দাম্মাম বিমানবন্দরে হুতি হামলা: নিহত দুজন, সৌদি আরবে বাড়ছে উত্তেজনা
হামলায় কী ঘটেছিল
সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় শহর দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বুধবার গভীর রাতের হামলায় একজন সৌদি নাগরিক ও একজন ভারতীয় প্রবাসী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আটজন। চলতি মাসে সৌদি বিমানবন্দরগুলোতে হামলায় মোট নিহতের সংখ্যা এখন ২২। সৌদি সাধারণ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (জিএসিএ) বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বুধবার রাতে দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা হয়েছে। প্রথমে প্রাণহানির যে সংখ্যা জানানো হয়েছিল, পরে হালনাগাদ বিবৃতিতে তা বাড়িয়ে দুজন করা হয়। নিহতদের একজন সৌদি নাগরিক, অন্যজন ভারতীয় বাসিন্দা। আহত হয়েছেন আটজন।
বিমানবন্দরের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো মূল্যায়ন করা হচ্ছে। তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিমানবন্দরের কার্যক্রম আবার শুরু হয়েছে এবং আকাশপথে যান চলাচল স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরেছে।
আহতদের পরিচয়, তাঁদের শারীরিক অবস্থা কিংবা হামলায় ঠিক কী ধরনের অস্ত্র ব্যবহৃত হয়েছে, সে বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের বিবৃতিতে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি। তদন্ত এগোলে এসব তথ্য স্পষ্ট হবে বলে আশা করা যায়।
দাম্মাম কেন গুরুত্বপূর্ণ
দাম্মাম সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলের প্রধান শহরগুলোর একটি। এই অঞ্চলকে দেশের তেলশিল্পের কেন্দ্র বলা হয়। কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দাম্মামসহ আশপাশের দাহরান ও আল-খোবার এলাকার যাত্রী ও কর্মীদের যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। আরামকোর সদর দপ্তর দাহরানে, যেখানে মাসের শুরুতে হামলার কথা আগেই এসেছে। ফলে একই অঞ্চলে বিমানবন্দর ও জ্বালানি স্থাপনা, দুই ধরনের লক্ষ্যই হুতিদের তালিকায় ঘুরেফিরে আসছে।
এই অঞ্চলে বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক ও পেশাজীবী কাজ করেন। তাই এখানকার যেকোনো হামলার প্রভাব শুধু সৌদি নাগরিকদের ওপর পড়ে না। এর ধাক্কা লাগে বহু দেশের মানুষের গায়ে।
হুতিদের দাবি: লক্ষ্য ছিল একাধিক স্থাপনা
ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী, যারা আনসারুল্লাহ নামেও পরিচিত, বৃহস্পতিবার দাবি করেছে যে গত ৪৮ ঘণ্টায় তারা সৌদি আরবের একাধিক অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে। তাদের দেওয়া তালিকায় রয়েছে দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, রিয়াদে সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং ইয়ানবুতে সৌদি আরামকোর কয়েকটি স্থাপনা।
এগুলো হুতিদের নিজস্ব দাবি। প্রতিটি দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই হয়েছে, এমন তথ্য আল জাজিরার প্রতিবেদনে নেই।
অন্যদিকে হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইরত সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, রিয়াদ ও মদিনা অঞ্চলে চারটি ড্রোন আটকে ধ্বংস করা হয়েছে। জোট হুতিদের ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী বলে বর্ণনা করে।
আরামকোর সদর দপ্তরে সরে যাওয়ার নির্দেশ, মার্কিন কূটনীতিকদেরও প্রস্থান
হামলার খবরের পাশাপাশি আরও দুটি উদ্বেগজনক তথ্য সামনে এসেছে। রয়টার্স ও এএফপি সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, সৌদি আরামকো দাহরানে অবস্থিত তাদের সদর দপ্তর থেকে কর্মীদের সরে যেতে বলেছে। মাসের শুরুর দিকে হুতি হামলায় এই সদর দপ্তরই লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল। তবে খবরটি সূত্রনির্ভর। আরামকোর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণের কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
এর একদিন আগে, বুধবার, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন কূটনৈতিক মিশনগুলো থেকে কূটনীতিক ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেয়। মার্কিন কর্মকর্তারা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, অঞ্চলের আরও কয়েকটি মার্কিন মিশন থেকেও পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বুধবারই রিয়াদের মার্কিন দূতাবাস একটি নিরাপত্তা সতর্কবার্তা জারি করে। তাতে সৌদি আরবে হুতিদের আরও হামলার আশঙ্কার কথা বলা হয়। কোনো দেশ যখন কূটনীতিকদের পরিবারসহ সরিয়ে নেয়, তখন সাধারণত বুঝতে হবে, সে দেশ ঝুঁকির মাত্রা অনেক বেশি বলে মনে করছে।
অক্টোবরজুড়ে হামলার ধারাবাহিকতা
দাম্মামের ঘটনাটি একক কোনো হামলা নয়। এএফপির হিসাবে, সরকারি তথ্যের ভিত্তিতে এ মাসে সৌদি বিমানবন্দরে হামলায় এ পর্যন্ত ২২ জন নিহত হয়েছেন। মাসের ঘটনাপ্রবাহ এক নজরে:
- মাসের শুরুর দিকে: দাহরানে আরামকোর সদর দপ্তরে হুতি হামলা। এরপর হুতিরা আরামকোর স্থাপনা ও বিমানবন্দরে আরও হামলার হুমকি দেয়।
- ১০ অক্টোবর: রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় ১২ জন নিহত এবং তিনশোর বেশি মানুষ আহত হন। এ মাসের সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা এটিই।
- ১১ অক্টোবর: একই বিমানবন্দরে প্রজেক্টাইল হামলায় একজন নিহত ও ১১ জন আহত হন বলে সৌদি আরব জানায়।
- ২১ অক্টোবর: যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরব থেকে কূটনীতিক ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়।
- ২২ অক্টোবর: দাম্মাম বিমানবন্দরে হামলায় দুজনের মৃত্যুর খবর প্রকাশ; আরামকো কর্মীদের সরানোর খবরও আসে।
এই তালিকা থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট। লক্ষ্যবস্তু এখন আর শুধু সীমান্তবর্তী এলাকায় সীমাবদ্ধ নেই। রাজধানী রিয়াদ, দক্ষিণ-পশ্চিমের আবহা, পশ্চিমের ইয়ানবু এবং পূর্বের দাম্মাম ও দাহরান, দেশের প্রায় সব অঞ্চলের নামই হুতিদের দাবির তালিকায় এসেছে।
সংঘাতের পটভূমি
হুতিরা ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চল থেকে উঠে আসা একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী। ২০১৪ সালে তারা রাজধানী সানা নিয়ন্ত্রণে নেয়। এরপর ২০১৫ সালের মার্চে সৌদি আরবের নেতৃত্বে একটি সামরিক জোট আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের সমর্থনে যুদ্ধে যুক্ত হয়। তারপর থেকে ইয়েমেনে যুদ্ধ, অবরোধ ও মানবিক সংকট দীর্ঘ সময় ধরে চলেছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে হুতিদের হামলা তীব্র হয়েছে এবং লক্ষ্যবস্তু সৌদি ভূখণ্ডের গভীরে পৌঁছেছে। হামলার পেছনের প্রেক্ষাপট নিয়ে আল জাজিরা আলাদা বিশ্লেষণও প্রকাশ করেছে। পাঠকেরা চাইলে সেটি পড়ে নিতে পারেন।
কেন বিমানবন্দর ও আরামকো?
আল জাজিরা এই প্রশ্ন নিয়ে আলাদা একটি বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছে। সেই বিশ্লেষণের বিস্তারিত এখানে তুলে ধরা হচ্ছে না। তবে সাধারণভাবে কয়েকটি বিষয় ভাবা যায়।
বিমানবন্দর একটি দেশের বাইরের জগতের সঙ্গে যোগাযোগের প্রধান দরজা। সেখানে হামলা হলে শুধু প্রাণহানি নয়, ভ্রমণ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ওপরও চাপ পড়ে। আরামকো সৌদি অর্থনীতির কেন্দ্রীয় স্তম্ভ। আর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দেশটির সামরিক কাঠামোর প্রতীক। হুতিদের বাছাই করা লক্ষ্যগুলো তাই সামরিক, অর্থনৈতিক ও প্রতীকী, তিন দিক থেকেই চাপ সৃষ্টির ইঙ্গিত দেয় বলে বিশ্লেষকেরা ভাবতে পারেন। তবে হুতিদের ঘোষিত উদ্দেশ্য এবং স্বাধীন বিশ্লেষকদের মূল্যায়ন আরও স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলা যায় না।
নিহত ভারতীয়: প্রবাসীদের উদ্বেগ
দাম্মামে নিহতদের একজন ভারতীয় নাগরিক। এটি আমাদের পাঠকদের কাছে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সৌদি আরবে ভারতীয় প্রবাসীর সংখ্যা বিপুল। তাঁদের অনেকেই পূর্বাঞ্চলের দাম্মাম, দাহরান ও আল-খোবার এলাকায় তেল, নির্মাণ, স্বাস্থ্য ও পরিষেবা খাতে কাজ করেন। পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের নানা রাজ্যের বহু পরিবারের আয় এই প্রবাসী শ্রমের ওপর নির্ভরশীল।
নিহত ভারতীয়ের পরিচয়, তাঁর রাজ্য বা পেশা সম্পর্কে আল জাজিরার প্রতিবেদনে কিছু বলা হয়নি। ভারতীয় দূতাবাস বা কনস্যুলেটের কোনো বিবৃতির কথাও সেখানে নেই। পরিচয় ও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি পরিষ্কার হলে এই প্রতিবেদন হালনাগাদ করা হবে।
অঞ্চলে থাকা প্রবাসী ও তাঁদের পরিবারের জন্য
সৌদি আরবে থাকা প্রবাসী পরিবারের স্বজনেরা স্বভাবতই উদ্বিগ্ন থাকবেন। এ ধরনের পরিস্থিতিতে সাধারণভাবে কয়েকটি বিষয় মনে রাখা ভালো। আতঙ্কজনক গুজবে কান না দিয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ এবং নিজ দেশের দূতাবাসের ঘোষণার ওপর নির্ভর করতে হবে। পাসপোর্ট, ইকামা ও জরুরি যোগাযোগের নম্বর হাতের কাছে রাখা দরকার। স্বজনদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা এবং কোনো নির্দেশনা এলে তা মেনে চলাও জরুরি।
ভারতীয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক পরামর্শ জারি হয়েছে কি না, আল জাজিরার প্রতিবেদনে তা বলা হয়নি। তাই এ বিষয়ে সরকারি ঘোষণার জন্য সংশ্লিষ্ট দূতাবাস ও কনস্যুলেটের মাধ্যম দেখা উচিত।
সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে সাধারণ মানুষ
এই সংঘাতের মূল্য সবচেয়ে বেশি দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। ১০ অক্টোবর রিয়াদে তিনশোর বেশি মানুষের আহত হওয়ার তথ্য দেখায়, বিমানবন্দরের মতো জনবহুল জায়গায় হামলার মানবিক ক্ষতি কত ব্যাপক হতে পারে। যাত্রী, বিমানবন্দরের কর্মী, নিরাপত্তাকর্মী ও আশপাশের মানুষ, সবাই এর ঝুঁকিতে থাকেন।
আন্তর্জাতিক মানবিক আইনে বেসামরিক মানুষ ও বেসামরিক স্থাপনাকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করা নিষিদ্ধ। বিমানবন্দর অনেক সময় মিশ্র ব্যবহারের স্থাপনা হলেও, বেসামরিক প্রাণহানি ঘটলে আইনি ও নৈতিক প্রশ্ন ওঠে। এই প্রাণহানি সম্পর্কে হুতিরা কী বলছে, সেটিও নজরে রাখা জরুরি।
আকাশ প্রতিরক্ষার চ্যালেঞ্জ
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের দাবি অনুযায়ী, রিয়াদ ও মদিনা অঞ্চলে চারটি ড্রোন ধ্বংস করা গেছে। এতে বোঝা যায়, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে। তবু দাম্মামের ঘটনা দেখিয়েছে, সব হামলা ঠেকানো সম্ভব হচ্ছে না।
বিশ্লেষকদের একটি সাধারণ মত হলো, তুলনামূলক কম খরচের ড্রোন বা প্রজেক্টাইল ঠেকাতে অনেক সময় ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করতে হয়। আর একটি হামলা সফল হলেই তার প্রভাব বড় হতে পারে। কিন্তু এই হামলাগুলোতে কোন অস্ত্র ব্যবহৃত হয়েছে এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেন ব্যর্থ হয়েছে, সে বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত কিছু জানায়নি। তাই এ নিয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়।
আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রভাব
বিমান চলাচল: দাম্মামে কার্যক্রম দ্রুত স্বাভাবিক হলেও একের পর এক হামলা হলে বিমান সংস্থাগুলো ঝুঁকি বিবেচনা করে রুট বদলাতে বা ফ্লাইট স্থগিত করতে পারে।
জ্বালানি খাত: আরামকো বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহে বড় ভূমিকা রাখে। এর স্থাপনায় হামলা বা কর্মী সরানোর খবর বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে। তবে বাস্তবে বাজারে কী প্রভাব পড়ছে, তা এই প্রতিবেদনের তথ্যে নেই।
সংঘাতের পরিধি: ইয়েমেনে হুতি গোষ্ঠী এবং সৌদি-সমর্থিত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের মধ্যে সংঘাত চলছে। এখন তা সৌদি ভূখণ্ডের গভীরে পৌঁছাচ্ছে, যা যুদ্ধ আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।
সামনে কী
পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে। এ মুহূর্তে কয়েকটি বিষয়ের দিকে নজর রাখা দরকার:
- সৌদি আরব ও তার জোট কী ধরনের জবাবি পদক্ষেপ নেয়।
- যুক্তরাষ্ট্র ও অন্য মিত্র দেশগুলো কূটনৈতিক বা সামরিক ক্ষেত্রে কী সিদ্ধান্ত নেয়।
- আরামকোর কার্যক্রমে বাস্তবে প্রভাব পড়ে কি না এবং কর্মী সরানোর খবরের আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ আসে কি না।
- আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলো সৌদি রুটের সূচি বদলায় কি না।
- উত্তেজনা কমানোর কোনো কূটনৈতিক উদ্যোগ শুরু হয় কি না।
শেষ কথা
দাম্মামের ঘটনায় দুজনের মৃত্যু এবং আটজনের আহত হওয়ার খবর একটি বড় সংকটের অংশ। এ মাসে সৌদি বিমানবন্দরে হামলায় ২২ জনের প্রাণ গেছে। আরামকোর কর্মী সরানো এবং মার্কিন কূটনীতিকদের প্রস্থানের খবর পরিস্থিতির গভীরতা বোঝায়।
এই ঘটনা মনে করিয়ে দেয়, যুদ্ধের চাপ এখন আর যুদ্ধক্ষেত্রের মধ্যে আটকে নেই। বিমানবন্দরের টার্মিনাল, জ্বালানি স্থাপনার প্রাঙ্গণ কিংবা কর্মস্থলে, যেখানেই সাধারণ মানুষ জীবিকার জন্য যান, সেখানেই এখন আশঙ্কা ছায়া ফেলছে। প্রতিটি সংখ্যার পেছনে একটি করে পরিবার আছে। নিহত ভারতীয় প্রবাসীর মতো লক্ষ লক্ষ মানুষ জীবিকার তাগিদে এই অঞ্চলে বাস করেন। সংযম, কূটনৈতিক আলোচনা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।