আলা হজরত ইমাম আহমদ রেজা খান আল-কাদরী: চতুর্দশ হিজরি শতাব্দীর এক ইসলামী বহুবিদ্যাবিশারদ
প্রত্যেক বছর হাজার হাজার মুরিদ ও ভক্তরা বারেলিতে জমায়েত করে এক মহান আলেম ও ১৪ শতাব্দীর মুজাদ্দিদ আলা হজরত ইমাম আহমাদ রাজা খান এর উরস মোবারাক পালন করার জন্য। ইমাম আহমাদ রাজা খান (১৮৫৬-১৯২১), আলা হজরত নামে বিশ্বাবিক্ষিত, ব্রিটিশ ভারতে একজন বহুমুখী পণ্ডিত, আইনজ্ঞ, মুফতি, দার্শনিক, ধর্মতত্ত্ববিদ, তপস্বী, সুফি, কবি এবং মুজাদ্দিদ ছিলেন। তিনি প্রাই অর্ধেক ডজন ভাষাই দক্ষতা রাখতেন, এবং আইন, ধর্ম, দর্শন ও অন্যান্য বিজ্ঞান বিষয়ে লিখেছেন। তিনি নিজবাড়িতে তাঁর পিতা ও পিতামহের কাছে প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন এবং একজন ফাকিহ হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন, তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম ফাতওয়া প্রদান করেন। পরবর্তীতে তিনি ‘ফাতাওয়া রাজাওয়িয়্যা’ নামক গ্রন্থ রচনা করেন, যা হানাফি ফিকহের অন্যতম বিখ্যাত উৎস হিসেবে গণ্য করা হয় । তা সত্ত্বেও, তিনিই আইন ও ধর্মতত্ত্বের উপর শত শত গ্রন্থ রচনা করেছেন, তিনটি ভিন্ন ভাষায় তিনটি পৃথক কাব্যগ্রন্থ রচনা করেছেন, কুরআনের একটি উর্দু অনুবাদ তৈরি করেছেন যা এক শতাব্দীরও বেশি সময় পরেও প্রত্যেক উর্দু ভাসি মুসলিমের মুখে চর্চিত ও সমাদৃত, এবং কিছু সাহিত্য গবেষকের মতে, তিনি আধুনিক উর্দু গদ্যের অন্যতম পথিকৃৎ হিসেবে স্বীকৃতির দাবিদার।
বহুবিদ্যাজ্ঞ হিসেবে আলা হজরত
আ'লা হযরত ছিলেন এক দক্ষ ফকীহ । হাদীস ও তৎসংশ্লিষ্ট শাস্ত্রসমূহে সুগভীর জ্ঞান রাখতেন, হাদীসের উপর তিনি বিপুল পরিমাণ গ্রন্থ রচনা করেছেন (হাদীস থেকে ইস্তিম্বাত তথা ফিকহুল হাদীস, উসূলুল হাদীস এবং রাবীগণের জীবনী তথা 'আসমাউর রিজাল' বিষয়ে)। তাঁর রচনাবলির মধ্য থেকে কয়েকটির উল্লেখ করতে গেলে, সর্বাগ্রে বলতে হয় তাখরীজ শাস্ত্রের উপর তাঁর অনবদ্য গ্রন্থ 'আর-রওদুল বাহীজ ফী আদাবিত তাখরীজ' (১২১৯ হি.) الروض البهيج في آداب التخريج -এর কথা। আ'লা হযরত ইমাম আহমাদ রেযা (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) একাধারে ছিলেন একজন মহান দার্শনিক ও বিজ্ঞানীও। দর্শন ও বিজ্ঞানে তাঁর ছিল এমন গভীর দখল, যা তৎকালীন যুগে অন্য কারও ছিল না বলা যায়। তিনি প্রাচীন ও আধুনিক—উভয় ধারার জ্ঞান-বিজ্ঞানে ছিলেন সুপণ্ডিত, গবেষণার মাধ্যমে প্রমাণ করার চেষ্টা করেছিলেন যে, আধুনিক বিজ্ঞানের বিভিন্ন ধারণা অসম্ভব এবং পবিত্র কুরআন ও হাদীসের নির্দেশনার পরিপন্থী। তাই তিনি বিজ্ঞান ও পদার্থবিজ্ঞানের উপরও বহু গ্রন্থ রচনা করেন, তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ فوز مبین در رد حرکت زمین 'ফাওয-ই-মুবীন দর রদ্দ-ই-হারকাত-ই-যমীন'-এ তিনি পবিত্র কুরআনকে ভিত্তি করে দাবি করেন যে, পৃথিবী আবর্তনশীল নয় বরং স্থির। তিনি আরও দাবি করেন যে, সমগ্র মহাবিশ্ব পৃথিবীকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়। অথচ আধুনিক তত্ত্ব অনুযায়ী পৃথিবী নিজ অক্ষের উপর আবর্তিত হয় এবং পৃথিবীসহ সকল গ্রহ সূর্যকে কেন্দ্র করে প্রদক্ষিণ করে। তিনি ঘোষণা করেন: "ইসলামি নীতি এই যে, আকাশ ও পৃথিবী স্থির এবং গ্রহসমূহ আবর্তনশীল। সূর্যই পৃথিবীর চারদিকে ঘোরে; পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘোরে না।"৩ ইমাম আহমাদ রেযা খান গ্যালিলিও গ্যালিলি ও স্যার আইজাক নিউটনের মতো বিজ্ঞানীদের তত্ত্বকেও চ্যালেঞ্জ করেছিলেন।
রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও ভারত সম্পর্কে অবস্থান
উত্তর ভারতের এই সুন্নী সূফী আলিম ও সংস্কারক নবী মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর সম্মান রক্ষা এবং জনপ্রিয় সূফী রীতিনীতির সমর্থনে আজীবন কলম ধরেছেন। সমকালে তাঁকে নিয়ে দ্বিমতের অবকাশ ছিল না—'আহলুস সুন্নাহ'-এর ইমাম বলতে সবাই তাঁকেই বুঝত। কোটি কোটি মানুষের চিন্তাজগতে তাঁর প্রভাব পড়েছিল, আর আজ এই ধারার অনুসারীর সংখ্যা এ অঞ্চলে প্রায় বিশ কোটি।
ব্রিটিশ-বিরোধী সংগ্রামে অমুসলিমদের সঙ্গে জোট গড়ার যে প্রবণতা তখন দেখা দিয়েছিল, তাকে তিনি ভ্রান্ত মনে করতেন। অথচ শরীয়তগত যুক্তিতে খিলাফত আন্দোলনেরও বিরোধী ছিলেন তিনি—এই দুই অবস্থান একসঙ্গে মিলিয়ে দেখলে বিষয়টি কৌতূহলোদ্দীপক ঠেকে বৈকি। ১৯২০-এ শুরু হওয়া অসহযোগ আন্দোলনে ব্রিটিশ খেতাব বর্জন, আদালত-বিদ্যালয় বর্জন আর করদান অস্বীকৃতির যে পথ নেওয়া হয়েছিল, ইমাম আহমাদ রেযা আগে থেকেই কার্যত সেই পথেরই অনুসারী ছিলেন। এখান থেকে স্পষ্ট হয়, আ'লা হযরতের রাজনীতি-চিন্তা কোনো গোপন উদ্দেশ্য নয়, বরং ধর্মীয় স্থিতিশীলতা ও জনগণের কল্যাণকেই লক্ষ্য করে গড়ে উঠেছিল।
দারুল ইসলাম বিতর্ক
ভারতকে তিনি দারুল ইসলাম বলে ঘোষণা করেছিলেন—এখানে মুসলিমরা পূর্ণ ধর্মীয় স্বাধীনতা ভোগ করছে, এই ছিল তাঁর অবস্থান। যাঁরা উল্টো কথা বলতেন, তাঁদের সম্পর্কে তাঁর মূল্যায়ন ছিল কঠোর: এঁরা মূলত অমুসলিম শাসনাধীন মুসলিমদের জন্য সুদভিত্তিক লেনদেনের যে ছাড় ইসলামি বিধানে ছিল, তারই ফায়দা তুলতে চাইতেন—জিহাদ বা হিজরতের প্রকৃত অভিপ্রায় তাঁদের ছিল না। এই যুক্তিতেই তিনি ব্রিটিশ ভারতকে দারুল হারব আখ্যা দেওয়ার তীব্র বিরোধিতা করেন, কেননা এমন আখ্যা মেনে নিলে জিহাদ ঘোষণা ও হিজরত—দুটোই অবধারিত হয়ে উঠত, যা গোটা মুসলিম সমাজের জন্য সর্বনাশ ডেকে আনত বলে তাঁর আশঙ্কা ছিল। পরে যখন মুসলিম লীগ পাকিস্তান আন্দোলনে মুসলিম জনগণকে সংগঠিত করে, তখন খান সাহেবের বহু অনুসারীই শিক্ষা ও রাজনীতি—দুই ক্ষেত্রেই এই আন্দোলনে সক্রিয় ও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন।
সাহিত্যকর্ম
সাহিত্যক্ষেত্রে আ'লা হযরতের অবদান বিপুল—তাঁর রচনাবলি প্রতিটি মুসলিমকে সাহিত্যের প্রকৃত স্বাদ ও তাৎপর্য উপলব্ধি করার সুযোগ দেয়। তিনি একাধারে কবি ছিলেন এবং আরবি, ফার্সি ও উর্দু—তিন ভাষাতেই সমান দক্ষতায় রচনা করতেন। জ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় তাঁর অবদানের একটি চিত্র পাওয়া যায় নিম্নরূপ: তাফসীর, তাজবীদ ও কুরআনিক বিজ্ঞানে ২১টি গ্রন্থ; আকীদা, কালাম, সমালোচনা ও খণ্ডনমূলক রচনায় ১৩১টি; হাদীস ও উসূলে হাদীসে ৫৯টি; ফিকহ, উসূলে ফিকহ, ফিকহি পরিভাষা ও উত্তরাধিকার আইনে ২৬৬টি; তাসাউফ, আযকার, স্বপ্নব্যাখ্যা ও নৈতিকতায় ৬০টি; ইতিহাস, জীবনী ও শোকগাথায় ৩৭টি; সাহিত্য, ব্যাকরণ, অভিধানবিদ্যা ও ছন্দশাস্ত্রে ৭টি; সংখ্যাতত্ত্ব, ভগ্নাংশ ও নামাযের সময় নির্ণয়ে ৪৪টি; বীজগণিত, ত্রিকোণমিতি, পাটিগণিত, লগারিদম ও জ্যামিতিতে ১৭টি; জ্যোতির্বিজ্ঞান ও জ্যোতির্মিতিতে ২৭টি; এবং যুক্তিবিদ্যা, দর্শন ও বিবিধ বিষয়ে ১০টি গ্রন্থ। সর্বমোট ৬৭৯টি গ্রন্থ—এর বাইরেও রয়ে গেছে বহু অপ্রকাশিত রচনা। আব্দুল মুবীন নুমানী তাঁর মুসান্নাফাত-ই-রেযবিয়্যাহ গ্রন্থে এই তালিকার উল্লেখ করেছেন।
নবী মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর প্রশংসায় তিনি রচনা করেছেন অজস্র না'ত—অত্যন্ত শ্রদ্ধা ও ভক্তিভরে যাতে ফুটে উঠেছে রাসূলের গুণকীর্তন। তাঁর উর্দু কাব্যসংকলনের নাম হাদায়েক-ই-বখশিশ ("মুক্তির উদ্যান")। এই কবিতাগুলোর অধিকাংশই মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর গুণাবলি নিয়ে রচিত, ভাষায় যার সারল্য ও সরাসরি ভাবপ্রকাশ লক্ষণীয়। তাঁর রচিত উর্দু ক্বাসীদা ক্বাসীদা-ই-সালামিয়্যাহ—যার সূচনা "মুস্তফা জানে রহমত পে লাখোঁ সালাম" (রহমতের প্রাণ মুস্তফার প্রতি লক্ষ লক্ষ সালাম) পঙ্ক্তি দিয়ে—আজও বিশ্বজুড়ে মসজিদে-মসজিদে আবৃত্তি হয়। এতে স্থান পেয়েছে নবী (ﷺ)-এর প্রশংসা, তাঁর শারীরিক গুণাবলির বর্ণনা (৩৩ থেকে ৮০ নং পঙ্ক্তি), তাঁর জীবন ও জীবনকাল, তাঁর পরিবার ও সাহাবীদের প্রশংসা, এবং আউলিয়া ও সালিহীন তথা সাধক-বুজুর্গদের গুণকীর্তন।
ইমাম আহমাদ রেযার সর্বাধিক খ্যাতিমান রচনাগুলোর একটি হলো পবিত্র কুরআনের যথাযথ উর্দু অনুবাদ কানযুল ঈমান ফী তরজমাতিল কুরআন ("ঈমানের ধনভাণ্ডার")। আরবি থেকে উর্দুতে অনূদিত এই গ্রন্থ পরবর্তীকালে হিন্দি, ইংরেজি, ডাচ ও তুর্কিসহ আরও বহু ভাষায় অনূদিত হয়েছে। সাধারণত এর সঙ্গে সংযুক্ত থাকে সংক্ষিপ্ত তাফসীর খাযাইনুল ইরফান ফী তাফসীরিল কুরআন, যা রচনা করেছেন তাঁর ঘনিষ্ঠ সহচর সৈয়দ নঈমুদ্দীন মুরাদাবাদী।
অবদানসমূহ
আ'লা হযরত ১৯০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান "মানযার-ই-ইসলাম" এবং ১৯১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত কল্যাণমূলক সংগঠন "জামাত রেযা-ই-মুস্তফা"—উভয়ই আজও সক্রিয় রয়েছে, যাদের লক্ষ্য জনসাধারণের নাগালের মধ্যে বিশুদ্ধ ইসলামি শিক্ষা পৌঁছে দেওয়া। প্রাথমিক পর্যায়ে আর্থিক সংকট সত্ত্বেও এই প্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষাক্ষেত্রে মুসলিমদের জন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে দেশের শ্রেষ্ঠ মেধাবীদের গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছিল। এই প্রতিষ্ঠানসমূহ মুসলিম সমাজের গঠন ও বিকাশের প্রতীক—দক্ষ ব্যক্তিত্ব, যোগ্য শিক্ষক এবং মর্যাদা ও নৈতিকতাসম্পন্ন জীবনযাপনের আদর্শ তৈরিতে এগুলোর ভূমিকা অনস্বীকার্য।
ফিকহ (ইসলামি আইনশাস্ত্র)
১৯০৬ সালে রচিত হুসামুল হারামাইন আলা মানহিরি কুফরি ওয়াল মাইন ("কুফর ও মিথ্যার কণ্ঠে হারামাইনের তরবারি") একটি গুরুত্বপূর্ণ পুস্তিকা, যেখানে দেওবন্দী, ওয়াহাবি ও আহমদিয়া আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতাদের—নবী মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা ও নবুওয়াতের সমাপ্তি সম্পর্কিত বিশ্বাসে ঘাটতি থাকার অভিযোগে—কাফির ঘোষণা করা হয়। এই রায়ের সপক্ষে প্রমাণ সংগ্রহে ইমাম স্বয়ং আরব ভূমিতে যাত্রা করেন এবং মক্কা-মদীনার ত্রিশাধিক আলিমের স্বাক্ষর সংগ্রহ করেন। এছাড়া তাঁর শিষ্য হাশমত আলী খান উপমহাদেশ জুড়ে ভ্রমণ করে দক্ষিণ এশিয়ার ২৬৮ জন আলিমের অনুমোদন-স্বাক্ষর আদায় করেন। এই পুস্তিকাটি আরবি, উর্দু, ইংরেজি, তুর্কি ও হিন্দি—এই কয়েকটি ভাষায় প্রকাশিত হয়েছে।
তাঁর রচিত মূল ফতোয়া-সংকলনের নাম ফতোয়া-ই-রেযবিয়্যাহ বা আল আতায়া আন-নবাবিয়্যাহ ফী ফাতাওয়া আর-রেযাবিয়্যাহ ("রেযাবি ফতোয়াসমূহে নবীজির অনুগ্রহ")। ত্রিশ খণ্ডে বিভক্ত এবং প্রায় বাইশ হাজার পৃষ্ঠাব্যাপী বিস্তৃত এই সংকলনে ধর্ম থেকে ব্যবসা-বাণিজ্য, যুদ্ধ থেকে বিবাহ—দৈনন্দিন জীবনের বিচিত্র সমস্যা সংক্রান্ত ফতোয়া স্থান পেয়েছে।
১৯০৫ সালে হেজাজের সমসাময়িক আলিমদের অনুরোধে খান একই বৈঠকে কাগজি মুদ্রার বৈধতা সংক্রান্ত একটি ফতোয়া রচনা করেন, যার নাম কিফলুল ফকীহিল ফাহিম ফী আহকামিল ক্বিরতাসিদ দারাহিম (১৩২৪ হি.)।
উপসংহার
আ'লা হযরতের রচনাবলি পাঠ করলে এবং তাঁর জীবনী পর্যালোচনা করলে এ কথা সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, মহান আল্লাহ তাঁকে অসামান্য জ্ঞান ও প্রজ্ঞায় ভূষিত করেছিলেন, আর তিনি নিজের সমগ্র জীবন উৎসর্গ করেছিলেন ইসলামের সেবায়। শুধু ধর্মীয় জ্ঞানই নয়, আধুনিক বিজ্ঞানেও আল্লাহ তাঁকে গভীর পাণ্ডিত্য দান করেছিলেন। মানুষ তাঁকে যেমন আলিম, মুফতি ও মুহাদ্দিস হিসেবে চিনত, তেমনি বিজ্ঞান, ভূগোল, জ্যোতির্বিজ্ঞান, গণিত—এসব শাখাতেও তিনি ছিলেন সমান পারদর্শী।
এই মহান ব্যক্তিত্বের প্রয়াণে মুসলিম বিশ্ব হারিয়েছে একজন কিংবদন্তি আলিমকে। সাহিত্য ও পাণ্ডিত্যের এক মহীরুহ হিসেবে বিশ্ব চিরকাল তাঁকে স্মরণ রাখবে। শায়খ ইসমাইল বিন খলীল ও শায়খ মূসা আলী শামীর মতো আরব আলিমগণ ইমাম আহমাদ রেযা খান (আলাইহির রহমাহ)-কে চতুর্দশ হিজরি শতাব্দীর মুজাদ্দিদ তথা পুনরুজ্জীবনকারী হিসেবে ঘোষণা করে বলেছিলেন—তাঁকে এই শতাব্দীর মুজাদ্দিদ আখ্যা দেওয়াই সমীচীন।
ইমাম আহমাদ রেযা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-এর প্রতি কোনো শ্রদ্ধাঞ্জলিই পূর্ণাঙ্গ হতে পারে না, যদি না তাতে স্বীকৃতি দেওয়া হয় তাঁর আজীবন প্রকৃত নেতৃত্বদানের অক্লান্ত প্রয়াসের—ভারতীয় উপমহাদেশে ইসলামের ইতিহাসের এক সংকটাপন্ন মুহূর্তে তিনি মুসলিম সমাজকে পথ দেখিয়েছিলেন। যে সময়ে আহমদিয়ার মতো বিচ্যুত সম্প্রদায়ের ক্রমাগত উত্থান মুসলিম বিশ্বের জন্য ফিতনার উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছিল, সেই সংকটময় মুহূর্তে ইমাম আহমাদ রেযা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) একজন পণ্ডিত-মহীরুহ হিসেবে এগিয়ে এসে প্রকৃত ইসলামি নীতির পক্ষে দাঁড়ান, এবং এই প্রক্রিয়াতেই না'তিয়া কালামের ক্ষেত্রে উর্দু সাহিত্যেও নিজের জন্য এক মহীরুহের আসন সুনিশ্চিত করে যান।
এটি একটি এংরেজি আর্টিকেল থেকে আনুবাদিত
References
Haroon, Muhammad. (1994). The World Importance of Imam Ahmed Raza Khan Barelvi. Stockport, UK: Raza Academy. ISBN 9781873204122
Maulana Zafaruddin Qadri, HAYAT-E-AALA HAZRAT, PAIGHAM-E-RAZA (The World Islamic Movements), 2003
Noori, M. A. (2010). Imam Aḥmad Reza his Academic And Spiritual Services. Durban, South Africa: Imam Mustafa Reza Research Center.
Qadiri, M. I. (2017). A brief Biography of Imam Aḥmad Reza Khān. Karachi: Maktabatul Madinah.
Siddiqui, P. M. (1988). Economic Guidelines for Muslims. Saddar Karachi: Idar I Tahqeeqath E Imam Aḥmad Reza International.
Shaheen Alī S B, A study on Imam Aḥmad Reza Khān Barelwi’s life and teachings for Muslims reforms in modern India, Visvesvaraya Technological University, Belagavi, Karnataka, India.