অডিয়ার থেকে আবদুল্লাহ অডিয়ার: এক সত্যসন্ধানী মানুষের জীবন ও ইসলাম গ্রহণের গল্প

কখনও কখনও একজন মানুষের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যাত্রা শুরু হয় কোনো নির্দিষ্ট গন্তব্যের উদ্দেশ্যে নয়, বরং কিছু প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে। জীবনের অর্থ কী? মানুষ কেন সৃষ্টি হয়েছে? মৃত্যু কেন? এই বিশাল পৃথিবী ও মহাবিশ্বের পেছনে কি কোনো স্রষ্টা ও উদ্দেশ্য আছে? তামিলনাড়ুর বিখ্যাত সাহিত্যিক ও সাংবাদিক অডিয়ারের জীবনও এমন কিছু প্রশ্নের মধ্য দিয়েই এক সময় নতুন পথে এগিয়ে যায়। যে মানুষটি একসময় নাস্তিক চিন্তাধারায় বিশ্বাসী ছিলেন এবং তামিল সাহিত্য ও সাংবাদিকতার জগতে নিজের পরিচয় তৈরি করেছিলেন, তিনিই পরে ইসলাম গ্রহণ করে আবদুল্লাহ অডিয়ার নামে পরিচিত হন। তাঁর জীবন তাই কেবল একজন লেখক বা সাংবাদিকের জীবনী নয়; এটি একজন মানুষের দীর্ঘ সত্য-অনুসন্ধান, আত্মজিজ্ঞাসা এবং শেষ পর্যন্ত নিজের বিশ্বাসকে নতুনভাবে আবিষ্কার করার এক অসাধারণ কাহিনি।

অডিয়ারের জন্ম ১৯৩৫ সালের ১৬ মে তামিলনাড়ুর তিরুপুরে। উচ্চশিক্ষার সময় কোয়েম্বাটুরে তাঁর লেখালেখি ও বক্তৃতার প্রতিভা আরও বিকশিত হয়। সাহিত্য ও সাংবাদিকতার প্রতি তাঁর আগ্রহ তাঁকে ধীরে ধীরে তামিল জনজীবনের পরিচিত মুখে পরিণত করে। তিনি কবি, লেখক, নাট্যকার, সাংবাদিক ও বক্তা হিসেবে কাজ করেছেন এবং দ্রাবিড় আন্দোলনের সঙ্গেও যুক্ত হয়েছিলেন। তাঁর সাংবাদিক জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ছিল তামিল দৈনিক মুরাসোলি, যেখানে তিনি প্রায় ১৭ বছর সংবাদ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। পত্রিকাটি দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাঝাগমের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিল এবং অডিয়ার তামিল রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিসরে যথেষ্ট পরিচিতি অর্জন করেছিলেন। তাঁর সাহিত্যিক প্রতিভারও স্বীকৃতি ছিল; ১৯৮২ সালে তামিলনাড়ু সরকার তাঁকে কালাইমামানি পুরস্কারে সম্মানিত করে। সমসাময়িক একটি জীবনীতে তাঁর দীর্ঘ সাহিত্যিক কর্মজীবনের পাশাপাশি বহু উপন্যাস, নাটক ও অন্যান্য রচনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে একজন সফল লেখক ও সাংবাদিক হিসেবে তাঁর জীবন যতটা এগিয়ে যাচ্ছিল, তাঁর ভেতরের কিছু প্রশ্ন ততই গভীর হয়ে উঠছিল। ১৯৭৫ সালে ভারতে জরুরি অবস্থা জারি হলে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে অডিয়ার গ্রেপ্তার হন এবং কারাগারে কঠিন নির্যাতনের শিকার হন। এই সময়টিই তাঁর জীবনের মোড় ঘোরানোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে ওঠে। কারাগারের কষ্ট, একাকিত্ব এবং জীবনের অনিশ্চয়তা তাঁকে নিজের অস্তিত্ব নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে। তিনি জানতে চাইলেন—মৃত্যুর অর্থ কী, মানুষকে কেন সৃষ্টি করা হয়েছে, আর এই জীবনের উদ্দেশ্যই বা কী? তাঁর স্ত্রী তখন খ্রিস্টান ছিলেন; তাঁর কাছ থেকে তিনি বাইবেলসহ খ্রিস্টধর্মের বই পড়েন। পাশাপাশি অন্যান্য ধর্ম ও দর্শন সম্পর্কেও পড়াশোনা করেন। কিন্তু কোনো একটি মতবাদকে শুধু শুনে গ্রহণ করার পরিবর্তে তিনি নিজের প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজে চলতে থাকেন। পরবর্তীকালে নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি জানান যে, এই অনুসন্ধানই তাঁকে কুরআন ও মহানবী হজরত মুহাম্মদ ﷺ-এর জীবন সম্পর্কে গভীরভাবে পড়তে আগ্রহী করে তোলে।

কারাগারে থাকতেই ইসলামের সঙ্গে তাঁর পরিচয় আরও গভীর হয়। তিনি কুরআন পড়তে শুরু করেন এবং আবদুল্লাহ ইউসুফ আলীর ইংরেজি অনুবাদ পড়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নোট করতেন। একই সঙ্গে মহানবী ﷺ-এর জীবন ও চরিত্র নিয়ে পড়াশোনা করেন। তাঁর নিজের বক্তব্যে বোঝা যায়, রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর জীবন তাঁকে বিশেষভাবে আকৃষ্ট করেছিল। একজন ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে নয় শুধু, বরং একজন মানুষ, নেতা ও সমাজের পথপ্রদর্শক হিসেবে তাঁর জীবন অডিয়ারকে ভাবতে বাধ্য করে। ইসলামের সৃষ্টিতত্ত্ব, মানবজীবনের উদ্দেশ্য, নারীর অবস্থান এবং মহাবিশ্বের সৃষ্টি সম্পর্কে তাঁর দীর্ঘদিনের প্রশ্নগুলোর কিছু উত্তর তিনি ইসলামের মধ্যে খুঁজে পেতে শুরু করেন। ১৯৭৭ সালে কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর এই অনুসন্ধান আরও গভীর হয়। তিনি মাওলানা আবুল আ'লা মওদূদী ও মাওলানা আবুল হাসান আলী নদভীর রচনাসহ বিভিন্ন ইসলামি সাহিত্য পড়তে থাকেন এবং ইসলাম সম্পর্কে তাঁর চিন্তা ধীরে ধীরে আরও সুসংগঠিত হতে থাকে।

এই সময় তিনি Neerottam নামে একটি পত্রিকা প্রকাশ করেন। সেখানে ইসলাম, কুরআন এবং ইসলামের বিভিন্ন শিক্ষা নিয়ে তাঁর ধারাবাহিক লেখা প্রকাশিত হতে থাকে। এই লেখাগুলোই পরে তাঁর সবচেয়ে পরিচিত বই Naan Kaadhalikkum Islam-এর ভিত্তি তৈরি করে। তামিল ভাষায় বইটির অর্থ দাঁড়ায়—“আমি যে ইসলামকে ভালোবাসি”। সাম্প্রতিক একটি গবেষণাতেও উল্লেখ করা হয়েছে যে বইটি তাঁর ধারাবাহিক লেখাগুলোর সংকলন এবং তাঁর ইসলাম-অনুসন্ধানের একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল। উর্দুতে বইটি “ইসলাম জিস সে মুঝে ইশ্‌ক হ্যায়” নামে পরিচিত হয়। উর্দু সংস্করণের প্রথম প্রকাশ ১৯৮২ সালের মার্চে হয় বলে সংশ্লিষ্ট উর্দু জীবনীতে উল্লেখ আছে; পরে বইটি মালয়ালম, কন্নড়, তেলুগু, মারাঠি, হিন্দি এবং অন্যান্য ভাষায়ও অনূদিত হয়। ফলে অডিয়ার তখনও মুসলিম হওয়ার আগেই তাঁর লেখা ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের পাঠকের কাছে ইসলামের একটি পরিচয় পৌঁছে দিতে শুরু করেছিল।

অডিয়ারের জীবনের সবচেয়ে বিস্ময়কর ঘটনাগুলোর একটি ঘটেছিল এই বইকে কেন্দ্র করেই। উত্তরপ্রদেশের একজন জমিদার তাঁর Naan Kaadhalikkum Islam পড়ে ইসলাম গ্রহণ করেন এবং বইটির লেখকের সঙ্গে দেখা করার জন্য মাদ্রাজে আসেন। কিন্তু সেখানে এসে তিনি এমন একজন অডিয়ারকে দেখতে পান, যিনি তখনও নিজে মুসলিম হননি। ঘটনাটি অডিয়ারের জন্য গভীর আত্মজিজ্ঞাসার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। একজন মানুষ তাঁর লেখা পড়ে ইসলাম গ্রহণ করেছেন, অথচ লেখক নিজেই এখনও ইসলামের বাইরে—এই বাস্তবতা তাঁকে নিজের জীবন ও বিশ্বাসকে নতুন করে বিচার করতে বাধ্য করে। সেই সাক্ষাৎ, তাঁর নিজের দীর্ঘ অনুসন্ধান এবং সারা জীবনের প্রশ্নগুলো যেন এক জায়গায় এসে মিলিত হয়। দীর্ঘ চিন্তা ও আত্মসমালোচনার পর তিনি সিদ্ধান্ত নেন যে এতদিন যে সত্যের সন্ধান তিনি করে এসেছেন, এবার সেটিকে নিজের জীবনেও গ্রহণ করবেন।

অবশেষে আসে সেই দিন—৬ জুন ১৯৮৭। অডিয়ার মাদ্রাজের মামুর মসজিদে গিয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন এবং নিজের নতুন নাম রাখেন আবদুল্লাহ। তাঁর জীবনের এই পরিবর্তন ছিল হঠাৎ কোনো আবেগের ফল নয়; বরং বহু বছরের পড়াশোনা, প্রশ্ন, চিন্তা ও আত্মঅনুসন্ধানের পর নেওয়া একটি সিদ্ধান্ত। ২০২৫ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণামূলক প্রবন্ধেও তাঁর ইসলাম গ্রহণের তারিখ ৬ জুন ১৯৮৭ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং তাঁর আত্মজীবনীমূলক রচনা Chirayshaalayil Irunth Pallivaasal Vare—অর্থাৎ From Prison to the Mosque—এর ভিত্তিতে তাঁর এই পরিবর্তনের বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করা হয়েছে। বইটির নামটিও যেন তাঁর জীবনের রূপান্তরের একটি প্রতীক—কারাগারের অন্ধকার থেকে মসজিদের দিকে, এক ধরনের মানসিক ও আত্মিক যাত্রা।

ইসলাম গ্রহণের পর অডিয়ারের জীবন থেমে যায়নি; বরং তাঁর লেখনী ও কর্মজীবন নতুন একটি উদ্দেশ্য লাভ করে। তিনি তামিল ভাষায় ইসলাম সম্পর্কে লেখালেখি ও দাওয়াহর কাজে নিজেকে আরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত করেন। তিনি কুরআন, তাওহিদ, মহানবী ﷺ-এর জীবন, মানবজীবনের উদ্দেশ্য এবং ইসলামের বিভিন্ন শিক্ষা নিয়ে লিখেছেন। তাঁর আরও কিছু ইসলামি গ্রন্থের মধ্যে From Prison to the Mosque, One God or Many? এবং Islam Calls উল্লেখযোগ্য। তাঁর দাওয়াহর বিশেষ বৈশিষ্ট্য ছিল—তিনি তামিল সমাজের মানুষকে তাদের নিজস্ব ভাষা ও পরিচিত সাংস্কৃতিক পরিসরের মধ্যেই ইসলামের কথা বোঝানোর চেষ্টা করতেন। ফলে তাঁর সাহিত্যিক অভিজ্ঞতা ও ভাষাজ্ঞান দাওয়াহর কাজে একটি বিশেষ শক্তিতে পরিণত হয়।

তাঁর দাওয়াহ শুধু বই প্রকাশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি মাদ্রাজে Islamic Dawah Centre পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং তামিলনাড়ুর বিভিন্ন শহর ও অঞ্চলে ইসলাম নিয়ে বক্তৃতা দিয়েছেন। ভারতের বাইরেও ব্রিটেনের তামিল মুসলিমদের আমন্ত্রণে মহানবী ﷺ-এর জীবন নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন এবং শ্রীলঙ্কা ও সিঙ্গাপুরের তামিলভাষী মানুষের কাছেও ইসলাম সম্পর্কে কথা বলেছেন। তিনি অডিও ও ভিডিও ক্যাসেটের মাধ্যমেও ইসলামি জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। সমসাময়িক জীবনীমূলক প্রতিবেদনে এমনও উল্লেখ রয়েছে যে ইসলাম সম্পর্কে তাঁর কাজের কারণে বিভিন্ন মানুষ তাঁর দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন এবং তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ পরবর্তীকালে ইসলাম গ্রহণ করেন।

আবদুল্লাহ অডিয়ারের জীবনকে বুঝতে গেলে তাই শুধু তাঁর ইসলাম গ্রহণের ঘটনাটিকে দেখলে হবে না; দেখতে হবে সেই দীর্ঘ পথটিকেও, যে পথ তাঁকে সেখানে নিয়ে গিয়েছিল। তিনি প্রথমে প্রশ্ন করেছিলেন, তারপর পড়েছিলেন, বিভিন্ন মত ও ধর্মকে জানার চেষ্টা করেছিলেন, কুরআন পড়েছিলেন, মহানবী ﷺ-এর জীবন অধ্যয়ন করেছিলেন এবং নিজের চিন্তার সঙ্গে সবকিছুকে মিলিয়ে দেখেছিলেন। তাঁর নিজের বর্ণনা ও পরবর্তী গবেষণায়ও এই দীর্ঘ অনুসন্ধান, আত্মজিজ্ঞাসা এবং মানসিক পরিবর্তনের বিষয়টি বিশেষভাবে উঠে এসেছে। তাঁর জীবনের আরেকটি দিকও গুরুত্বপূর্ণ—তিনি ইসলাম গ্রহণের আগে থেকেই ইসলাম সম্পর্কে লিখছিলেন এবং মানুষের কাছে ইসলামের কথা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। অর্থাৎ তাঁর ক্ষেত্রে লেখক অডিয়ার এবং পরবর্তীকালের মুসলিম দাঈ আবদুল্লাহ অডিয়ার—এই দুই পরিচয় সম্পূর্ণ আলাদা ছিল না; বরং একটির ভেতর থেকেই অন্যটি ধীরে ধীরে তৈরি হয়েছিল।

জীবনের শেষ দিকেও তিনি দাওয়াহর কাজ থেকে নিজেকে পুরোপুরি সরিয়ে নেননি। একটি সমসাময়িক জীবনীতে বলা হয়েছে, মৃত্যুর আগের বছর তিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার পর বেশি কথা বলতে বা লিখতে পারতেন না; তবুও তিনি ইসলামি সমাবেশগুলোতে উপস্থিত থাকতেন এবং দাওয়াহর সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখতেন। ১৯৯৬ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন বলে ওই জীবনীতে উল্লেখ রয়েছে। তাঁর মৃত্যুর পরও তাঁর লেখা, বিশেষ করে Naan Kaadhalikkum Islam, বিভিন্ন ভাষার পাঠকের কাছে পৌঁছাতে থাকে এবং তাঁর জীবন নিয়ে পরবর্তী সময়েও গবেষণা হয়েছে।

অডিয়ার থেকে আবদুল্লাহ অডিয়ার হয়ে ওঠার গল্প তাই শুধু একজন মানুষের ধর্মীয় পরিচয় পরিবর্তনের গল্প নয়। এটি এমন একজন লেখকের গল্প, যিনি নিজের প্রতিষ্ঠিত পরিচয় ও সাফল্যের মধ্যেও জীবনের মৌলিক প্রশ্নগুলোকে এড়িয়ে যাননি। কারাগারের কঠিন অভিজ্ঞতা তাঁকে প্রশ্ন করতে শিখিয়েছিল; বই ও চিন্তা তাঁকে অনুসন্ধানের পথে নিয়ে গিয়েছিল; কুরআন ও মহানবী ﷺ-এর জীবন তাঁর চিন্তাকে নতুনভাবে গড়ে তুলেছিল; আর শেষ পর্যন্ত সেই অনুসন্ধান তাঁকে ১৯৮৭ সালের ৬ জুন ইসলামের শাহাদাত গ্রহণের দিকে নিয়ে যায়। এরপর তিনি তাঁর কলম, কণ্ঠ এবং নিজের দীর্ঘ সাহিত্যিক অভিজ্ঞতাকে ব্যবহার করেন তামিলভাষী মানুষের কাছে ইসলামের কথা পৌঁছে দিতে।

সম্ভবত তাঁর জীবনের সবচেয়ে সুন্দর দিকটি এখানেই—তিনি শুধু একটি নতুন বিশ্বাস গ্রহণ করেননি; নিজের ভাষা, সাহিত্যিক পরিচয় ও লেখনীকে সেই বিশ্বাসের সঙ্গে যুক্ত করে একটি নতুন জীবন গড়ে তুলেছিলেন। “Naan Kaadhalikkum Islam”—“আমি যে ইসলামকে ভালোবাসি”—তাই তাঁর কাছে কেবল একটি বইয়ের নাম ছিল না; এটি হয়ে উঠেছিল তাঁর জীবনের এক গভীর পরিবর্তনের প্রতিচ্ছবি। একজন মানুষ প্রশ্ন নিয়ে পথচলা শুরু করেছিলেন, দীর্ঘ সময় ধরে উত্তর খুঁজেছিলেন, আর শেষ পর্যন্ত যে বিশ্বাসকে নিজের জন্য সত্য বলে গ্রহণ করেছিলেন, জীবনের বাকি সময় সেই বিশ্বাসের কথা নিজের ভাষায় অন্য মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। এই কারণেই আবদুল্লাহ অডিয়ারের জীবন আজও স্মরণ করার মতো—একজন বিখ্যাত তামিল লেখক হিসেবে নয় শুধু, বরং একজন সত্যসন্ধানী মানুষ হিসেবে, যার জীবনের গল্প প্রশ্ন থেকে অনুসন্ধান, অনুসন্ধান থেকে বিশ্বাস এবং বিশ্বাস থেকে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার এক দীর্ঘ যাত্রার গল্প।

Related Posts

Leave A Comment

Voting Poll

Get Newsletter