সফর মাস সংক্রান্ত কুসংস্কারের অপনোদন এবং ইসলামে তাওয়াক্কুলের শিক্ষা: একটি তাত্ত্বিক ও আধ্যাত্মিক বিশ্লেষণ

ইসলামি জীবনদর্শনে সময় বা কালের নিজস্ব কোনো মঙ্গল বা অমঙ্গল নেই; বরং প্রতিটি মুহূর্তই মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলার সৃষ্টি এবং তাঁরই কুদরতের বহিঃপ্রকাশ। হিজরি সনের দ্বিতীয় মাস হলো 'সফরুল মুজাফফর' বা সফর মাস। মানব ইতিহাসের এক দীর্ঘ সময় ধরে, বিশেষ করে জাহেলী যুগ থেকে শুরু করে বর্তমান আধুনিক যুগের অবচেতন মন পর্যন্ত, এই সফর মাসটিকে ঘিরে নানা প্রকার অমঙ্গলবাদী চিন্তা, কুসংস্কার এবং কাল্পনিক ভয়ের জাল বোনা হয়েছে। ইসলাম তার সূচনালগ্ন থেকেই মানুষের চিন্তাজগতকে কুসংস্কারের অন্ধকার থেকে মুক্ত করে তাওহিদের অনাবিল আলোয় আলোকিত করার মিশন নিয়ে অবতীর্ণ হয়েছে। তাওহিদের মূল কথাই হলো, জগতের সমস্ত লাভ-ক্ষতি, কল্যাণ-অকল্যাণ এবং জীবন-মৃত্যুর একমাত্র নিয়ন্ত্রক হলেন আল্লাহ তা'আলা। পবিত্র কুরআনের সূরা আত-তাওবাহ-এর ৫১ নম্বর আয়াতে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মুমিনদের জন্য এক পরম ঘোষণা প্রদান করে ইরশাদ করেছেন:

قُل لَّن يُصِيبَنَآ إِلَّا مَا كَتَبَ ٱللَّهُ لَنَا هُوَ مَوْلَىٰنَا ۚ وَعَلَى ٱللَّهِ فَلْيَتَوَكَّلِ ٱلْمُؤْمِنُونَ

"বলুন, আল্লাহ আমাদের কপালে যা লিখে রেখেছেন তা ছাড়া কোনো বিপদই আমাদের ওপর আসবে না। তিনিই আমাদের অভিভাবক। আর মুমিনদের উচিত কেবল আল্লাহর ওপরই ভরসা করা।"

এই আয়াতে কারীমা আমাদের স্পষ্ট শিক্ষা দেয় যে, কোনো নির্দিষ্ট মাস, দিন বা ক্ষণ আমাদের ভাগ্যের ভালো-মন্দের ওপর বিন্দুমাত্র প্রভাব বিস্তার করতে পারে না। অতএব, সফর মাসকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরণের ভীতি বা অলক্ষুণে বিশ্বাস লালন করা তাওহিদের বুনিয়াদী আকিদার পরিপন্থী। এই প্রবন্ধের মূল লক্ষ্য হলো সফর মাস নিয়ে প্রচলিত সামাজিক কুসংস্কারগুলোর ঐতিহাসিক ও তাত্ত্বিক ব্যবচ্ছেদ করা এবং এর বিপরীতে ইসলামে তাওয়াক্কুল বা আল্লাহর ওপর একনিষ্ঠ ভরসার যে সুমহান ও বৈপ্লবিক শিক্ষা রয়েছে, তা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা।

সফর মাস: আরবী ক্যালেন্ডারে এর অবস্থান ও নামকরণের ইতিহাস

আরবী চান্দ্রবর্ষের দ্বিতীয় মাস হলো সফর (صَفَر)। ভাষাবিদ ও ইতিহাসবিদগণের মতে, এই মাসের নামকরণের পেছনে প্রাক-ইসলামি আরবের সামাজিক ও ভৌগোলিক বাস্তবতার গভীর যোগসূত্র ছিল। আরবী 'সফর' শব্দটির আভিধানিক অর্থ শূন্য হওয়া, খালি হওয়া বা হলুদ বর্ণ ধারণ করা। ইমাম ইবনে কাসীর (রহ.) তাঁর বিখ্যাত ইতিহাস গ্রন্থ 'আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া'-তে উল্লেখ করেছেন যে, এই মাসে আরবের ঘরবাড়িগুলো মানুষশূন্য বা খালি হয়ে যেত বলেই একে 'সফর' বলা হতো। এর প্রধান কারণ ছিল, সফর মাসের ঠিক আগের মাসটি ছিল 'মহররমুল হারাম', যা ছিল যুদ্ধ নিষিদ্ধ ও সম্মানিত মাসসমূহের অন্যতম। মহররম মাসে আরবে সমস্ত প্রকার যুদ্ধবিগ্রহ এবং লুটতরাজ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ছিল। ফলে, মহররম মাস শেষ হয়ে যখনই সফর মাস শুরু হতো, আরবের গোত্রগুলো যুদ্ধ, লুটতরাজ এবং খাদ্যের সন্ধানে ঘরবাড়ি ছেড়ে মরুভূমিতে বা দূর-দূরান্তে বেরিয়ে পড়ত। তাদের ঘরবাড়িগুলো সম্পূর্ণ 'শূন্য' (صفر من الناس) হয়ে পড়ত বলে এই মাসটির নাম রাখা হয় সফর।

আরেকটি মতানুযায়ী, এই মাসে শরৎকালের প্রভাবে গাছের পাতা হলুদ বর্ণ ধারণ করত বা মাঠের ফসল শুকিয়ে শূন্য হয়ে যেত বলে একে সফর বলা হতো। কিন্তু জাহেলী যুগের আরবরা এই ভৌগোলিক ও সামাজিক নামকরণের রূপক অর্থকে বিকৃত করে একে এক অপয়া বা অমঙ্গলের মাস হিসেবে বিশ্বাস করতে শুরু করে। তারা মনে করত, এই মাসে আকাশ থেকে বালা-মুসিবত ও গজব নাজিল হয়, যা মানুষের জীবনে ধ্বংস ডেকে আনে। ইসলাম এসে এই অমূলক ও কাল্পনিক বিশ্বাসের মূলে কুঠারাঘাত করে এবং ঘোষণা করে যে, সফর মাস অন্য যেকোনো স্বাভাবিক মাসের মতোই একটি পবিত্র সময়, যার মধ্যে আলাদা কোনো গজব বা অমঙ্গল লুকিয়ে নেই।

জাহেলী যুগে সফর মাসকেন্দ্রিক অমঙ্গলবাদী বিশ্বাসের স্বরূপ (Tiyarah)

ইসলামের আবির্ভাবের পূর্বে মক্কার মুশরিক ও আরবের সাধারণ মানুষেরা তীব্র কুসংস্কারে নিমজ্জিত ছিল। তারা পাখি উড়িয়ে, পশুর গতিবিধি দেখে অথবা বছরের নির্দিষ্ট কিছু দিন ও মাসের হিসাব কষে শুভ-অশুভ নির্ধারণ করত, যাকে শরিয়তের পরিভাষায় 'তিয়ারাাহ' (الطيرة) বা অশুভ লক্ষণ গ্রহণ বলা হয়। সফর মাস ছিল তাদের এই তিয়ারাাহ বা কুসংস্কারের প্রধান লক্ষ্যবস্তু। জাহেলী যুগের আরবরা বিশ্বাস করত যে, সফর মাস হলো এমন এক অশান্তির মাস, যাতে কোনো ব্যবসা-বাণিজ্য সফল হয় না, কোনো বিবাহ স্থায়ী হয় না এবং কোনো নতুন গৃহ নির্মাণ করলে তা ধ্বংস হয়ে যায়। তারা এই মাসে সফর করা বা দূরে কোথাও ভ্রমণে যাওয়াকে অত্যন্ত বিপজ্জনক মনে করত। এমনকি অনেক গোত্র সফর মাসটিকে কুফা মনে করে এর দিনগুলোকে মহররম মাসের সাথে গুলিয়ে দিয়ে ক্যালেন্ডার পরিবর্তন করে ফেলত, যাকে কুরআনে 'নাসী' (النسيء) বা মাস পিছিয়ে দেওয়ার হারাম প্রথা হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

এই অন্ধ ও অযৌক্তিক বিশ্বাসের কারণে আরবের অর্থনৈতিক ও সামাজিক জীবন স্থবির হয়ে পড়ত। মানুষ এক কাল্পনিক ভয়ের দাসত্বে বন্দি হয়ে পড়েছিল। তারা আল্লাহর সর্বময় ক্ষমতাকে ভুলে গিয়ে একটি মাসকে নিজেদের ভাগ্যের নিয়ন্তা বানিয়ে ফেলেছিল। আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরবের এই মানসিক দাসত্ব ও আকিদাগত বিভ্রান্তি দূর করতে গিয়ে তাওহিদের তরবারি দিয়ে এই সমস্ত কাল্পনিক ধারণাকে খণ্ডবিখণ্ড করে দেন। তিনি মুমিনদের শেখান যে, জড় জগতের কোনো বস্তুর বা সময়ের নিজস্ব কোনো স্বাধীন ক্ষমতা নেই, তারা সবাই আল্লাহর হুকুমের অধীন।

কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে কুসংস্কার ও অশুভ লক্ষণের অবসান

ইসলাম কুসংস্কারকে কেবল একটি সামাজিক ব্যাধি হিসেবেই দেখে না, বরং একে তাওহিদের পরিপন্থী ও শিরকের একটি সূক্ষ্ম রূপ হিসেবে চিহ্নিত করে। যখন কোনো মানুষ কোনো বস্তু বা দিনকে অলক্ষুণে মনে করে নিজের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে, তখন সে মূলত আল্লাহর রাজত্বে অন্য কারো প্রভাবকে স্বীকার করে নেয়। হাদীস শরীফে এই ধরণের মানসিকতাকে কঠোরভাবে দমন করা হয়েছে। সুনানে আবু দাউদে বর্ণিত একটি সহীহ হাদীসে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অত্যন্ত দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করেছেন:

عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «الطِّيَرَةُ شِرْكٌ، الطِّيَرَةُ شِرْكٌ، الطِّيَرَةُ شِرْكٌ»

"হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, নিশ্চয়ই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, 'কোনো বস্তুকে অলক্ষুণে বা অশুভ মনে করা শিরক, অশুভ লক্ষণ গ্রহণ করা শিরক, অশুভ লক্ষণ গ্রহণ করা শিরক (তিনি এটি তিনবার বলেছেন)।'"

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর এই তিনবার পুনরাবৃত্তি প্রমাণ করে যে, এই কুসংস্কার মানুষের ঈমানকে কতটা গভীরভাবে ক্ষতবিক্ষত করে। কোনো দিন বা মাসকে কুফা মনে করা মানে হলো আল্লাহর নির্ধারণ করা সময়ের ওপর দোষারোপ করা। সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে বর্ণিত একটি বিখ্যাত কুদসী হাদীসে আল্লাহ তা'আলা বলেন, 'মানুষ কাল বা সময়কে গালি দেয় বা দোষারোপ করে, অথচ আমিই হলাম কাল, আমার হাতেই রাত ও দিনের পরিবর্তন ঘটে।' অর্থাৎ, সময়ের গায়ে কোনো দোষ নেই; সময়ের স্রষ্টা আল্লাহ নিজেই যখন সমস্ত বিষয়ের ফয়সালা করেন, তখন সময়কে অলক্ষুণে ভাবা মূলত আল্লাহর ফয়সালা ও তাঁর রুবুবিয়াতের প্রতি এক ধরণের চরম অবমাননা। ইসলাম মানুষকে সাহসী ও যৌক্তিক হতে শেখায়, যেখানে কাল্পনিক ভয়ের কোনো স্থান নেই।

বুখারী শরীফের অমোঘ ঘোষণা: "সফর মাসের কোনো অশুভত্ব নেই"

সফর মাস সংক্রান্ত যাবতীয় কুসংস্কারের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দিয়েছেন প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর একটি অতি প্রসিদ্ধ ও অমোঘ ঘোষণার মাধ্যমে। সহীহ আল-বুখারী শরীফের 'কিতাবুত তিব্ব' (চিকিৎসা অধ্যায়)-এ হযরত আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে একটি কালজয়ী হাদীস বর্ণিত হয়েছে, যেখানে রাসুলুল্লাহ (সা.) সমকালীন সমস্ত কুসংস্কারের মূলে আঘাত করে বলেন:

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَا عَدْوَى وَلَا طِيَرَةَ وَلَا هَامَةَ وَلَا صَفَرَ»

"হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, '(ইসলামে) ছোঁয়াচে রোগ বলে (স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংক্রমণকারী) কিছু নেই, অশুভ লক্ষণ বা অমঙ্গলের কোনো ভিত্তি নেই, পেঁচা নিয়ে কুসংস্কারের কোনো বাস্তবতা নেই এবং সফর মাসেরও কোনো অশুভত্ব বা অমঙ্গল নেই।'"

এই হাদীসে ব্যবহূত ‘وَلَا صَفَرَ’ (ওয়া লা সাফারা) শব্দবন্ধের দুটি সুনির্দিষ্ট অর্থ মুহাদ্দিসগণ বর্ণনা করেছেন। প্রথম এবং সর্বাধিক প্রসিদ্ধ অর্থ হলো, সফর মাসের নিজস্ব কোনো অশুভত্ব, দুর্ভাগ্য বা অমঙ্গল নেই, যা জাহেলী যুগের লোকেরা বিশ্বাস করত। দ্বিতীয় অর্থ হলো, সফর মাসের দিনগুলোকে পিছিয়ে দিয়ে মহররমের সাথে গুলিয়ে ফেলার যে ক্যালেন্ডারগত জালিয়াতি আরবরা করত, তা ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ইমাম ইবনে রজব হাম্বলী (রহ.) তাঁর 'লাতায়েফুল মাআরিফ' গ্রন্থে লিখেছেন যে, জাহেলী আরবরা সফর মাসকে অমঙ্গলের মাস মনে করে যে ভয় পেত, রাসুলুল্লাহ (সা.) এই হাদীসের মাধ্যমে সেই অমূলক ভয়কে মুসলিম উম্মাহর অন্তর থেকে চিরতরে উপড়ে ফেলেছেন। এই ঘোষণার পর একজন মুমিনের অন্তরে সফর মাস নিয়ে কোনো প্রকার কুভাবনা বা আশঙ্কার বিন্দুমাত্র অবকাশ থাকতে পারে না।

দক্ষিণ এশীয় সমাজে সফর মাসকেন্দ্রিক কুসংস্কারের স্বরূপ ও তার অপনোদন

আরব উপদ্বীপের জাহেলী যুগের সেই প্রাচীন কুসংস্কারগুলো দুঃখজনকভাবে আজ শত শত বছর পর আমাদের দক্ষিণ এশীয় (বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান) মুসলিম সমাজের একটি বড় অংশে ভিন্ন মোড়কে অনুপ্রবেশ করেছে। আমাদের সমাজে সফর মাসকে নিয়ে এমন কিছু অন্ধ বিশ্বাস প্রচলিত রয়েছে, যা কোনোভাবেই কুরআন ও সহীহ সুন্নাহ দ্বারা সমর্থিত নয়।

  • বিবাহ ও শুভ কাজ পরিহার করা: অনেকে মনে করেন সফর মাসে বিবাহ-শাদী করলে বরকত হয় না বা সেই সংসার বেশিদিন টেকে না। এটি একটি চরম জাহেলী বিশ্বাস। ইসলামে বছরের প্রতিটি দিন ও মাসই আল্লাহর রহমতে বরকতময়, যদি তা সুন্নাহ মোতাবেক সম্পন্ন করা হয়।
  • ভ্রমণ ও ব্যবসা পরিহার করা: সফর মাসের প্রথম তেরো দিনকে অনেকে অত্যন্ত ভারী বা বিপদসংকুল মনে করেন এবং এই দিনগুলোতে কোনো নতুন ব্যবসা শুরু করা বা দূরভ্রমণে যাওয়া থেকে বিরত থাকেন। অথচ সহীহ হাদীসের নির্দেশ অনুযায়ী, যেকোনো দিন বা মাসে আল্লাহর নাম নিয়ে যাত্রা শুরু করাই হলো সুন্নাত।
  • আখেরী চাহার শোম্বাহ (آخری چہار شنبہ): সফর মাসের শেষ বুধবারে আমাদের সমাজে একটি উৎসব বা বিশেষ দিন পালিত হয়, যাকে 'আখেরী চাহার শোম্বাহ' বলা হয়। একটি প্রচলিত ধারণা রয়েছে যে, এই দিনে রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর জীবনের শেষ অসুস্থতা থেকে সাময়িক সুস্থতা লাভ করে গোসল করেছিলেন এবং মদীনার সাহাবীগণ খুশিতে দান-সদকা করেছিলেন। এই তথ্যের ঐতিহাসিক কোনো সহীহ ভিত্তি নেই। ঐতিহাসিক সত্য হলো, সফর মাসের এই শেষ দিকেই নবীজির ইন্তেকালের চূড়ান্ত অসুস্থতা শুরু হয়েছিল। তাই এই দিনটিকে কেন্দ্র করে বিশেষ কোনো আনুষ্ঠানিকতা, গোসল বা রুটি-হালুয়া বিতরণকে ইবাদত মনে করা এক ধরণের বিদআত বা মনগড়া প্রথা।

এই সমস্ত কুসংস্কার আমাদের ঈমানি চেতনাকে দুর্বল করে দেয় এবং আমাদের সমাজকে পশ্চাদপদতার দিকে ঠেলে দেয়। ইসলামি শরিয়তের মূল নীতি হলো, কোনো মনগড়া গল্প বা ভিত্তিহীন লোকশ্রুতির ওপর ভিত্তি করে দ্বীনের কোনো আমল বা বিশ্বাস তৈরি হতে পারে না।

ইসলামে 'তাওয়াক্কুল' বা আল্লাহর ওপর ভরসার বুনিয়াদী ধারণা

কুসংস্কারের অন্ধকার থেকে মুক্তির একমাত্র ও প্রধান হাতিয়ার হলো আল্লাহর ওপর একনিষ্ঠ ভরসা বা 'তাওয়াক্কুল' (التوكل)। তাওয়াক্কুল হলো ইসলামি আকিদার এক মহিমান্বিত স্তম্ভ। আরবী 'তাওয়াক্কুল' শব্দের অর্থ হলো কোনো বিষয়ে অন্যকে উকিল বা অভিভাবক হিসেবে নিযুক্ত করা এবং নিজের সমস্ত বিষয় তাঁর ওপর সোপর্দ করে দিয়ে নিশ্চিন্ত হওয়া। শরিয়তের পরিভাষায়, পার্থিব সমস্ত বৈধ মাধ্যম বা উপায় অবলম্বন করার পর, ফলাফলের জন্য একমাত্র আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলার ওপর অন্তরের গভীর থেকে আস্থা ও ভরসা রাখাকেই তাওয়াক্কুল বলা হয়। পবিত্র কুরআনের সূরা আত-তালাক-এর ৩ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ তা'আলা তাওয়াক্কুলকারী বান্দাদের জন্য এক অনন্য আশার বাণী শুনিয়েছেন:

وَمَن يَتَوَكَّلْ عَلَى ٱللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُۥٓ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ بَٰلِغُ أَمْرِهِۦ

 "আর যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তবে আল্লাহই তার জন্য যথেষ্ট। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর কাজ সম্পন্ন করবেনই।"

এই আয়াতে বর্ণিত ‘فَهُوَ حَسْبُهُ’ (তবে আল্লাহই তার জন্য যথেষ্ট) বাক্যটি মুমিনের হৃদয়ে এক অভূতপূর্ব শক্তির সঞ্চার করে। যার জন্য স্বয়ং আসমান ও জমিনের স্রষ্টা আল্লাহ যথেষ্ট হয়ে যান, তার কি আর কোনো কাল্পনিক ভীতি বা সফর মাসের অশুভত্বের মতো তুচ্ছ বিষয়ে ভয় পাওয়ার প্রয়োজন আছে? তাওয়াক্কুল মানুষকে কাপুরুষতা ও মানসিক অস্থিরতা থেকে মুক্ত করে এক আত্মিক স্বাধীনতা দান করে। এটি বান্দাকে শেখায় যে, সৃষ্টির সমস্ত শক্তি মিলেও যদি কারো ক্ষতি করতে চায়, আল্লাহর হুকুম ছাড়া তা কখনোই সম্ভব নয়।

তাওয়াক্কুল ও কার্যকারণবাদের (Asbab) ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক

ইসলামি শরিয়তে তাওয়াক্কুলের ধারণাটি অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ ও বাস্তবসম্মত। অনেকে মনে করেন, কোনো কাজ না করে হাত গুটিয়ে বসে থাকার নামই বুঝি তাওয়াক্কুল। এটি একটি মস্ত বড় ভুল ধারণা। ইসলাম আমাদের শিক্ষা দেয় যে, প্রথমে কাজের জন্য প্রয়োজনীয় দুনিয়াবি উপায় ও উপকরণ (Asbab) পুরোপুরি ব্যবহার করতে হবে, এবং তারপর সেই উপায়ের ওপর ভরসা না করে ভরসা রাখতে হবে উপায়ের স্রষ্টা আল্লাহর ওপর। একেই বলা হয় তাওয়াক্কুলের প্রকৃত রূপ। জগতখ্যাত হাদীস গ্রন্থ সুনানে তিরমিজীতে হযরত আনাস ইবনে মালিক রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে একটি অত্যন্ত শিক্ষণীয় ঘটনা বর্ণিত হয়েছে:

عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، أَنَّ رَجُلًا قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَعْقِلُهَا وَأَتَوَكَّلُ، أَوْ أُطْلِقُهَا وَأَتَوَكَّلُ؟ قَالَ: «اعْقِلْهَا وَتَوَكَّلْ»

"হযরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দরবারে এসে জিজ্ঞেস করল, 'হে আল্লাহর রাসুল! আমি কি আমার উটটিকে না বেঁধে ছেড়ে দিয়ে আল্লাহর ওপর ভরসা করব, নাকি ওটিকে বেঁধে রেখে আল্লাহর ওপর ভরসা করব?' রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তর দিলেন, 'আগে উটটিকে শক্ত করে বাঁধো, তারপর আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করো।'"

এই হাদীসটি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, কার্যকারণ বা মাধ্যমকে অস্বীকার করা ইসলামের নীতি নয়। উদাহরণস্বরূপ, অসুস্থ হলে ওষুধ খাওয়া হলো মাধ্যম বা সুন্নাত, কিন্তু ওষুধই আমাকে সুস্থ করবে—এই বিশ্বাস রাখা শিরক; বরং সুস্থতা দান করবেন একমাত্র আল্লাহ—এই বিশ্বাস রাখাই হলো তাওয়াক্কুল। ঠিক তেমনি, সফর মাসেও স্বাভাবিকভাবে আল্লাহর নাম নিয়ে ব্যবসা বা যাত্রা শুরু করতে হবে এবং সমস্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করার পর আল্লাহর ওপর ভরসা রাখতে হবে। মাধ্যম ও তাওয়াক্কুলের এই সুন্দর ভারসাম্যই মুমিনের জীবনকে শান্ত ও সফল করে তোলে।

 কুসংস্কার বর্জন ও তাওয়াক্কুল অর্জনের মাধ্যমে আখেরাতের উচ্চ মর্যাদা

যারা নিজেদের জীবন থেকে সমস্ত প্রকার কুসংস্কার, অশুভ লক্ষণ গ্রহণ ও অমূলক ভীতি দূর করে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করতে পারেন, পরকালে তাদের জন্য আল্লাহ তা'আলা এক বিশেষ ও অতি মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন। সহীহ আল-বুখারী ও সহীহ মুসলিমে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে একটি দীর্ঘ হাদীস বর্ণিত হয়েছে, যেখানে রাসুলুল্লাহ (সা.) মিরাজের রজনীতে তাঁর উম্মতের এক বিশেষ দলের মর্যাদা প্রত্যক্ষ করেছিলেন। তিনি ইরশাদ করেন:

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «يَدْخُلُ الجَنَّةَ مِنْ أُمَّتِي سَبْعُونَ أَلْفًا بِغَيْرِ حِسَابٍ، هُمُ الَّذِينَ لاَ يَسْتَرْقُونَ، وَلاَ يَتَطَيَّرُونَ، وَعَلَى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ»

"হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, 'আমার উম্মতের মধ্য থেকে সত্তর হাজার ব্যক্তি বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে। তারা হলো সেই সমস্ত লোক—যারা কোনো ঝাড়ফুঁক করায় না (যা শিরকের পর্যায়ভুক্ত), যারা কোনো অশুভ বা অলক্ষুণে লক্ষণ বিশ্বাস করে না (কুসংস্কার বর্জন করে) এবং তারা কেবল তাদের প্রতিপালকের ওপরই ভরসা বা তাওয়াক্কুল রাখে।'"

এই হাদীসে বিনা হিসাবে জান্নাতে যাওয়ার অন্যতম প্রধান দুটি শর্ত হলো—অশুভ লক্ষণ বা কুসংস্কার বর্জন করা এবং আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করা। সফর মাসকে অলক্ষুণে মনে করা মূলত এই হাদীসের শিক্ষার সম্পূর্ণ লঙ্ঘন। যারা এই দুনিয়াবি তুচ্ছ ভয়ভীতিকে জয় করে বুক ফুলিয়ে আল্লাহর ওপর আস্থা রাখতে পারেন, তারাই কিয়ামতের সেই কঠিন দিনে বিনা হিসাবে জান্নাতের মহিমান্বিত মেহমান হওয়ার গৌরব অর্জন করবেন। এটি আমাদের প্রমাণ করে যে, তাওয়াক্কুল কেবল একটি তাত্ত্বিক বিশ্বাস নয়, এটি জান্নাত অর্জনের এক নিশ্চিত টিকিট।

 সফর মাসে একজন মুমিনের করণীয় ও নেক আমলসমূহ

যেহেতু সফর মাসের নিজস্ব কোনো অশুভত্ব নেই, তাই এই মাসে বিশেষ কোনো কুসংস্কারমুক্ত থাকার পাশাপাশি একজন মুমিনের করণীয় হলো বছরের অন্যান্য সাধারণ মাসের মতোই স্বাভাবিক ইবাদত-বন্দেগি জারি রাখা। ইসলামে সফর মাসের জন্য বিশেষ কোনো নামাজ, রোজা বা ওজিফা নির্দিষ্ট করা হয়নি। তবে একজন সচেতন মুমিন হিসেবে এই মাসে আমরা নিচের আমলগুলো করতে পারি:

  1. নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামায়াতের সাথে আদায় করা: এটি মুমিনের জীবনের নিত্যদিনের প্রধান কর্তব্য, যা তাকে সমস্ত মন্দ কাজ থেকে রক্ষা করে।
  2. বেশি বেশি ইস্তিগফার ও তওবা করা: মানুষ যখন নিজের গুনাহের কারণে বালা-মুসিবতে পড়ে, তখন তওবাই হলো তা থেকে মুক্তির একমাত্র উপায়। আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর কাছে খাঁটি তওবা করো’ (সূরা আত-তাহরীম ৬৬:৮)।
  3. নফল রোজা পালন করা: প্রতি চান্দ্র মাসের আইয়ামে বীজ বা ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখের রোজা এবং প্রতি সপ্তাহের সোম ও বৃহস্পতিবারের নফল রোজা সফর মাসেও সমানভাবে বরকতময়।
  4. দান-সদকা করা: দান-সদকা বালা-মুসিবত দূর করে এবং আল্লাহর রাগকে প্রশমিত করে। সফর মাসকে অলক্ষুণে মনে করে নয়, বরং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য অকাতরে দান করা উচিত।
  5. আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুলের জিকির করা: সর্বদা অন্তরে এই বিশ্বাস জাগ্রত রাখা যে, আল্লাহ যা চান তা-ই হয়, এবং তিনি যা চান না তা কখনোই হতে পারে না।

দ্বীনের নামে কোনো নতুন প্রথা বা উৎসব আবিষ্কার না করে, রাসুলুল্লাহ (সা.) ও তাঁর সাহাবীগণের প্রদর্শিত সহজ ও সরল পথ অনুসরণ করাই হলো প্রকৃত মুক্তি ও ভালোবাসার নিদর্শন।

মানসিক সুস্থতা ও সামাজিক প্রশান্তিতে তাওয়াক্কুলের মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব

আধুনিক মনোবিজ্ঞানের দৃষ্টিতেও কুসংস্কার মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যকে চরমভাবে বিপর্যস্ত করে। যখন কোনো মানুষ বিশ্বাস করে যে অমুক দিনটি তার জন্য খারাপ বা অমুক মাসটি তার ধ্বংস ডেকে আনবে, তখন সে এক অবচেতন ভীতি ও হতাশায় (Anxiety and Depression) আক্রান্ত হয়। তার সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা হ্রাস পায় এবং সে জীবনের স্বাভাবিক কাজকর্মে আলস্য ও ভয় অনুভব করে। এর বিপরীতে, ইসলামি তাওয়াক্কুল মানুষের মনস্তত্বে এক জাদুকরী ও ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে আসে। তাওয়াক্কুল মানুষকে শেখায় যে, আমার সাথে যা কিছু ঘটছে তা আমার দয়ালু রবের ইচ্ছাতেই ঘটছে এবং এর পেছনে অবশ্যই কোনো না কোনো কল্যাণ লুকিয়ে রয়েছে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা'আলা এর সান্ত্বনা দিয়ে সূরা আল-বাকারা-এর ২১৬ নম্বর আয়াতে ইরশাদ করেছেন:

وَعَسَىٰٓ أَن تَكْرَهُوا۟ شَيْـًٔا وَهُوَ خَيْرٌ لَّكُمْ ۖ وَعَسَىٰٓ أَن تُحِبُّوا۟ شَيْـًٔا وَهُوَ شَرٌّ لَّكُمْ ۗ وَٱللَّهُ يَعْلَمُ وَأَنتُمْ لَا تَعْلَمُونَ

"হতে পারে তোমরা কোনো বিষয়কে অপছন্দ করছ, অথচ তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। আবার হতে পারে তোমরা কোনো বিষয়কে পছন্দ করছ, অথচ তা তোমাদের জন্য অকল্যাণকর। আসলে আল্লাহই ভালো জানেন, তোমরা জানো না।"

এই মানসিকতা যখন একজন মুমিনের অন্তরে গেঁথে যায়, তখন সে যেকোনো পরিস্থিতিতে শান্ত ও ধীরস্থির থাকে। ব্যবসায় ক্ষতি হলে সে ভেঙে পড়ে না, কিংবা কঠিন বিপদেও সে ধৈর্য হারায় না; কারণ সে জানে তার রব তাকে দেখছেন এবং তিনি অবশ্যই এর চেয়ে উত্তম কিছু তাকে দান করবেন। তাওয়াক্কুল মানুষের মনের সমস্ত অপ্রয়োজনীয় ভয় দূর করে এক অনাবিল প্রশান্তি (Sakina) দান করে, যা আধুনিক যুগের অ্যান্টি-ডিপ্রেসেন্ট ওষুধের চেয়েও হাজার গুণ বেশি কার্যকরী।

 কুসংস্কারমুক্ত সমাজ গঠনে আমাদের যৌথ অঙ্গীকার

পরিশেষে বলা যায়, সফর মাস কোনো অভিশপ্ত বা অমঙ্গলের মাস নয়, বরং এটিও আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলার সৃষ্টি করা দ্বাদশ মাসেরই একটি সাধারণ ও পবিত্র মাস। জাহেলী যুগের কুসংস্কারগুলোকে কবর দিয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের যে তাওহিদ ও তাওয়াক্কুলের শিক্ষা দিয়েছেন, তা আমাদের আকিদা ও সামাজিক জীবনে বাস্তবায়ন করাই হোক আমাদের মূল লক্ষ্য। আমাদের সমাজ থেকে সফর মাসকেন্দ্রিক যাবতীয় অন্ধ বিশ্বাস, কুসংস্কার এবং বিদআতী প্রথাগুলোকে সমূলে উৎপাটন করতে হবে। এটি কেবল ব্যক্তিগত ঈমান রক্ষার জন্য নয়, বরং একটি বিজ্ঞানমনস্ক, যৌক্তিক এবং কুসংস্কারমুক্ত প্রগতিশীল মুসলিম সমাজ বিনির্মাণের জন্যও অপরিহার্য। আসুন, আমরা আমাদের জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুলের সেই অমর শিক্ষাকে হৃদয়ে ধারণ করি এবং বুক ফুলিয়ে ঘোষণা করি যে, আমাদের ভালো-মন্দ কেবল আমাদের রবের হাতেই সুরক্ষিত। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা আমাদের সকলকে সফর মাসের সঠিক শিক্ষা অনুধাবন করার, যাবতীয় কুসংস্কার বর্জন করার এবং একনিষ্ঠভাবে তাঁর ওপর তাওয়াক্কুল করার তৌফিক দান করুন। (আমীন)

Related Posts

Leave A Comment

Voting Poll

Get Newsletter