আফ্রিকান কঙ্গোর ধূলিকণা থেকে ব্রাসেলসের রাজপথ: প্যাট্রিস লুমুম্বার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা ও প্যান-আফ্রিকানিজমের নবজাগরণ
আজকের বিশ্বজুড়ে যখন কৃষ্ণাঙ্গ মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলন ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’ এক প্রবল ঝড়ে রূপ নিয়েছে, ঠিক সেই সন্ধিক্ষণে ইতিহাসের অতল গহ্বর থেকে ফিনিক্স পাখির মতো পুনরুত্থিত হয়েছে একটি নাম,প্যাট্রিস লুমুম্বা। বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে, যেখানে একদা ঔপনিবেশিক প্রভুর চাবুক সপাং করে আছড়ে পড়ত কঙ্গোর মানুষের পিঠে, আজ সেখানেই ম্যাটং (Matonge) এলাকায় লুমুম্বার স্মরণে স্থাপিত আবক্ষ মূর্তির সামনে শ্রদ্ধাবনত চিত্তে দাঁড়িয়েছে হাজারো মানুষ। সাম্রাজ্যবাদের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে এই শ্রদ্ধা নিবেদন কেবল একটি মূর্তির প্রতি সম্মান প্রদর্শন নয়; বরং এটি প্যান-আফ্রিকানিজমের সেই চিরায়ত দর্শনেরই এক দুর্দান্ত পুনর্জাগরণ, যা দীর্ঘকাল ধরে ছাইচাপা আগুনের মতো জ্বলছিল।
এই আবক্ষ মূর্তির সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের ভিড়ে হয়তো খুঁজে পাওয়া যাবে লুমুম্বার কনিষ্ঠ পুত্র রোলান্ড লুমুম্বাকে। তাঁর চোখে আজ অশ্রু নয়, বরং এক দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বিজয়ের আভা। এই ব্রাসেলস শহরেরই এক সুরম্য প্রাসাদে, বহু বছর আগে, তাঁর পিতার হত্যাকাণ্ডের নীল নকশা আঁকা হয়েছিল। আজ সেই শহরের বুকেই লুমুম্বা ফিরে এসেছেন,তবে পরাজিত হিসেবে নয়, বরং এক কালজয়ী আদর্শের মূর্ত প্রতীক হিসেবে। ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক সীমানা পেরিয়ে এই ঘটনা আজ এক বৈশ্বিক রূপ লাভ করেছে। আটলান্টিকের ওপার থেকে ভেসে আসা ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’ আন্দোলনের ঢেউ আর ব্রাসেলসের এই দৃশ্যপট যেন একই সূত্রে গাঁথা,বিশ্বজুড়ে মজলুমের জাগরণের এক অনবদ্য আখ্যান।
ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যায়, ঔপনিবেশিক শাসকরা লুমুম্বাকে কেবল হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি; তাঁর নশ্বর দেহকেও তারা পৃথিবী থেকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে চেয়েছিল। অ্যাসিডের ড্রামে গলিয়ে ফেলা হয়েছিল এই মহান বিপ্লবীবীরের দেহ মোবারক। কিন্তু বিধাতার কি অমোঘ বিধান! হত্যাকারীদের সমস্ত ঘৃণ্য প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিয়ে, তাঁর দেহের একটিমাত্র অংশ,একটি দাঁত , অলৌকিকভাবে রক্ষা পেয়েছিল। দীর্ঘ ছয় দশক পর, সেই পবিত্র স্মৃতিচিহ্ন, সেই দাঁতটি বেলজিয়াম সরকার লুমুম্বার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করতে বাধ্য হয়েছে। এটি কেবল একটি দেহাবশেষ নয়; এটি ছিল আফ্রিকান রেনেসাঁ বা নবজাগরণের এক প্রজ্জ্বলিত মশাল, যা নতুন প্রজন্মের হাতে তুলে দেওয়া হলো। লুমুম্বার কন্যা জুলিয়ানা লুমুম্বা যখন বেলজিয়ামের রাজার হাত থেকে সেই নীল বাক্সটি গ্রহণ করলেন, তখন যেন মনে হলো, সমগ্র আফ্রিকা মহাদেশ তার হৃত গৌরব ফিরে পেল।
প্যাট্রিস লুমুম্বা: এক ধুমকেতুর উত্থান ও সংগ্রামের দীর্ঘ পথপরিক্রমা
প্যাট্রিস লুমুম্বার জন্ম ১৯২৫ সালের ২রা জুলাই, কঙ্গোর অনালুয়া অঞ্চলের এক নিভৃত পল্লীতে। ছোটবেলায় তিনি পরিচিত ছিলেন এলিয়াস ওকিতের আসম্বো নামে। কিন্তু কে জানত, এই সাধারণ বালকের হৃদয়েই সুপ্ত রয়েছে এক মহান বিপ্লবের বীজ? ১৯৫৫ সালে তিনি যখন ডাকবিভাগের সামান্য কর্মচারী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন, তখনও তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞার গভীরতা সম্পর্কে কেউ আঁচ করতে পারেনি। কিন্তু কঙ্গোর মানুষের ওপর ঔপনিবেশিক প্রভুদের অকথ্য নির্যাতন, শোষণ আর বঞ্চনা তাঁর তরুণ হৃদয়ে এক দাউ দাউ করে জ্বলা আগুনের জন্ম দিয়েছিল। সেই আগুনই তাঁকে ক্রমে ক্রমে একজন সাধারণ কর্মচারী থেকে এক মহান জননেতায় রূপান্তরিত করেছিল।
তিনি কেবল একজন রাজনৈতিক নেতাই ছিলেন না; তিনি ছিলেন একজন চিন্তাবিদ, একজন কবি এবং একজন প্রখর প্রাবন্ধিক। তাঁর কলম ছিল তলোয়ারের চেয়েও ধারালো। বিভিন্ন সাময়িকীতে তিনি নিয়মিত লিখতেন ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে, মানবতার মুক্তির পক্ষে। ১৯৫৮ সালে তিনি গঠন করেন ‘কঙ্গোলিজ ন্যাশনাল মুভমেন্ট’ (MNC)। এটি কেবল একটি রাজনৈতিক দল ছিল না; এটি ছিল কঙ্গোর মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার এক মূর্ত প্রতীক। ১৯৬০ সালের নির্বাচনে এই দল যখন বিপুল ভোটে জয়লাভ করে, তখন তা ছিল কঙ্গোর ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা। লুমুম্বা প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হলেন, আর কঙ্গো পেল তার বহু-কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা।
স্বাধীনতার সেই মাহেন্দ্রক্ষণে, লুমুম্বা যে ভাষণ দিয়েছিলেন, তা আজও ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা রয়েছে। বেলজিয়ামের রাজা বোদুয়াঁ যখন তাঁর বক্তব্যে ঔপনিবেশিক শাসনের গুণগান গাইতে ব্যস্ত, তখন লুমুম্বা মঞ্চে দাঁড়িয়ে সিংহগর্জনে ঘোষণা করেছিলেন এক রূঢ় সত্য। তিনি বলেছিলেন, “আমাদের স্বাধীনতা কেউ উপহার দেয়নি, এই স্বাধীনতা আমরা রক্ত দিয়ে, সংগ্রাম করে অর্জন করেছি।” তাঁর সেই তেজদীপ্ত কণ্ঠস্বর সেদিন ঔপনিবেশিক প্রভুদের দম্ভকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিয়েছিল। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছিলেন, “আমরা আর আপনাদের বানর নই, আমরা এখন থেকে স্বাধীন মানুষ।” এই একটি ভাষণই তাঁকে রাতারাতি আফ্রিকান জাতীয়তাবাদের অবিসংবাদিত নেতায় পরিণত করেছিল, একই সাথে তিনি হয়ে উঠেছিলেন সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর চক্ষুশূল।
ষড়যন্ত্রের জাল এবং এক মহান শহীদের প্রস্থান
কিন্তু সাম্রাজ্যবাদী হায়েনারা এই অপমান মেনে নিতে পারেনি। লুমুম্বার এই স্পর্ধা, এই জাতীয়তাবাদী চেতনাকে তারা তাদের শোষণের পথে প্রধান অন্তরায় হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। শুরু হলো এক গভীর ষড়যন্ত্র। বেলজিয়ামের মদদে এবং মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-র প্রত্যক্ষ ইন্ধনে কঙ্গোর সেনাবাহিনীতে বিদ্রোহ উসকে দেওয়া হলো। লুমুম্বার একসময়ের বিশ্বস্ত সহযোগী জোসেফ মোবুতু, যিনি ছিলেন উচ্চাকাঙ্ক্ষী এবং বিশ্বাসঘাতক, তাঁকে ব্যবহার করা হলো লুমুম্বার বিরুদ্ধে। মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই লুমুম্বাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হলো, গৃহবন্দী করা হলো এবং অবশেষে তাঁকে তুলে দেওয়া হলো তাঁর চরম শত্রু মোয়াজ তাশেন এবং বেলজিয়ান জল্লাদদের হাতে।
১৯৬১ সালের ১৭ই জানুয়ারি। ইতিহাসের এক কালো দিন। মাত্র ৩৫ বছর বয়সে প্যাট্রিস লুমুম্বাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হলো। যে মানুষটি তাঁর দেশের মানুষের মুক্তির স্বপ্ন দেখেছিলেন, তাঁকে গুলি করে ঝাঁঝরা করে দেওয়া হলো। কিন্তু ঘাতকরা জানত, লুমুম্বার কবরও হয়ে উঠতে পারে বিপ্লবীদের তীর্থস্থান। তাই তারা তাঁর মৃতদেহকে অ্যাসিড দিয়ে গলিয়ে ফেলার ঘৃণ্য সিদ্ধান্ত নিল। কিন্তু তারা ভুলে গিয়েছিল, মানুষকে হত্যা করা যায়, কিন্তু তাঁর আদর্শকে হত্যা করা যায় না। লুমুম্বার শাহাদাত তাঁকে মৃত্যুঞ্জয়ী করে তুলল। তাঁর রক্তে রঞ্জিত হলো কঙ্গোর মাটি, আর সেই রক্ত থেকেই জন্ম নিল হাজারো লুমুম্বা।
মিশর ও আলজেরিয়া: প্যান-আফ্রিকানিজমের নিরাপদ দুর্গ ও লুমুম্বা পরিবারের আশ্রয়
লুমুম্বার শাহাদাতের পর তাঁর পরিবার এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। তাঁর স্ত্রী পলিন ওপাস এবং তাঁদের শিশু সন্তানরা তখন অসহায়। কঙ্গোতে তাঁদের জীবন বিপন্ন। ঠিক সেই মুহূর্তে, ইসলামের ভ্রাতৃত্ববোধ আর ইনসাফের এক অনন্য নজির স্থাপন করে এগিয়ে এলো মিশর। মিশরের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট এবং আরব জাতীয়তাবাদের মহান নেতা গামাল আবদেল নাসের লুমুম্বার পরিবারকে কায়রোতে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রদান করলেন।
এই ঘটনাটি কেবল একটি রাজনৈতিক আশ্রয়দানের ঘটনা ছিল না; এটি ছিল মুসলিম বিশ্বের সাথে প্যান-আফ্রিকান আন্দোলনের এক গভীর আত্মিক সম্পর্কের বহিঃপ্রকাশ। নাসের জানতেন, লুমুম্বার পরিবারকে রক্ষা করা মানে আফ্রিকান মুক্তির সংগ্রামকে রক্ষা করা। কায়রোতে লুমুম্বার সন্তানদের লেখাপড়া, নিরাপত্তা এবং বেড়ে ওঠার সমস্ত দায়িত্ব নিলেন নাসের। তিনি তাঁদের নিজের সন্তানের মতো স্নেহ ও নিরাপত্তা দিয়ে আগলে রাখলেন। লুমুম্বার সন্তানরা মিশরের আলো-বাতাসে বেড়ে উঠতে লাগলেন, শিখলেন আরবি ভাষা, আর তাঁদের হৃদয়ে প্রোথিত হলো এক অটুট বন্ধন,আফ্রিকা ও আরবের, কঙ্গো ও মিশরের।
মিশরের পাশাপাশি আলজেরিয়াও এই সময় এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আলজেরিয়া তখন ফরাসি ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে এক রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। আলজেরিয়ার বিপ্লবীরা লুমুম্বাকে তাঁদেরই একজন সহযোদ্ধা মনে করতেন। লুমুম্বার হত্যার পর আলজেরিয়ার রাজধানী আলজিয়ার্স হয়ে উঠল আফ্রিকার সমস্ত বিপ্লবীদের মিলনকেন্দ্র। বিখ্যাত ফরাসি-ক্যারিবিয়ান দার্শনিক এবং প্যান-আফ্রিকানিজমের অন্যতম তাত্ত্বিক ফ্রান্তজ ফানন তখন আলজেরিয়ায়। তিনি লুমুম্বার এই মর্মান্তিক পরিণতির পর লিখেছিলেন, “লুমুম্বার মৃত্যু কেবল কঙ্গোর ক্ষতি নয়, এটি সমগ্র আফ্রিকার স্বাধীনতার স্বপ্নের ওপর এক বিশাল আঘাত।” ফানন বিশ্বাস করতেন, লুমুম্বার রক্তই একদিন আফ্রিকাকে ঐক্যবদ্ধ করবে। আলজেরিয়া ও মিশরের এই ভূমিকা প্রমাণ করে যে, সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী লড়াইয়ে ধর্ম, বর্ণ বা ভাষার কোনো বিভেদ ছিল না; ছিল কেবল মজলুমের মুক্তির এক অভিন্ন লক্ষ্য।
প্রত্যাবর্তন এবং এক নতুন ভোরের প্রত্যাশা
বহু বছর পর, সময়ের চাকা ঘুরেছে। লুমুম্বার সেই ছোট ছেলে রোলান্ড লুমুম্বা আজ বৃদ্ধ। কিন্তু তাঁর স্মৃতিতে আজও উজ্জ্বল সেই দিনগুলো,কায়রোর দিনগুলো, নাসেরের স্নেহ, আলজেরিয়ার বিপ্লবীদের সমর্থন। তিনি যখন ব্রাসেলসে তাঁর পিতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন, তখন তাঁর সাথে থাকে সেই ইতিহাস, সেই সংগ্রাম আর সেই ত্যাগের স্মৃতি।
লুমুম্বার দেহাবশেষ, সেই একটিমাত্র দাঁত, যখন কঙ্গোর মাটিতে ফিরিয়ে আনা হলো, তখন তা ছিল এক মহাকাব্যিক মুহূর্ত। কঙ্গোর মানুষ তাদের প্রিয় নেতাকে ফিরে পেল, যদিও বা তা কেবল একটি স্মৃতিচিহ্ন। কিন্তু এই ফিরে আসা প্রমাণ করে, সত্যের জয় একদিন হবেই।
লুমুম্বার জীবন ও সংগ্রাম এই শাশ্বত সত্যেরই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। মিথ্যা অভিযোগে তাঁকে হত্যা করা হয়েছিল, মিথ্যা অপবাদ দিয়ে তাঁর চরিত্র হনন করা হয়েছিল। কিন্তু আজ ইতিহাসের আদালতে তিনি নির্দোষ, তিনি বিজয়ী। বেলজিয়ামের সরকার আজ বাধ্য হয়েছে ক্ষমা চাইতে, বাধ্য হয়েছে স্বীকার করতে তাদের পূর্বপুরুষদের কৃতকর্মের দায়।
ব্রাসেলসের সেই অনুষ্ঠানে, যখন লুমুম্বার আবক্ষ মূর্তির দিকে তাকিয়ে হাজারো মানুষ স্লোগান দিচ্ছিল, তখন মনে হচ্ছিল, লুমুম্বা যেন আবার ফিরে এসেছেন। তিনি ফিরে এসেছেন সেই তরুণদের মাঝে, যারা আজ বর্ণবাদের বিরুদ্ধে, বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়ছে। তিনি ফিরে এসেছেন সেই আফ্রিকানদের মাঝে, যারা আজও স্বপ্ন দেখে এক অখণ্ড, সমৃদ্ধ ও স্বাধীন আফ্রিকার। লুমুম্বার আদর্শ, তাঁর সাহস, তাঁর দেশপ্রেম,সবই আজ এক জীবন্ত শক্তিতে পরিণত হয়েছে।
লুমুম্বার এই "পুনরুত্থান" বা ফিরে আসা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, শহীদের রক্ত কখনও বৃথা যায় না। প্যান-আফ্রিকানিজম, যা একসময় কিছুটা স্তিমিত হয়ে পড়েছিল, আজ তা আবার নতুন করে জেগে উঠেছে। আর এই জাগরণের মূলে রয়েছে প্যাট্রিস লুমুম্বার মতো মহান বিপ্লবীদের আত্মত্যাগ। তাঁদের জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে, তাঁদের দেখানো পথে হেঁটেই হয়তো একদিন পৃথিবী থেকে সমস্ত শোষণ, বঞ্চনা আর পরাধীনতার অবসান ঘটবে। লুমুম্বা আজ আর কেবল একটি নাম নয়; তিনি আজ মুক্তির এক অবিনাশী গান, যা প্রতিটি মুক্তিকামী মানুষের হৃদয়ে চিরকাল ধ্বনিত হবে।
সাম্রাজ্যবাদের নখদন্ত উপেক্ষা করে, মৃত্যুভয়কে তুচ্ছ জ্ঞান করে প্যাট্রিস লুমুম্বা যে মশাল জ্বালিয়ে দিয়ে গেছেন, তা আজও পথ দেখাচ্ছে আফ্রিকা তথা সমগ্র বিশ্বের শোষিত মানুষকে। লুমুম্বার প্রতি এই শ্রদ্ধা নিবেদন তাই কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের, মিথ্যার বিরুদ্ধে সত্যের এবং পরাধীনতার বিরুদ্ধে স্বাধীনতার এক অনন্ত সংগ্রামের শপথ গ্রহণ।