নীলের তীরে নতুন সকালের প্রশ্ন: সিসির ঘোষণা, ফৌজি ছায়া আর এক আশাবাদী উম্মাহর ভাবনা
শাসকের মুখের কথা কতটা সত্য, তা সময় বলবে। কিন্তু যে ঘরে তিনি চাবি রেখে যাচ্ছেন, সে ঘরের দেয়ালগুলো আমরা আজই দেখে নিতে পারি।
নীল নদের ওপর যখন সন্ধ্যা নামে, তখন জলের বুকে যুগ-যুগান্তের ছায়া ভাসে। ফেরাউনের প্রস্তরস্তম্ভ, ইউসুফের স্মৃতি, আজহারের মিনারের আজান, তাহরির চত্বরের কোলাহল, সবই যেন একই স্রোতে মিশে যায়। সেই নদীর পাড়ে এই অক্টোবরে একটি ঘোষণা উচ্চারিত হয়েছে। ১৭ তারিখে নতুন প্রশাসনিক রাজধানীর সামরিক একাডেমির সমাবর্তনে প্রেসিডেন্ট আবদুল ফাত্তাহ আল-সিসি বললেন, ২০৩০ সালে তাঁর মেয়াদ ফুরোবে। বিষয়টি তাঁর ভাষায় "সম্পূর্ণ মীমাংসিত", আর সংবিধানে হাত দেওয়া হবে না।
এই কথা শুনে কেউ আশায় বুক বেঁধেছেন, কেউ সংশয়ে মাথা নেড়েছেন। আমি দুয়ের কোনোটাই করতে চাই না। আমি শুধু ধীরে বসে ভাবতে চাই: একজন মানুষের বিদায়ের চেয়ে বড় কথা, তিনি কেমন ঘর গড়ে রেখে যাচ্ছেন, আর সে ঘরের জানালা খোলা থাকবে কি না।
খবরের স্টুডিওতে বসা যে মুখগুলো এ নিয়ে আলোচনা করে, তাদের অনেকের ভাষা আমাদের চেনা। মুসলিম দেশের যে কোনো রাজনৈতিক সংকটে তারা ভুরু কুঁচকে বলে, "ওদের ভাগ্যই এমন। হয় সৈনিক, নয় ইসলামপন্থী; হয় স্বৈরাচার, নয় অরাজকতা।" এই ছকবাঁধা, বিষাক্ত, অলস গল্পটাকে আমরা মানি না। কারণ এ গল্প একদিকে মুসলমানকে করে তোলে জন্মগত অযোগ্য, অন্যদিকে ঢেকে রাখে ক্ষমতার আসল কারবারিদের চেহারা। মিশর কোনো অভিশপ্ত ভূমি নয়। মিশর এক জীবন্ত সভ্যতা, আর তার কথা শেষ হয়নি।
আগে স্পষ্ট করে বলি: সমস্যাটা ইসলাম নয়, সমস্যাটা ক্ষমতার নকশা
আমাদের কাছে আলোচনার কেন্দ্রে ইসলাম নেই, আছে একটি রাজনৈতিক বন্দোবস্ত। এ কথা জোর দিয়ে বলা দরকার, কারণ মুসলিম বিশ্বের যে কোনো ব্যর্থতাকে ধর্মের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতা এখন প্রায় ফ্যাশন। অথচ ইসলামের রাজনৈতিক ঐতিহ্যে শুরা বা পরামর্শ আছে, আদল বা ন্যায় আছে, জবাবদিহির কথা আছে। যে শাসক নিজের কাজের হিসাব দিতে নারাজ, তার সঙ্গে দ্বীনের সম্পর্ক কোথায়? মিশরের সংকটকে তাই "মুসলিম মানসের সংকট" না বলে বলা উচিত এক বিশেষ ক্ষমতা-কাঠামোর সংকট, যে কাঠামো ইসলামি আদর্শ থেকেও দূরে, আধুনিক গণতান্ত্রিক আদর্শ থেকেও।
কথার ইতিহাস, প্রতিশ্রুতির ওজন
সিসির নতুন কথা বুঝতে হলে তাঁর পুরোনো কথাগুলোর দিকে ফিরতে হয়। ২০১৩ সালে মিশরের প্রথম নির্বাচিত নেতা মুহাম্মদ মুরসিকে উৎখাত করে তিনি পরের বছর প্রেসিডেন্ট হলেন। ক্ষমতায় আসার আগে তিনি রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা অস্বীকার করেছিলেন, অথচ ২০১৪ সালে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদ ছেড়ে তিনি নির্বাচনে নেমে জিতলেন।
২০১৪ সালের সংবিধানে ছিল চার বছরের দুই মেয়াদের সীমা। ২০১৯ সালের গণভোটের সংশোধনীতে মেয়াদ হলো ছয় বছর, আর সিসির জন্য আরও এক মেয়াদের সুযোগ রাখা হলো; ২০২৩ সালে পুনর্নির্বাচিত হয়ে তাঁর মেয়াদ গিয়ে ঠেকল ২০৩০-এ। আল জাজিরার লেখক অধ্যাপক মোহাম্মদ এলমাসরি স্মরণ করিয়েছেন, ২০১৭ সালে সিসি বলেছিলেন দুই মেয়াদের সীমা তিনি রাখবেন, অথচ ২০১৯-এ সংশোধনীর উদ্যোগে তিনি নিজেই নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ২০৩০ সালে পৌঁছালে তাঁর ক্ষমতায় থাকার সময় হবে ষোলো বছর। তাই সংশয়ীরা যদি প্রশ্ন তোলেন, এবারের প্রতিশ্রুতি কতটা ওজনদার, তাঁদের দোষ দেওয়া যায় না।
তিনটি পাঠ: আমরা কোনটি পড়ি?
এলমাসরি ঘোষণার তিনটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
প্রথম, এটি জনসমর্থন আদায়ের কৌশল। কেউ ভাবছেন, সিসি হয়তো কথা ফিরিয়ে নেবেন; এক বিচার-বিভাগীয় সূত্র মাদা মাসর-কে বলেছে, ঘোষণাটি "জনগণের ডাক"-এর দরজা খোলা রেখেছে।
দ্বিতীয়, সেনাবাহিনীর আঘাত আসার আগেই তিনি সরে দাঁড়াতে চাইছেন। অর্থনীতি আরও টললে সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা বাড়তে পারে, যেমন ২০১১ সালে মোবারকের বেলায় ঘটেছিল। এক সংসদ সদস্য নাকি তাঁকে ব্যক্তিগত বৈঠকে বলতে শুনেছেন, সেনাদের হাতে বিতাড়িত হওয়ার চেয়ে নিজে সরে যাওয়াই শ্রেয়। এটি অনুমান, প্রমাণ নয়।
তৃতীয়, এলমাসরির কাছে সবচেয়ে সম্ভাব্যটি: সিসি এমনভাবে প্রস্থান করতে চান, যাতে তাঁর পরেও মিশরের সামরিক-নিয়ন্ত্রিত রাজনৈতিক ব্যবস্থা টিকে থাকে। আমরা এই তৃতীয় পাঠটিকেই গুরুত্ব দিয়ে পড়ব, কারণ সবচেয়ে গভীর প্রশ্নটি এখানেই।
সংবিধানের ধারাগুলো: অভিভাবক, না অভিভাবকত্বের দাবি?
সিসি তারিখ ঘোষণার সঙ্গে সংবিধানের একটি ধারার কথাও বলেছেন। বক্তৃতায় তিনি জানান, ২০১৯-এর সংশোধনীতে ২০০ নম্বর অনুচ্ছেদ রাখার জন্য তিনি নিজেই জোর দিয়েছিলেন; চ্যাথাম হাউসের ভাষ্যে, এই ধারা কার্যত সেনাবাহিনীকে দেশের জাতীয় ও ধর্মনিরপেক্ষ পরিচয় এবং শাসনব্যবস্থার অভিভাবক করে।
ধারাটিতে সেনাবাহিনীর দায়িত্ব বলা হয়েছে "গণতন্ত্র" এবং জনগণের "অর্জন, অধিকার ও স্বাধীনতা" রক্ষা করা। কথাগুলো সুন্দর। কিন্তু একজন সচেতন নাগরিক প্রশ্ন করবেন, রক্ষকের পরিচয় কে ঠিক করে? কার্নেগির বিশ্লেষণ বলছে, বিক্ষোভ উঠলে বা নির্বাচনের ফল সংবিধান, গণতন্ত্র বা রাষ্ট্রের নাগরিক চরিত্রের জন্য হুমকি মনে হলে সেনাবাহিনী পদক্ষেপ নিতে পারে, অথচ এসব মানদণ্ডের স্পষ্ট সংজ্ঞা সংবিধান বা আইনে নেই। সঙ্গে আছে আরও দুটি বিধান। ২৩৪ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রতিরক্ষামন্ত্রী নিয়োগে প্রেসিডেন্টকে সশস্ত্র বাহিনীর সর্বোচ্চ পরিষদের অনুমোদন নিতে হয়। আর ২০৩ নম্বর অনুচ্ছেদ সামরিক বাজেট পর্যালোচনা বা অনুমোদনের অধিকার কোনো বেসামরিক সংস্থাকে দেয় না।
ইসলামের ইতিহাস শিক্ষা দেয়, যে শক্তি জবাবদিহির বাইরে, সে শক্তি যত সদিচ্ছাতেই চলুক, শেষে নিজের ওজনেই টলে যায়। হিসাব-নিকাশ থেকে মুক্ত কোনো প্রতিষ্ঠানই "আমানত"-এর পরীক্ষায় উতরোতে পারে না।
একাডেমির প্রস্তাব: নেতা-নির্মাণের কারখানা
সবচেয়ে নতুন প্রস্তাবটি ভবিষ্যৎ নেতা বাছাই নিয়ে। সিসি বললেন, দেশ-বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট করা এক হাজার পর্যন্ত প্রার্থীকে সামরিক একাডেমি ৩০ মাসের কোর্সে ডাকবে, শেখানো হবে "রাষ্ট্র কী এবং কীভাবে তাকে রক্ষা করতে হয়"। এই কর্মসূচি স্নাতকদের প্রস্তুত করবে প্রেসিডেন্সি থেকে মন্ত্রণালয়, গভর্নরেট ও সংসদ পর্যন্ত নানা দায়িত্বের জন্য; জনগণ নাকি তাদের মধ্য থেকেই "নির্বাচন করে বেছে নেবে", কিন্তু প্রার্থীরা কীভাবে সামনে আসবেন, তার বিবরণ তিনি দেননি। সংসদের স্পিকারের তত্ত্বাবধানে একটি কমিটি মানদণ্ড ও আইনের খসড়া তৈরি করবে। এলমাসরির বর্ণনায়, আবেদনকারীর বয়স হবে ৪০ থেকে ৫০ বছর, থাকতে হবে ডক্টরেট ডিগ্রি, আর একাডেমিতে কাটাতে হবে ৩০ মাস।
এখানে আমরা দুটি কথা বলব, একটি স্বীকৃতির, একটি প্রশ্নের।
স্বীকৃতি এই যে, জ্ঞানের প্রতি সম্মান ইসলামি সভ্যতার প্রাণ। পিএইচডিধারীদের রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য প্রস্তুত করার ধারণায় মূলত কোনো দোষ নেই। সমর্থকরা সঙ্গতভাবেই বলতে পারেন, অনেক দেশেই প্রশাসক গড়তে বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান থাকে। সিসি নিজে বলেছেন, রাষ্ট্র নিজের সন্তানদের দিয়ে পূর্ণ হয়ে দায়িত্ব নেওয়ার যোগ্য মানুষে ভরে না ওঠা পর্যন্ত তিনি রাষ্ট্র ছেড়ে যাবেন না।
প্রশ্নটি এই: এই নেতা-নির্মাণের প্রতিষ্ঠানটি সামরিক, আর সামরিক ও বেসামরিক উভয় ধরনের প্রার্থী আবেদন করতে পারবেন কি না, সিসি তা বলেননি; ফলে তাঁরই মতো আরেক সেনা-কর্মকর্তার ২০৩০-এ লড়ার দরজা খোলা থাকল। একাডেমি যদি একমাত্র ফটক হয়ে যায়, তবে বাইরে থাকা যোগ্য আলেম, অধ্যাপক, চিকিৎসক, প্রকৌশলীর জায়গা কোথায়? জ্ঞান কি শুধু একটি দরজা দিয়েই প্রবেশ করে?
এ নকশা কার স্বার্থে?
এলমাসরির ভাষ্য ধারালো: সত্যিকারের স্বাধীন বেসামরিক প্রেসিডেন্ট ২০১৩-র অভ্যুত্থানের পরের হত্যাযজ্ঞ বা দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত চাইতে পারেন, কিন্তু সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রিত পালাবদল থেকে তেমন কিছু আসার সম্ভাবনা কম। তবে এটি এক বিশ্লেষকের পাঠ, সিসির নিজস্ব ঘোষিত উদ্দেশ্য নয়। তাঁর যুক্তি স্থিতিশীলতা। রয়টার্স জানাচ্ছে, সাম্প্রতিক দিনে তিনি বারবার রাষ্ট্রকে দুর্বল করার চেষ্টার বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন এবং বলেছেন, রাষ্ট্র ভেঙে পড়লে মিশর আর উঠে দাঁড়াতে পারবে না। এই উদ্বেগকে হালকা করে দেখা অন্যায় হবে। প্রতিবেশী অনেক দেশের ধ্বংসস্তূপ মিশরীয়দের চোখের সামনেই আছে।
কিন্তু একজন আশাবাদী চিন্তাবিদ জানেন, স্থিতি আর স্তব্ধতা এক জিনিস নয়। স্থিতি আসে ন্যায় থেকে, আস্থা থেকে। স্তব্ধতা আসে ভয় থেকে। প্রথমটি দীর্ঘস্থায়ী, দ্বিতীয়টি ফাটলের অপেক্ষায়।
পেটের প্রশ্ন, মর্যাদার প্রশ্ন
রাজনীতির নিচে চলে অর্থনীতির স্রোত। ছবিটি এখানে মিশ্র, আর মিশ্র ছবিই সৎ ছবি।
আশার আলো: অক্টোবরে ফিচ মিশরের রেটিং "বি" স্থিতিশীল আউটলুকসহ বহাল রেখেছে এবং ২০২৬/২৭ অর্থবছরে ৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে; ইরান যুদ্ধের পর নমনীয় বিনিময় হার অর্থনীতিকে চাপ সামলাতে সাহায্য করেছে বলেও তারা উল্লেখ করেছে। অক্টোবরের এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী আগস্টে শহুরে মূল্যস্ফীতি নেমে ১৪.৫ শতাংশে এসেছে এবং রিজার্ভ রেকর্ড ৫৭.২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যদিও পাউন্ড দুর্বল হয়ে ডলারপ্রতি প্রায় ৫২.৩-এ নেমেছে। আইএমএফ ২০২৬ সালে ৫.১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেখছে, তবে মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস এপ্রিলের চেয়ে ৩.৬ শতাংশ-বিন্দু বাড়িয়ে সতর্ক করেছে, তা প্রত্যাশার চেয়ে ধীরে কমবে। মিশরীয় শ্রমিক, ব্যবসায়ী আর প্রবাসী যে ঘাম ঝরাচ্ছেন, এসব তারই সম্ভাবনা।
শঙ্কার মেঘ: মিশরীয় মানবাধিকার সংগঠন ইআইপিআরের বিশ্লেষণ বলছে, ২০২৬-২৭ বাজেটে ঋণের দায়, কিস্তি ও সুদ মিলিয়ে মোট ব্যয়ের দুই-তৃতীয়াংশ খেয়ে ফেলছে। ফিচ নিজেও চিহ্নিত করেছে উচ্চ সরকারি ঋণ, চড়া ঋণ-পরিশোধ ব্যয়, বড় বহির্খাতের অর্থসংস্থানের প্রয়োজন, মূল্যস্ফীতি ও ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি। এলমাসরির আরও কড়া অভিযোগ: ২০১৪ থেকে ডলারের বিপরীতে পাউন্ড ৮০ শতাংশের বেশি মূল্য হারিয়েছে এবং ক্রমপুঞ্জিত মূল্যস্ফীতি ৪৬০ শতাংশ ছাড়িয়েছে। এগুলো তাঁর দাবি; সরকারি ভাষ্য ভিন্ন হতে পারে।
আর সেনাবাহিনীর অর্থনৈতিক ভূমিকা? সিসির আমলে অর্থনীতিতে সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ নাটকীয়ভাবে বেড়েছে; প্রকৃত মালিকানা কেউ জানে না, অনুমান ৩ থেকে ২০ শতাংশের মধ্যে। আটলান্টিক কাউন্সিলের লেখায় কোনো কোনো আন্দাজ ৪০ শতাংশ পর্যন্ত গেছে। হিসাবের এই অস্পষ্টতাই সমস্যা। ইসলাম যে স্বচ্ছতার, সাক্ষী-সাবুদের আর আমানতের শিক্ষা দেয়, এখানে তার অভাব চোখে পড়ে।
যাঁরা কারাগারে, তাঁরা আমাদেরই ভাই-বোন
এই আলোচনায় একটি অধ্যায় আমরা এড়িয়ে যেতে পারি না। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর হিসাবে সিসির আমলে রাজনৈতিক ভিন্নমতের কারণে কয়েক দশ হাজার মানুষ কারাবন্দি হয়েছেন; মিশরীয় কর্মকর্তারা রাজনৈতিক বন্দি থাকার কথা অস্বীকার করেন। ২০২৩-এর নির্বাচনে সিসির সবচেয়ে বিশিষ্ট প্রতিদ্বন্দ্বী আহমেদ তানতাভিও পরে কারাদণ্ড পেয়েছেন। এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলো "ঘূর্ণি-দরজা" ব্যবস্থার অভিযোগ তোলে, যেখানে বিচারাধীন বন্দির আটকের সর্বোচ্চ সময় ফুরোলে নতুন অভিযোগ এনে তাকে আটকে রাখা হয়।
এখানে একটি কথা পরিষ্কার বলা দরকার। ব্রাদারহুডের রাজনৈতিক কর্মকৌশল নিয়ে মুসলিমদের ভেতরেই মতভেদ আছে, থাকবেও। কিন্তু একজন মানুষ কারাগারে পচবে কি না, তা কোনো দলীয় সমর্থনের প্রশ্ন নয়, এ বিচারের প্রশ্ন। কুরআন বলে, কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ যেন তোমাদের ন্যায়বিচার থেকে সরিয়ে না দেয়। ইসলামপন্থী, বামপন্থী, উদারপন্থী, কিংবা কোনো দলের সঙ্গেই যুক্ত নয় এমন সাংবাদিক ও কর্মী, সবার জন্যই ন্যায্য বিচার চাওয়াই আমাদের দ্বীনি ও মানবিক অবস্থান।
আঞ্চলিক ঝড় আর ঐক্যের প্রয়োজন
সিসির ভাষণ কেবল ঘরোয়া ছিল না। সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যে কোনো পদক্ষেপ নিতে মিশর প্রস্তুত বলে তিনি ঘোষণা দেন। চ্যাথাম হাউস জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে তিনি হুথি হামলার বিরুদ্ধে সৌদি আরবকে রক্ষায় সেনা মোতায়েনের জন্য সংসদের অনুমতি চেয়েছেন। উম্মাহর ঐক্য ও পারস্পরিক সহযোগিতার ডাক ইসলামে নতুন নয়। কিন্তু আমাদের প্রার্থনা, এই সহযোগিতা যেন যুদ্ধের উসকানিতে নয়, শান্তি ও নিরাপত্তার পথে এগোয়, আর যেন কোনো সংকটকে অজুহাত বানিয়ে ঘরের গণতান্ত্রিক পরিসর আরও সংকুচিত না হয়।