পর্ক তৈরি হয়। ৪. তাহাজ্জুদ ও নফল নামাজ: গভীর রাতের ইবাদত আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয়। রজব মাসের শান্ত পরিবেশে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার অভ্যাস করা উচিত। ৫. সদকা ও দান-খয়রাত: এই মাসে দান করলে অভাবীদের দোয়া পাওয়া যায় এবং বিপদমুক্ত থাকা যায়। ৬. মেরাজের শিক্ষা প্রচার: ২৭শে রজব বা তার আগে-পরে মেরাজের ঘটনা নিয়ে আলোচনা করা এবং সন্তানদের দ্বীনি শিক্ষা দেওয়া। ৭. মন্দ কাজ বর্জন: মিথ্যা কথা, গিবত এবং পরনিন্দা থেকে বিরত থাকা। রজবের সম্মান রক্ষা করা মানেই হলো গুনাহ থেকে দূরে থাকা। এই আমলগুলো যদি ধারাবাহিকভাবে করা যায়, তবে মুমিনের জীবন ধন্য হবে।
রজব মাসের ঐতিহাসিক যুদ্ধ ও বিজয়সমূহ
রজব মাস কেবল ইবাদতের মাস নয়, বরং এটি ইসলামের রাজনৈতিক ও সামরিক ইতিহাসের অনেক বড় বড় বিজয়ের সাক্ষী। ইসলামের ইতিহাসে অনেক গুরুত্বপূর্ণ অভিযান এই রজব মাসেই সংঘটিত হয়েছিল। তাবুক যুদ্ধ, যা রোমানদের বিরুদ্ধে ছিল, তা রজব মাসেই সূচিত হয়েছিল। এই যুদ্ধ ছিল মুমিন ও মুনাফিকদের মধ্যে পার্থক্যের এক বড় পরীক্ষা। রজব মাসে বায়তুল মুকাদ্দাস বা জেরুজালেম বিজয়ও একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। সুলতান সালাহউদ্দিন আইয়ুবী যখন ক্রুসেডারদের হাত থেকে জেরুজালেম মুক্ত করেছিলেন, সেই ঐতিহাসিক দিনটিও ছিল রজব মাসের ২৭ তারিখ। এটি কাকতালীয় নয়, বরং রজবের বরকত এবং মেরাজের পবিত্র ভূমির সাথে এর গভীর সংযোগের বহিঃপ্রকাশ। এই ইতিহাস আমাদের শিখায় যে, ইসলাম কেবল মসজিদের ভেতরে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি রাজপথ এবং রণাঙ্গনেও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ধর্ম। রজব মাসের এই তেজস্বী ইতিহাস মুসলিম উম্মাহকে হীনম্মন্যতা থেকে মুক্তি দিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর সাহস যোগায়।
সামাজিক সংস্কার ও রজব মাসের প্রভাব
একটি আদর্শ সমাজ গঠনে রজব মাসের শিক্ষা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। ইসলাম শান্তি ও নিরাপত্তার ধর্ম, আর রজব হলো সেই শান্তির মাস। প্রাচীন আরবের লোকেরা যখন রজব আসত, তখন তারা শত্রুতা ভুলে একে অপরকে আলিঙ্গন করত। আজকের আধুনিক সমাজেও আমাদের এই শিক্ষার প্রয়োজন রয়েছে। পাড়া-প্রতিবেশীর সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা, আত্মীয়দের হক আদায় করা এবং সামাজিক বিবাদ মিটিয়ে ফেলা রজব মাসের অন্যতম দাবি। যখন একটি সমাজের মানুষ ইবাদতে মশগুল থাকে এবং পাপ থেকে দূরে থাকে, তখন সেখানে ঐশী রহমত নাজিল হয়। রজব মাস আমাদের শিখায় কীভাবে সহনশীল হতে হয় এবং কীভাবে নিজের রাগকে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। এই সামাজিক পরিবর্তনই একটি জাতিকে উন্নত করতে পারে। রজব মাসের ফজিলত কেবল ব্যক্তিগত নয়, বরং এটি সমষ্টিগত কল্যাণের এক বারতা।
রজব মাসের শেষ দশক ও শাবানের প্রস্তুতি
রজব মাসের শেষ দশ দিন যখন ঘনিয়ে আসে, তখন মুমিনের ব্যাকুলতা আরও বেড়ে যায়। কারণ এর পরপরই আসছে শাবান এবং তারপরই প্রতিক্ষিত মাহে রমজান। রজব মাসের শেষ সময়গুলো আমাদের হিসেব মেলাতে সাহায্য করে যে, আমরা কতটা অর্জন করতে পেরেছি। যদি কেউ রজবের শুরুতে গাফেল থাকে, তবে সে যেন অন্তত শেষ দিকে সজাগ হয়। ইসলামি জীবন ব্যবস্থায় 'শেষ ভালো যার সব ভালো তার'—এই নীতি কার্যকর। তাই রজবের বিদায়লগ্নে আমাদের আরও বেশি করে আল্লাহর দিকে ফিরে আসা উচিত। শাবানের আগাম বার্তাই হলো রমজানের সুগন্ধ। রজব মাসের এই আধ্যাত্মিক যাত্রা আমাদের পূর্ণাঙ্গ মানুষ বা ‘ইনসানে কামিল’ হওয়ার পথে অগ্রসর করে।
উপসংহার: আল্লাহর রহমতের প্রত্যাশায়
পরিশেষে বলা যায় যে, মাহে রজব হলো আল্লাহর এক অমূল্য উপহার। এটি মুমিনের জন্য কেবল একটি তারিখ নয়, বরং এটি একটি আধ্যাত্মিক স্পন্দন। আমরা যদি এই মাসের মর্যাদা বুঝতে পারি এবং আমলের মাধ্যমে আমাদের জীবনকে সাজাতে পারি, তবে ইহকাল ও পরকাল উভয় জায়গাতেই আমরা সফল হতে পারব। রজব মাসের এই সুদীর্ঘ আলোচনা আমাদের এটাই মনে করিয়ে দেয় যে, জীবন সংক্ষিপ্ত এবং আখেরাত অনন্ত। সময় থাকতে আমাদের পাথেয় সংগ্রহ করতে হবে। মহান আল্লাহর দরবারে এই দোয়াই করি, তিনি যেন আমাদের রজব ও শাবান মাসে বরকত দান করেন এবং সুস্থতার সাথে রমজান পর্যন্ত পৌঁছে দেন। মেরাজের শিক্ষা এবং কুরআনের হেদায়েত যেন আমাদের চলার পথের আলো হয়। আমিন।