ইসরায়েলের আরব রাজনৈতিক দলগুলোর উত্থান: ভারতীয় মুসলিমদের জন্য শিক্ষা, আত্মসমালোচনা ও সতর্কবার্তা

রাজনীতিতে জনসংখ্যা গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু জনসংখ্যাই রাজনৈতিক শক্তির একমাত্র ভিত্তি নয়। একটি জনগোষ্ঠী কতটা সচেতন, কতটা সংগঠিত, তাদের নেতৃত্ব কতটা যোগ্য এবং তারা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় কতটা সক্রিয়-এসব বিষয়ও রাজনৈতিক প্রভাব নির্ধারণ করে। ইসরায়েলের ২০২৬ সালের নির্বাচন এই বাস্তবতাকে নতুন করে সামনে এনেছে।

৩০ অক্টোবর প্রকাশিত চূড়ান্ত নির্বাচনী হিসাব অনুযায়ী, ইসরায়েলের ১২০ সদস্যের পার্লামেন্ট নেসেটে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক ব্লক পেয়েছে ৫৩টি আসন, গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী ব্লক পেয়েছে ৪৮টি আসন এবং আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো পেয়েছে সম্মিলিতভাবে ১৯টি আসন। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬১টি আসন। ফলে কোনো বড় রাজনৈতিক ব্লকই এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। এই পরিস্থিতিতে আরব দলগুলোর সমর্থন ও সহযোগিতা সরকার গঠনের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আরব রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের ইতিহাসে এই ফলাফল একটি অনন্য দৃষ্টান্ত। কিন্তু এই ঘটনাকে শুধু ‘মুসলিমদের রাজনৈতিক বিজয়’ হিসেবে দেখা যথেষ্ট নয়। বরং এর মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক সচেতনতা, ঐক্য, বাস্তববাদ, নৈতিক অবস্থান এবং সংখ্যালঘু রাজনীতির নানা জটিল শিক্ষা। ভারতীয় মুসলিমদের জন্য এই নির্বাচন যেমন অনুপ্রেরণার উৎস হতে পারে, তেমনি এটি আত্মসমালোচনারও একটি সুযোগ।

জনসংখ্যাকে নাগরিক শক্তিতে রূপান্তর:

ইসরায়েলের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল প্রায় ৭৭.৯ শতাংশ, যা কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো সম্মিলিতভাবে ১৯টি আসন পেয়েছে। ২০২০ সালের নির্বাচনে আরব দলগুলোর সর্বোচ্চ আসনসংখ্যা ছিল ১৫। অর্থাৎ এবারের ফলাফল তাদের সংসদীয় প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে একটি নতুন রেকর্ড তৈরি করেছে।

এই ফলাফলের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, ভোটারদের অংশগ্রহণ রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিতে পারে। জনসংখ্যার একটি অংশ যদি নিজেদের ভোটাধিকার যথাযথভাবে প্রয়োগ করে, তাহলে তারা জাতীয় রাজনীতির আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

ভারতীয় মুসলিমদের জন্যও এই শিক্ষা প্রাসঙ্গিক। ভারতের মুসলিম সমাজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ শুধু জনসংখ্যার হিসাব দিয়ে নির্ধারিত হবে না। ভোটারদের সচেতনতা, নির্বাচনে অংশগ্রহণ, রাজনৈতিক শিক্ষা এবং স্থানীয় পর্যায়ে সংগঠিত নাগরিক উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে এখানে একটি সতর্কতা জরুরি- বেশি ভোট দেওয়া মানেই রাজনৈতিকভাবে সফল হওয়া নয়। ভোটের পাশাপাশি যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন, জনস্বার্থের দাবি তৈরি এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের জবাবদিহির আওতায় রাখাও প্রয়োজন।

 ঐক্য মানে মতাদর্শের অভিন্নতা নয়:

ইসরায়েলের আরব নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে জয়েন্ট লিস্ট এবং রা'আম বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। তাদের রাজনৈতিক অবস্থান, কৌশল এবং বৃহত্তর রাজনৈতিক ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্ক এক নয়। তবু নির্বাচনে তারা সম্মিলিতভাবে উল্লেখযোগ্য প্রতিনিধিত্ব অর্জন করেছে।

এখানে ভারতীয় মুসলিমদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা রয়েছে- ঐক্য মানে সবাইকে একই রাজনৈতিক দল, সংগঠন বা মতাদর্শের অনুসারী হতে হবে, এমন নয়। মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও সাধারণ স্বার্থে সহযোগিতা করা সম্ভব।

ভারতীয় মুসলিম সমাজেও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন, রাজনৈতিক দল, শিক্ষিত তরুণ এবং বিভিন্ন পেশার মানুষের মধ্যে নানা মতপার্থক্য রয়েছে। কিন্তু শিক্ষা, কর্মসংস্থান, সাংবিধানিক অধিকার, সামাজিক নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের মতো বিষয়ে সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব। তবে ঐক্যের নামে অন্ধ আনুগত্য বা নেতৃত্বের ভুলকে সমর্থন করা উচিত নয়। প্রকৃত ঐক্য গড়ে ওঠে পারস্পরিক সম্মান, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং সাধারণ মানুষের কল্যাণের ভিত্তিতে।

শুধু প্রতিনিধিত্ব নয়, চাই নীতিনির্ধারণী ক্ষমতা:

ইসরায়েলের নির্বাচনে আরব দলগুলোর ১৯টি আসন তাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় অবস্থানে নিয়ে এসেছে। কোনো বড় ব্লকই ৬১টি আসন অর্জন করতে পারেনি। ফলে সরকার গঠনের আলোচনায় আরব দলগুলোর অবস্থান তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এখানে একটি বিষয় বুঝতে হবে- সংসদে আসন পাওয়া এবং বাস্তবে জনগণের সমস্যা সমাধান করতে পারা এক বিষয় নয়। রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব তখনই অর্থবহ হয়, যখন প্রতিনিধিরা শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা, নাগরিক অধিকার এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের মতো বিষয়গুলোতে বাস্তব পরিবর্তন আনতে পারেন।

ভারতীয় মুসলিমদেরও শুধু সংসদ বা বিধানসভায় প্রতিনিধির সংখ্যা বাড়ানোর দিকে নজর দিলে চলবে না। প্রতিনিধিরা কী কাজ করছেন, কোন নীতির পক্ষে কথা বলছেন এবং জনগণের সমস্যা সমাধানে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখছেন- এসব বিষয়কে গুরুত্ব দিতে হবে।

রাজনৈতিক নেতৃত্বের মূল্যায়ন হওয়া উচিত তার কাজ ও নীতির ভিত্তিতে, শুধু পরিচয় বা বক্তব্যের ভিত্তিতে নয়।

রাজনৈতিক বাস্তববাদ জরুরি, কিন্তু নৈতিক অবস্থান বিসর্জন দিয়ে নয়

ইসরায়েলের আরব দলগুলোর সামনে এখন একটি জটিল রাজনৈতিক প্রশ্ন- তারা কি সরকার গঠনের আলোচনায় কোনো পক্ষকে সমর্থন করবে, নাকি বাইরে থেকে সহযোগিতা করবে? তাদের সমর্থনের বিনিময়ে কী ধরনের নীতিগত প্রতিশ্রুতি নেওয়া হবে? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর তাদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ভূমিকা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ। এখানে ‘কিংমেকার’ শব্দটি আকর্ষণীয় হলেও বাস্তবতা আরও জটিল। ১৯টি আসন থাকলেই কোনো দল স্বয়ংক্রিয়ভাবে ক্ষমতাশালী হয়ে যায় না। অন্য দলগুলোর সহযোগিতার ইচ্ছা, নিজেদের মধ্যে ঐক্য, রাজনৈতিক শর্ত এবং সরকার গঠনের সম্ভাব্য সমীকরণ- সবকিছুই বিবেচ্য।

ভারতীয় মুসলিমদের জন্যও বাস্তববাদী রাজনীতি জরুরি। কিন্তু বাস্তববাদ মানে নীতিহীন সমঝোতা নয়। কোনো রাজনৈতিক দল বা জোটের সঙ্গে সহযোগিতার আগে দেখতে হবে, তারা সংবিধান, নাগরিক অধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা, সংখ্যালঘু নিরাপত্তা এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রশ্নে কী অবস্থান গ্রহণ করছে।

ইসলামি নৈতিকতার দৃষ্টিতেও ন্যায়বিচার একটি মৌলিক মূল্যবোধ। কুরআনে বলা হয়েছে- হে মুমিনগণ! তোমরা ন্যায়বিচারের ওপর দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত থাকো এবং আল্লাহর জন্য সাক্ষ্যদাতা হও, যদিও তা তোমাদের নিজেদের বা পিতা-মাতা ও আত্মীয়স্বজনের বিরুদ্ধে যায়। -(সুরা আন-নিসা, ৪:১৩৫) অতএব, রাজনৈতিক সমঝোতা হতে পারে, কিন্তু তা যেন ন্যায়বিচার ও মৌলিক মানবিক অধিকারের প্রশ্নে নীরবতার বিনিময়ে না হয়।

ফিলিস্তিন প্রশ্ন ও নৈতিকতার পরীক্ষা:

ইসরায়েলের নির্বাচনে আরব দলগুলোর আসন বৃদ্ধি ফিলিস্তিনের মানুষের অধিকার, গাজা পরিস্থিতি এবং ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের প্রশ্নকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট রাখা দরকার- আরব নাগরিকদের সংসদীয় প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি পেলেই ফিলিস্তিনিদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে -এমন নিশ্চয়তা নেই।

ইসরায়েলের আরব নাগরিকদের নিজেদের নাগরিক অধিকার, শিক্ষা, নিরাপত্তা, অপরাধ, আবাসন ও অর্থনৈতিক বৈষম্যের মতো অভ্যন্তরীণ সমস্যাও রয়েছে। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের অধিকার ও নিরাপত্তার প্রশ্নও বৃহত্তর রাজনৈতিক বাস্তবতার অংশ।

তাই আরব দলগুলোর রাজনৈতিক সাফল্যকে মূল্যায়ন করতে হলে দেখতে হবে, তারা সংসদীয় অবস্থান ব্যবহার করে বাস্তবে কী পরিবর্তন আনতে পারে। তারা কি বৈষম্যের বিরুদ্ধে কথা বলতে পারবে? ফিলিস্তিনি মানুষের ন্যায্য অধিকার ও মানবিক মর্যাদার পক্ষে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে? নাকি সরকার গঠনের সমীকরণে তাদের আসনসংখ্যাই শেষ পর্যন্ত প্রধান আলোচ্য হয়ে থাকবে?

এখানে ভারতীয় মুসলিমদের জন্যও একটি শিক্ষা রয়েছে- রাজনৈতিক সাফল্যের মূল্যায়ন শুধু ক্ষমতার কাছাকাছি পৌঁছানোর মাধ্যমে করা যায় না। ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা এবং দুর্বল মানুষের অধিকার রক্ষায় সেই ক্ষমতা কতটা ব্যবহৃত হচ্ছে, সেটিই বড় প্রশ্ন।

মুসলিম বনাম আরব নেতৃত্ব: পরিচয়ের সতর্কতা:

এই আলোচনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিভাষাগত বিষয়ও মনে রাখা দরকার। ইসরায়েলের সব আরব নাগরিক মুসলিম নন। সেখানে আরব মুসলিমদের পাশাপাশি খ্রিস্টান, দ্রুজ এবং অন্যান্য পরিচয়ের মানুষও রয়েছেন। একইভাবে জয়েন্ট লিস্ট ও রা'আমকে এক ধরনের রাজনৈতিক দল হিসেবেও দেখা যায় না, তাদের রাজনৈতিক অবস্থান ও কৌশলে পার্থক্য রয়েছে।

তাই ১৯টি আসনকে সরাসরি ‘ইসরায়েলের মুসলিমদের ১৯টি আসন’ বলা যথাযথ নয়। বরং ‘আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর ১৯টি আসন’ বলা বেশি নির্ভুল।

এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ রাজনৈতিক বিশ্লেষণে তথ্যের যথার্থতা বজায় রাখা জরুরি। কোনো জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিতে হলে প্রথমে তাদের পরিচয়, রাজনৈতিক বৈচিত্র্য এবং বাস্তব অবস্থান সঠিকভাবে বুঝতে হবে।

শুধু অভিযোগ নয়, প্রতিষ্ঠান গড়ার আত্মসমালোচনা:

ভারতীয় মুসলিম সমাজের রাজনৈতিক আলোচনায় প্রায়ই প্রতিনিধিত্বের অভাব, বৈষম্য, নিরাপত্তা ও অধিকার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এসব উদ্বেগের বাস্তব গুরুত্ব রয়েছে। কিন্তু শুধু অভিযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসবে না।

প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি। যেমন- শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং উচ্চশিক্ষায় অংশগ্রহণ বৃদ্ধি। আইন, প্রশাসন, সাংবাদিকতা, অর্থনীতি ও গবেষণায় দক্ষ নেতৃত্ব তৈরি। তরুণদের সংবিধান, গণতন্ত্র ও নাগরিক অধিকার সম্পর্কে সচেতন করা। স্থানীয় সমস্যার সমাধানে সামাজিক সংগঠন ও নাগরিক উদ্যোগ শক্তিশালী করা। রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের কাজের মূল্যায়ন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা। অন্যান্য সম্প্রদায়ের সঙ্গে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে তোলা। বিশেষ করে শিক্ষিত তরুণদের শুধু নির্বাচনী প্রচারণার কর্মী হিসেবে নয়, বরং ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারক, গবেষক, আইনজ্ঞ, প্রশাসক ও সামাজিক নেতৃত্ব হিসেবে গড়ে তোলা জরুরি।

ইসরায়েলি মডেল ভারতের জন্য অননুকরণীয়:

ইসরায়েল ও ভারতের রাজনৈতিক ব্যবস্থা এক নয়। ইসরায়েলে নেসেটের নির্বাচন মূলত জাতীয় পর্যায়ের আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে হয়। অন্যদিকে ভারতের লোকসভা নির্বাচন নির্দিষ্ট নির্বাচনী এলাকার ভিত্তিতে পরিচালিত হয়, যেখানে সাধারণত সর্বাধিক ভোটপ্রাপ্ত প্রার্থী নির্বাচিত হন। দুই দেশের ইতিহাস, জনসংখ্যার গঠন, রাজনৈতিক দলব্যবস্থা, সামাজিক বাস্তবতা এবং সংখ্যালঘুদের অবস্থানও আলাদা। ফলে ইসরায়েলের আরব দলগুলোর নির্বাচনী কৌশল ভারতীয় মুসলিমদের ক্ষেত্রে হুবহু প্রয়োগ করা সম্ভব নয়।

ভারতের মুসলিমদের নিজেদের সাংবিধানিক কাঠামো, সামাজিক বাস্তবতা এবং নির্বাচনী ব্যবস্থার আলোকে রাজনৈতিক পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। অন্য দেশের অভিজ্ঞতা থেকে নীতি ও শিক্ষা নেওয়া যায়, কিন্তু অন্ধ অনুকরণ কোনো সমাধান নয়।

উপসংহার: 

ইসরায়েলের ২০২৬ সালের নির্বাচনে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর ১৯টি আসন অর্জন একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনা। এটি দেখিয়েছে, ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণ, রাজনৈতিক সংগঠন এবং সংসদীয় প্রতিনিধিত্ব একটি জনগোষ্ঠীকে জাতীয় রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় নিয়ে আসতে পারে।

তবে এই সাফল্যকে অতিরঞ্জিত করাও ঠিক হবে না। ১৯টি আসন রাজনৈতিক দর-কষাকষির সুযোগ তৈরি করেছে, কিন্তু তা নিজে থেকেই ন্যায়বিচার, বৈষম্য দূরীকরণ কিংবা ফিলিস্তিনিদের অধিকার প্রতিষ্ঠার নিশ্চয়তা দেয় না। রাজনৈতিক প্রভাবের প্রকৃত মূল্য নির্ধারিত হবে সেই প্রভাব কী উদ্দেশ্যে এবং কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে তার মাধ্যমে।

ভারতীয় মুসলিমদের জন্য তাই সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো- শুধু জনসংখ্যা বা আবেগের ওপর নির্ভর না করে জ্ঞান, শিক্ষা, সংগঠন, যোগ্য নেতৃত্ব, নাগরিক অংশগ্রহণ এবং নৈতিক রাজনৈতিক অবস্থান গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে অন্য সম্প্রদায়ের সঙ্গে গণতান্ত্রিক সহযোগিতা বজায় রাখতে হবে। রাজনীতিতে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্য কেবল ক্ষমতার অংশীদার হওয়া নয়  বরং মানুষের অধিকার রক্ষা, বৈষম্য দূর করা এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখা।

Related Posts

Leave A Comment

Voting Poll

Get Newsletter