নীরবতার ভাষা ও কূটনৈতিক ভারসাম্য: মার্কিন–ভেনেজুয়েলা সংকটে ভারত
বিশ্ব রাজনীতির ইতিহাসে এমন মুহূর্ত বারবার এসেছে, যখন শক্তির প্রকাশ ও নৈতিকতার দাবি মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। সামরিক ক্ষমতা, রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব এবং আন্তর্জাতিক আইনের সূক্ষ্ম ভারসাম্য, এই ত্রিবেণী সঙ্গমেই জন্ম নেয় আধুনিক কূটনৈতিক সংকট। একবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় দশকের শেষে এসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে উদ্ভূত সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা সেই চিরচেনা বাস্তবতারই এক নতুন রূপ। এই প্রেক্ষাপটে ভারতের অবস্থান বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, তা উচ্চকণ্ঠে উচ্চারিত কোনো পক্ষপাত নয়, বরং সংযত কণ্ঠে উচ্চারিত মানবিক বিবেক।
সংকটের প্রেক্ষাপট: রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ও বৈশ্বিক রাজনীতির দ্বন্দ্ব
২০২৬ সালের জানুয়ারির প্রথম প্রহরে ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক ইতিহাসে এক ব্যতিক্রমী ও আলোড়নসৃষ্টিকারী ঘটনা ঘটে। দেশটির নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি নিকোলাস মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে রাজধানী কারাকাস থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী আটক করে এবং পরবর্তীতে তাঁদের যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তর করা হয়। এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে, কারণ এটি একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে প্রত্যক্ষ সামরিক হস্তক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালতে তাঁদের বিরুদ্ধে নার্কো-সন্ত্রাসবাদসহ একাধিক গুরুতর অপরাধের অভিযোগ আনয়ন করা হয়, যা ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে তাৎক্ষণিকভাবে অস্থিতিশীল করে তোলে। এই ঘটনার পরপরই ভেনেজুয়েলার পার্লামেন্ট ভবনে ডেলসি রদ্রিগেজ অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার এই আকস্মিক রূপান্তর সংকটের গভীরতা ও জটিলতাকে বহুগুণে বৃদ্ধি করে এবং দেশটির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে প্রশ্ন উত্থাপন করে।
এই ঘটনাপ্রবাহকে কেবলমাত্র একটি রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থায় আকস্মিক পরিবর্তনের ঘটনা হিসেবে ব্যাখ্যা করা যথেষ্ট নয়। এর অন্তর্নিহিত তাৎপর্য অনেক গভীর এবং বহুমাত্রিক। মূলত এটি আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় শক্তিধর রাষ্ট্রগুলির ভূমিকা, তাদের হস্তক্ষেপের সীমা, এবং সেই হস্তক্ষেপ কতখানি আইনগতভাবে বৈধ ও নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য—এই মৌলিক প্রশ্নগুলিকে নতুন করে সামনে নিয়ে আসে। বিশেষ করে যখন সামরিক শক্তির প্রয়োগের মাধ্যমে একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের নির্বাচিত রাষ্ট্রপ্রধানকে আটক করা হয়, তখন আন্তর্জাতিক সমাজের সামনে আইনের শাসন, রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব এবং ন্যায়বোধের প্রতিষ্ঠিত ধারণাগুলি পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
২০২৬-এর 'অ্যাবসোলিউট রিজলভ' সংশোধনী: আগ্রাসনের 'প্লাটিনাম প্যাকেজ'
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেই তথাকথিত "মাস্টারপিস" বা সুনিপুণ কৌশলটি ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে এসে কূটনৈতিক ছদ্মবেশ পুরোপুরি ঝেড়ে ফেলেছে। ভেনেজুয়েলায় সংঘটিত সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ, যাকে 'অপারেশন অ্যাবসোলিউট রিজলভ' হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে, তা আর সূক্ষ্ম জবরদস্তি নয়—বরং এটি হলো সম্পদের সরাসরি লুণ্ঠন। আমেরিকার 'করণীয়' (To Do) তালিকায় থাকা দেশগুলো এখন আর কেবল সারিবদ্ধ অপেক্ষমান রাষ্ট্র নয়; বরং তারা এখন সরাসরি দখলের মেনুতে পরিণত হয়েছে।
সার্বভৌমত্বের 'অবৈধ প্রত্যর্পণ' (The "Extraordinary Rendition" of Sovereignty)
রাষ্ট্রপতি নিকোলাস মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটকের ঘটনাটি কেবল একটি সাধারণ সরকার বদল বা 'রেজিম চেঞ্জ' নয়; এটি হলো সাম্রাজ্যবাদী হস্তক্ষেপের 'প্লাটিনাম প্যাকেজ'। স্থানীয় বিদ্রোহীদের অর্থায়ন বা দীর্ঘমেয়াদি গৃহযুদ্ধের পুরনো ও জটিল পথ পরিহার করে, যুক্তরাষ্ট্র এবার বেছে নিয়েছে সংক্ষিপ্ততম রাস্তা: সরাসরি রাষ্ট্রপ্রধানকে অপসারণ। কারাকাসে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সরাসরি অনুপ্রবেশ এবং একটি স্বাধীন দেশের ক্ষমতাসীন রাষ্ট্রপ্রধানকে তুলে নিয়ে যাওয়া সার্বভৌমত্বের সংজ্ঞাকেই বদলে দিয়েছে। এই ঘটনা স্পষ্ট বার্তা দেয়: "সার্বভৌমত্ব" কেবল তাদেরই অধিকার যাদের মাটির নিচে বিশ্বের বৃহত্তম তেলের খনি নেই। এই বার্তাটি অত্যন্ত নির্মম—আপনার সম্পদ আপনার নয়, আপনি কেবল মার্কিন সম্পত্তির ওপর অনধিকার প্রবেশকারী বা 'স্কোয়াটার' মাত্র।
'ন্যায়বিচার' হিসেবে বিচারিক ঔপনিবেশিকতা (Judicial Colonialism as "Justice")
এই কৌশলের আসল চাতুর্য লুকিয়ে আছে এর আইনি মোড়কের আড়ালে। একটি ভিনদেশী রাষ্ট্রপ্রধানকে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালতে দাঁড় করিয়ে "নার্কো-সন্ত্রাসবাদ"-এর অভিযোগ আনা মূলত মার্কিন দণ্ডবিধিকেই বিশ্বজনীন করার নামান্তর। একেই বলা হয় 'বিচারিক ঔপনিবেশিকতা' (Judicial Colonialism)। নিউইয়র্কের আদালত এখন সেই মঞ্চে পরিণত হয়েছে যেখানে ভূ-রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের 'অপরাধী' হিসেবে দাগিয়ে দেওয়া হয়, কেড়ে নেওয়া হয় তাদের কূটনৈতিক রক্ষাকবচ। মার্কিন শক্তি বা জ্বালানি স্বার্থের বিরুদ্ধে যেকোনো প্রতিরোধকে এখন আর রাজনৈতিক বিরোধ নয়, বরং "ফেডারেল ক্রাইম" হিসেবে সাব্যস্ত করা হচ্ছে। কাকতালীয়ভাবে, এসব "অপরাধের" প্রমাণ ঠিক তখনই পরিপক্ক হয়ে ওঠে, যখন তেলের বাজার নতুন সরবরাহের দাবি জানায়।
'অন্তর্বর্তীকালীন' ম্যানেজার এবং প্রকৃত সিইও-রা
ডেলসি রদ্রিগেজকে 'অন্তর্বর্তীকালীন' রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে ক্ষমতায় বসানোর মাধ্যমে মূলত একটি বৈরি প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদে রদবদল করা হয়েছে যাতে 'হস্টাইল টেকওভার' বা জোরপূর্বক দখল সহজ হয়। সমালোচকরা মনে করেন, এই রাজনৈতিক শূন্যস্থান তৈরি করা হয়েছে ভোটের মাধ্যমে পূরণের জন্য নয়, বরং নতুন বাণিজ্যিক চুক্তির মাধ্যমে ভরাট করার জন্য। "উৎপাদন পুনরুদ্ধার" এবং "অবকাঠামো সংস্কারের" চটকদার বুলি মূলত একটিই ইঙ্গিত দেয়—রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি পিডিভিসিএ (PDVSA)-এর বিরাষ্ট্রীয়করণ বা প্রাইভেটাইজেশন। ভেনেজুয়েলার এই তথাকথিত "মুক্তি" মাপা হবে প্রতিদিন কত ব্যারেল তেল উত্তোলিত হচ্ছে তার নিরিখে। এখানে যে "স্বাধীনতা" রপ্তানি করা হচ্ছে, তা মূলত মার্কিন শোধনাগারগুলোর স্বাধীনতা—যাতে তারা কোনো জাতীয়তাবাদী সরকারের সঙ্গে দরকষাকষি ছাড়াই ওরিনোকো বেল্টের ভারী তেল প্রক্রিয়াজাত করতে পারে।
বৈশ্বিক নীরবতা: বৈপরীত্যের এক অধ্যায়
আমেরিকা যখন হাতুড়িপেটা করার মতো স্থূল অথচ কার্যকরী দাপটের সঙ্গে কাজ করছে, বাকি বিশ্ব তখন জবুথবু হয়ে বাস্তবতাকে মেনে নিচ্ছে। ভারতের প্রতিক্রিয়া—যা ছিল লক্ষণীয়ভাবে সংযত এবং যেখানে কেবল "শান্তিপূর্ণ সংলাপ" ও নাগরিকদের নিরাপত্তার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে —তা আধুনিক বিশ্বব্যবস্থার অসহায়ত্বকেই প্রকট করে তোলে। রাষ্ট্রগুলো আজ "নীরবতার ভাষায়" কথা বলতে বাধ্য হচ্ছে। তারা মার্কিন অর্থনৈতিক আধিপত্যের বাস্তবতার বিপরীতে নিজেদের নৈতিক অস্বস্তিটুকু মাপজোক করছে মাত্র। বিশ্বের অন্যান্য দেশ আমেরিকার "ডান" (Done) ফাইলের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলছে; কারণ তারা জানে, এমন এক বিশ্বব্যবস্থায় যেখানে "জাতীয় নিরাপত্তা"র অজুহাতে ভিনদেশী রাষ্ট্রপতিকেও অপহরণ করা যায়, সেখানে কেউই আসলে তালিকার বাইরে নয়।
ভারতের প্রতিক্রিয়া: উচ্চস্বরে নয়, সুস্পষ্ট নীতিতে
এই উত্তাল প্রেক্ষাপটে ভারতের প্রতিক্রিয়া ছিল লক্ষ্যণীয়ভাবে সংযত ও দায়িত্বশীল। ভারত সরাসরি কোনো পক্ষের সমর্থন বা বিরোধিতা না করে ভেনেজুয়েলার সাধারণ মানুষের কল্যাণ, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার প্রশ্নটিকেই আলোচনার কেন্দ্রে এনেছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরিস্থিতিকে গভীর উদ্বেগের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে শান্তিপূর্ণ সংলাপের মাধ্যমে সংকট নিরসনের আহ্বান জানিয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে ভারতের কূটনৈতিক অবস্থান একদিকে আন্তর্জাতিক নীতি ও রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি সুস্পষ্ট শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে, অন্যদিকে তা মানবিক সহমর্মিতা ও দায়িত্বশীলতার দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত। ভেনেজুয়েলায় বসবাসরত ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ভারতীয় দূতাবাসকে সক্রিয় ও সতর্ক রাখার সিদ্ধান্ত, পাশাপাশি ভ্রমণ সংক্রান্ত সতর্কতা জারি করা—এই সকল পদক্ষেপ ভারতের রাষ্ট্রীয় কর্তব্যবোধ ও পরিণত কূটনৈতিক চেতনারই প্রতিফলন।
ঐতিহ্য ও নীতি: নন-অ্যালাইন্মেন্ট থেকে নৈতিক বাস্তববাদ
ভারতের এই সংযত অবস্থান কোনো তাৎক্ষণিক কৌশলগত সিদ্ধান্ত নয়; বরং এটি তার দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক ঐতিহ্যের স্বাভাবিক ধারাবাহিকতা। স্বাধীনতার পর থেকেই ভারত নন-অ্যালাইন্মেন্ট নীতির মাধ্যমে বৃহৎ শক্তিগুলির প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে একটি নৈতিক দূরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করেছে। যদিও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বৈশ্বিক বাস্তবতা বদলেছে, তবুও ভারতের পররাষ্ট্রনীতিতে সার্বভৌমত্বের সম্মান, অহস্তক্ষেপের নীতি এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের আদর্শ আজও প্রাসঙ্গিক।
তবে এই নীরব ও সংযত অবস্থান সকলের কাছে সমানভাবে গ্রহণযোগ্য হয়নি। সমালোচকদের একাংশ মনে করেন, এই ধরনের সংকটে আরও দৃঢ় ভাষায় আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘনের নিন্দা করা উচিত ছিল। আবার অন্য একটি মত অনুযায়ী, শক্তিধর রাষ্ট্রগুলির সঙ্গে জটিল কূটনৈতিক সম্পর্কের বাস্তবতায় ভারতের সংযমই তার পরিপক্বতার পরিচয়।
ভূরাজনীতি, সম্পদ ও নৈতিকতার সংঘর্ষ
ভেনেজুয়েলা কেবলমাত্র একটি অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতার ক্ষেত্র নয়; দেশটি বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধ জ্বালানি সম্পদের আধার হিসেবে আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও শক্তির রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এর বিপুল তেল ও প্রাকৃতিক সম্পদের ভাণ্ডার বহুদিন ধরেই বৈশ্বিক শক্তিগুলির কৌশলগত আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে রয়েছে। ফলে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সংকটকে বিচ্ছিন্ন কোনো অভ্যন্তরীণ ঘটনা হিসেবে দেখা যায় না; বরং এর অন্তরালে অর্থনৈতিক স্বার্থ, শক্তির আধিপত্য এবং দীর্ঘমেয়াদি ভূরাজনৈতিক পরিকল্পনা সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। এই বাস্তবতায় সংকটটি আন্তর্জাতিক শক্তিসাম্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে পরিণত হয়েছে।
এই জটিল প্রেক্ষাপটে ভারতের কূটনৈতিক অবস্থান স্বভাবতই আরও সংবেদনশীল ও সূক্ষ্ম হয়ে ওঠে। একদিকে আন্তর্জাতিক আইন, ন্যায়বিচার ও রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি নৈতিক দায়বদ্ধতা রক্ষা করা ভারতের পররাষ্ট্রনীতির মৌলিক অঙ্গ; অন্যদিকে বৈশ্বিক শক্তিগুলির সঙ্গে বাস্তবসম্মত ভারসাম্য বজায় রাখাও একটি অপরিহার্য কূটনৈতিক প্রয়োজন। এই দুইয়ের মধ্যবর্তী সূক্ষ্ম সীমারেখায় দাঁড়িয়ে ভারত এমন এক অবস্থান গ্রহণ করে, যা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের সম্ভাবনাকেই অগ্রাধিকার দেয়। ভারত এখানে কোনো তাৎক্ষণিক লাভের রাজনীতি নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধকে প্রাধান্য দিয়েছে। এই দৃষ্টিভঙ্গি বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় বিরল হলেও প্রয়োজনীয়।
উপসংহার
মার্কিন–ভেনেজুয়েলা সংকট আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে আধুনিক বিশ্ব রাজনীতি শুধু শক্তির প্রদর্শনী নয়; এটি নৈতিকতা, আইন ও মানবিকতার এক জটিল সংলাপ। ভারতের অবস্থান এই সংলাপে একটি সংযত কিন্তু সুস্পষ্ট কণ্ঠস্বর—যা যুদ্ধের ভাষায় নয়, বরং শান্তির অভিধানে কথা বলে। এই নীরবতার কূটনীতি দুর্বলতার লক্ষণ নয়; বরং তা একটি পরিণত রাষ্ট্রের আত্মবিশ্বাসী সংযম। ভেনেজুয়েলার মানুষের কল্যাণকে কেন্দ্র করে শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়ে ভারত বিশ্ব রাজনীতিতে এক মানবিক বিকল্প কূটনীতির দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে—যা ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের জন্য এক গভীর তাৎপর্য বহন করে।